ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশী ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় দিনেও ছিল উপচে পড়া ভিড়

Posted on by

ইতালির ভেনিস থেকে তাহমিনা ইয়াসমিন শশী : করোনার কারণে বিবেকের বারনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব জেনেই বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সভ্যতা এবং সংস্কৃতি জানার মানসে,কানায় কানায় পূর্ণ হল রুমে তিল ঠাই যায়গা নেই,এ যেন জলকন্যা খ্যাত ভেনিসে এক টুকরো বাংলাদেশ। আকাশে বাতাসে হুটোপুটি খাচ্ছে বাংলা শব্দমালা,গুঞ্জরিত গুঞ্জন কলকাকলিতে মুখর এক ঝাক তারুণ্য। ঈদ উত্তর এমন প্রানের আবীর মাখা ভালবাসার অটুট অঝোর অক্ষয় মেইল বন্ধনের সাক্ষী আমি নিজেও। সিলভিয়ার প্রাণান্তকর সঞ্চালনায় প্রাণ পায় পুরু অনুষ্ঠান। চমৎকার বাচনভঙ্গি আর সাবলীল উচ্চারণের ঝংকারে মাতিয়ে তোলেন পুরোটা অনুষ্ঠান।
প্রথমে তিনি আজকের প্রদর্শিত বাংলা ছায়াছবি জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত খ্যাতিমান পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আল সেলিমের “স্বপ্নজাল” ছায়াছবির বিষয়ে বিস্তারিত বলেন।যেখানে প্রণয়ী অবিচার আর সামসময়িক তার পাশাপাশি বাংলাদেশের নদীবিধৌত রুপোলী বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে।

অতঃপর সিলভিয়ার উপস্থাপনায় প্রথমেই মঞ্চে আসেন লুকা,তিনি উপস্থিত সবাইকে সাধুতা ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

এরপর মঞ্চে আসেন ভেনিস বাংলা স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের বিনয়ী প্রাজ্ঞজন জনাব সৈয়দ কামরুল, তিনি এই অতিমারী কালীন সময়ে উপস্থিতি সমাগম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন, সকলের উচ্ছ্বাস দেখে মোহিত হন,তাই জন্য সবাইকে তিনি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বলোনিয়া ডান্সট ইউনিভার্সিটিতে ফ্লিম এন্ড মিডিয়া বিষয়ে পড়াশোনা করা খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক
কাজী টিপুর অনুপুস্থির কারনে এরপর মঞ্চে আসেন, জলকন্যা ভেনিসের সূর্যকন্যা বিদেশে বিভুইয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা একাধিক বার সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত লেখিকা তাহমিনা ইয়াসমিন শশী।
তিনি ইতালির ভেনিসে স্বমহিমায় উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন।
তিনি প্রথমে সবাইকে মহামারী কালীন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দমুখর পরিবেশ আনন্দ উৎজ্জাপন বিনয়ী অনুরোধ জ্ঞাপন পূর্বক বাংলা চলচ্চিত্রের সাদাকালো যুগের নির্বাক-ধূসর সীমানা পেরিয়ে আধুনিক ডিজিটাল যুগের বাংলা ছায়াছবির উজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরেন তার আপন শব্দ বুনন বাক্য চয়নে। তার সাবলীল কাব্যিক উচ্চারণে অনুষ্ঠানে আগত সকল বিদেশি স্বদেশী দর্শক মুখরিত হয় মুহুর্মুহু করতালি এ যেন বাঁধ ভাঙার আওয়াজ।

বিদেশি স্বদেশী দর্শকে পরিপূর্ণ হল রুম জুড়ে এ যেন এক বিভেদ ভুলে বন্ধুতার মিলনমেলা।যেখানে ভৌগোলিক ব্যাপ্তি মিলেমিশে একাকার ভালবাসার অটুট বন্ধনে।তৈরী করেছে এক চলচ্চিত্র প্রেমীদের চিরচেনা অপার সৌন্দর্যের সেতু বন্ধন। দৃষ্টি জুড়ে মুগ্ধতা আর মুহুর্মুহু করতালি দৃশ্যের পরতে পরতে উচ্ছাস ছিল বাধ ভাঙা জোয়ারের মত।করোনা কালিন অতিমারির সংকট ছাপিয়ে প্রাণের খোরাক উজ্জীবিত হতে মরিয়া এক ঝাক তারুণ্য। স্মৃতি রোমন্থন যেন ইউনিভার্সিটি কালিক বন্ধু স্বজন পরিবেষ্টিত ঢাকার কোন সিনেমা হলে বসে আছি। এমনতরো।সিনেমা প্রেমিদের এমন সুযোগ যারা করে দিলেন তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই হৃদয়ের আবিরমাখা।পরিশেষে বলে যেতে চাই, বেলা শেষে ক্লান্ত–তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম, দেখলাম অভিভুত হলাম বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবে,রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় স্মৃতির পাতা। পারি না আর পারি না,চেষ্টার ত্রুটি রাখবো না আপনাদের বিনোদনের পরিবেশে সৃষ্টিতে এই ওয়াদা রাখছি এ যেন এক তারার টুংটাং সুরে বলছে আয়োজক একতারা ইন্টারন্যাশনাল ।
ছবি : tv19online.com

More News from ইউরোপ

More News

Developed by: TechLoge

x