শিকড়ের টানে ব্রিটেনে আবারো বৃহত্তর খুলনা সমিতি গঠনের উদ্যোগ

Posted on by

লন্ডন থেকে এম রহমান : প্রবাসে প্রতিটি বাংলাদেশী অন্য একজন বাংলাদেশির সঙ্গ পেতে সাচ্ছন্দ অনুভব করে। এই একই মানুষ আরো উচ্ছাসিত হয় যখন সে খুঁজে পায় তার অঞ্চলের চেনা অচেনা প্রিয় মুখগুলোকে। এর পর তাদের মধ্যে কাজ করে প্রবাসে নিজেদের মধ্যে কল্যাণের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া। দেশের তথা অঞ্চলের মানুষের জন্য দায়বদ্ধতার আলোকে দেশের সাথে সম্পর্কের সেতুবন্ধন করা। অঞ্চলের মানুষের জন্য কিছু করা। বিপদে আপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো।ইত্যাদি।
মানুষের এই সহজাত উপলব্ধিকে পুঁজি করে দেশের বাইরে প্রবাসের প্রতিটি দেশে অসংখ্য আঞ্চলিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। ব্রিটেনও এই ধারাবাহিকতার বাইরে নয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে শুধু ব্রিটেনে নয় দুনিয়া জুড়ে বৃহত্তর খুলনার মানুষের সঙ্গবদ্ধ হবার ইতিহাস হতাশাজনক। ব্রিটেনে খুলনার একটি আঞ্চলিক সংগঠন গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যেই বহুবার উদ্যোগ নিতে দেখা গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ে না।
বিগত দিনে পিছনের সব অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে ব্রিটেনে বৃহত্তর খুলনার শক্তিশালী একটি সমিতি গড়ে তোলার ব্যাপারে আবারও উদ্যোগী হয়েছেন কিছু নিবেদিত প্রাণ । সেই লক্ষে তারা গত ৯ সেপ্টেম্বর সমবেত হয় ইস্ট লন্ডনের ব্রিকলেনের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয়।
ব্রিটেনে বসবাসরত দক্ষিণবাংলা প্রবাসীদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শেখ মহিতুর রহমান বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কানিজ ফাতেমা, এস এম সিপার , সুলতানা শেখ, শাহীন খুরশিদ, ফয়সাল জামিল, সৈয়দ ইমরুল হাসান, আমিনুর রহমান,শেখ মোহাম্মদ কামরুল হাসান তুষার, আজমীর, ইমাম হোসেন, তোবারক হোসেন, মোস্তাক মোহাম্মদ শাওন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই একটি টেকসই খুলনা সমিতি গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাগর পাড়ের লন্ডনে খুলনা সমিতি গড়ে তোলার মূল লক্ষ্য নিজ দেশের মানুষের সঙ্গে সদ্ভাব ও সম্প্রীতি বজায় রাখা বলেও মনে করেন বক্তারা ।
এবারের নতুন বৃহত্তর খুলনা সমিতির নামকরণের ব্যাপারে প্রস্তাব এসেছে কয়েকটি নাম। নামগুলো হলো Khulna Society UK, Khulna Development Association UK (KDA), Greater Khulna welfare UK, Khulna United Association UK.
অনুষ্ঠানে সর্বসম্মতিক্রমে তিন জনের একটি লিয়াজো কমিটি গঠন করা হয়েছে। লিয়াজো কমিটি লন্ডনে বসবাসরত সম্ভাব্য সকল খুলনাবাসীর সাথে যোগাযোগ করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করবে। ওই সভাতেই গঠন করা হবে আহ্বায়ক কমিটি , ঠিক করা হবে নতুন করে পথ চলা খুলনা সমিতির নাম। লিয়াজো কমিটির সদস্যরা হলেন এম এ সিপার, কানিজ ফাতেমা ও সৈয়দ ইমরুল হাসান।
মানুষ সংঘবদ্ধভাবে কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য যখন কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, সমাজ বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে সমিতি বলা হয়ে থাকে ।
প্রবাসে নানা ধরণের জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে সমিতির বীজ অংকুরিত হয়ে থাকে। এতে উপকৃত হয় কমিউনিটি, এলাকাবাসী, সর্বোপরি দেশ ও জাতি। প্রবাস জীবনের বিগত প্রায় ৩৫ বছর ধরে দেখছি বিভিন্ন প্রকার সমিতি সমাজ কল্যাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। কাজেই সমাজ কল্যাণের ক্ষেত্রে এবং সামাজিক যৌথ ক্রিয়াকলাপে সমিতির গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রবাসে আঞ্চলিক সমিতিগুলো স্বাভাবিকভাবেই সচেষ্ট হয় নিজস্ব বলয়ে নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে। তারা আয়োজন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের মধ্যে আন্তরিকতার ব্যাপ্তি বাড়ে। চর্চা হয় আপন সংস্কৃতির, আঞ্চলিক ভাষার । যৌথ ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে করতে চায় সমাজ কল্যাণ। চিনে নিতে চায় নিজেদেরকে, নিজেদের মতো করে। যেতে যায় শিঁকড় সন্ধানে। আর নিজেদের শিঁকড় চেনা সম্ভব হলে অপরকে চেনা যায় সহজেই। আর ঠিক তখনি প্রবাসে মাথা উঁচু করে বাঁচা সহজ সাধ্য হতে থাকে।
প্রবাসে সমিতির নামে বিভেদ ও সহিংসতার মতো নেতিবাচক বিষয়গুলো একেবারে কম নয়। ক্ষমতার লোভ ও সততার অভাব এ সব সহিংসতার জন্য দায়ী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।ভোগের নয়, ত্যাগের চেতনার বৃহত্তর খুলনা সমিতি গঠনের স্বপ্নদ্রষ্টারা আন্তরিক হলে, মুছে দিতে পারে নিজেদের সকল বিভক্তির রেখা। গড়ে তুলতে পারে সত্যি সত্যি একটি টেকসই জনকল্যাণমুখী বৃহত্তর খুলনা সমিতি। এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।প্রশ্ন উঠেছে আসলে কি তারা পারবেন এই কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিতে ?

More News from কমিউনিটি

More News

Developed by: TechLoge

x