হুমায়ূন আহমেদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী ও কিছু কথা

Posted on by

নিউজ লাইফ লন্ডন ডেস্ক : গত ১৯ জুলাই ছিল কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী।২০১২ সালের এই দিনে ভুল ক্যান্সার চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।হিমু-রূপা-মিসির আলির মতো অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্র তৈরির কারিগর হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক।তার মৃত্যুতে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি।কিন্তু মাত্র নয় বছরের ব্যাবধানে কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৯ জুলাই সোমবার শুধুমাত্র সীমিত পরিসরে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে কিছু আয়োজন ছিল। ছিলোনা সরকারি উদ্যোগে কোনো আয়োজন। বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমেরও ছিলোনা দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা ।তাহলে কি হুমায়ূনকে ধারণ করার মতো আত্মার ব্যাপ্তি আমাদের নেই? এমন ট্রাজেডি বোধ হয় বিশ্বের কোথাও দেখা যাবে না ।
সত্য যে পুঁজিবাদী বিশ্বে সবকিছুই নির্ধারণ হয় ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ এর ভিত্তিতে।কোটি কোটি টাকা খরচ করে যারা মিডিয়া হাউস গড়ে তুলেছেন তারাও এ বাস্তবতার বাইরে নয়।সুতরাং বলাই বাহুল্য যে আমাদের গণমাধ্যম হুমায়ূন কে ব্যবসার সওদা হিসেবে নিয়েছে , ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নিতে পারেন নি।এটা দুঃখজনক।

শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে উপমহাদেশের চূড়া বিহীন সফলতার অধিকারী হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র,নাটক ,সাংবাদিকতা,সাহিত্য,কবিতা,গান ও তাঁর জীবন দর্শন নিয়ে বড় ধরণের গবেষণামূলক কাজ শুরু করা এখন সময়ের দাবি ? দেশ ও জাতির জন্য তাঁর মর্মমূলে যে ভাবনা ক্রিয়াশীল ছিল, তারই আলোকে আলোকিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে হুমায়ূন আহমেদের বর্ণাঢ্য জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা ।পূর্ণাঙ্গ হুমায়ূনকে পেতে হলে তার অন্তঃস্থিত গূঢ় সত্তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে নুহাশ পল্লীতে শান্তিনিকেতনের আদলে আন্তর্জাতিক মানের হুমায়ুন গবেষণাগার ও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির উদ্যোগ সরকারিভাবে নেয়ার কোনো বিকল্প নেই ।বাংলাদেশের রাস্তাঘাট,বিমানবন্দর,সেতু ইত্যাদি হুমায়ূন আহমেদের নামকরণে হওয়া ভীষণ জরুরী । জাতীয় কবি নজরুলের মতো হুমায়ূন আহমেদ অবহেলিত হলে নিকট ভবিষ্যতে দেশ বরেণ্য এই গুণী মানুষটি হারিয়ে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।একজন গর্বিত প্রবাসী বাংলাদেশী হিসাবে এটা কোনো ভাবেই আমার কাম্য নয়।
আমাদের সমাজে মতের মিল না হলে তার শত গুণকেও আমরা সমাদর করতে নারাজ ।আমরা শুধু প্রসংসার কাঙাল। এভাবে গুণীজনকে দমিয়ে রাখতে চাইলে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব। মনে রাখা দরকার গুণের স্বীকৃতিই গুণী তৈরি করে।কথায় আছে, যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণীর জন্ম হয় না।
শেখ মহিতুর রহমান বাবলু’র ফেসবুক থেকে সংগৃহিত
লন্ডন ২০.০৭.২০২১

More News from এক্সক্লুসিভ

More News

Developed by: TechLoge

x