যুক্তরাজ্যে ভ্যাকসিনের সুফল মিললেও বাড়ছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

Posted on by

শেখ মহিতুর রহমান বাবলু : চলছে বিশ্ব জীবাণু যুদ্ধ।থমকে গেছে গোটা পৃথিবী।বিশ্বের অর্থনীতির চাকা নিয়ন্ত্রণহীন। অদৃশ্য জীবাণুর প্রাদুর্ভাবে পাল্টে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনের গতিপথ। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় বা সরকারি বিধি নিষেধের কারণে থাকতে হচ্ছে বন্দি কারাগারে অর্থাৎ কোয়ারেন্টিনে ।

করোনা মহামারীর সময় আমরা “কোয়ারেন্টিন” শব্দের সাথে পরিচিত হয়ে উঠেছি। এই শব্দটি আসে ইতালিয়ান ভাষা থেকে।চল্লিশ কে ইতালিয়ান ভাষায় বলা হয় (Quaranta) কুয়ারান্টা। মূলত কুয়ারান্টা থেকে “কোয়ারেন্টিন” ।

ঐতিহাসিকদের মতে ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁকে মানবজাতিকে প্রাণঘাতী নানা ধরনের ভাইরাসের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ভয়াবহ ঐসব মহামারিতে মারা যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ।প্রায় ৬০০ বছর আগে ভয়াবহ এক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশ।সেই সময় মারণ রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে ইতালির ভেনিসের বন্দরে আসার আগে প্রতিটি জাহাজ ৪০ দিন দূর সমুদ্রে নোঙর করে আটকে রাখা হতো । এর থেকেই “কোয়ারেন্টিন” শব্দটির উৎপত্তি।

কার্যত এই অদৃশ্য করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির সুনির্দিষ্ট ওষুধ এখনো নেই।কবে আসবে কেউ জানে না। সুতরাং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোয়ারেন্টিন করে রাখাটাই ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি।

বিগত এক বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ তাই গৃহবন্দী।নিয়তির নির্মম পরিহাস, যুক্তরাজ্যও এই দুর্যোগের বাইরে নয়।লাগামহীন ছুটিতে ,ছুটির আনন্দ ম্লান হয়ে অবসাদের বিরান ভূমিতে রূপ নিয়েছে।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বায়োনটেক-ফাইজার ভ্যাকসিন দিয়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করে যুক্তরাজ্য ৷ ইতিমধ্যে দেশটির ২৮.৪ ভাগ মানুষ ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

যুক্তরাজ্যে লকডাউন শিথিলের ক্ষেত্রে একটি ‘ধীর ও সতর্ক’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে দেশটির সরকার । বরিস জনসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট চার ধাপে এবারের লকডাউন শিথিল করা শুরু হয়েছে । দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ খুচরা বিক্রির দোকান, ব্যায়ামাগার, সেলুন,আউটডোর পরিষেবা ইত্যাদি চালু করা হয়েছে।

আগামী ১৭ মে থেকে তৃতীয় ধাপের নির্দেশনা অনুসারে হসপিটালিটি বা রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া-দাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে , যাওয়া যাবে পানশালায়।মেলামেশা করা যাবে ঘরে বাইরে।ঐ দিন থেকে প্রিয়জনকে আলিঙ্গন করা যাবে এমনকি আত্মীয়দের বাসায় বেড়ানো এবং থাকাও যাবে।

১২ এপ্রিল থেকে খোলা প্রতিষ্ঠানে আগতদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরিধান করানো হচ্ছে ফেস মাস্ক।

গৃহবন্দি মানুষ কাজে যোগ দিতে শুরু করেছে ।সতর্কতার অংশ হিসেবে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হতেই সবার তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে । কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর করানো হচ্ছে নির্ধারিত ফর্মে । সেখানে লেখা থাকে:

১)কাজে ফেরার জন্য আমি শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত।
২) জানামতে আমি ও আমার পরিবারের কেউ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত নই।
৩)আমি বিগত ১০ দিনে ঐ সব দেশে যায়নি যে দেশগুলো কোভিড এর কারণে সরকারের কালো তালিকা ভুক্ত।
৪)বিগত তিন সপ্তাহের মধ্যে কোভিড আক্রান্ত কোনো রোগীর সাথে আমি বা আমার পরিবারের কেউ সাক্ষাৎ করিনি।
৫) সরকারি নিয়ম অনুসারে আমি “কোয়ারেন্টিন” করতে বাধ্য নই। ইত্যাদি। এর পর কর্মস্থলের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরিয়ে দেয়া হয় ফেস মাস্ক , ফেস শিল্ড ও হাতমোজা।
যুক্তরাজ্যে লকডাউন শিথিল করলেও বাড়ছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।ইতিমধ্যে প্রায় ১৪০০ রোগীর শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সনাক্ত হয়েছে।
তাই করোনার নতুন ঢেউ ঠেকাতে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ ।পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ,ট্রেন ও বাস স্টপে সোশ্যাল ডিসটেন্স রক্ষার জন্য মাইকিং ও পোস্টারিং জোরালো করা হয়েছে। বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য সর্বত্র রাখা হয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার।করোনার বিপর্যয় এড়াতে শুধু ভ্যাকসিন নয় সামাজিক দূরত্ব , পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ,সতর্কতা, প্রয়জনে “কোয়ারেন্টিন” এর বিকল্প নেই বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যম গুলোতে।
লন্ডন : ১৫.০৫.২০২১

More News from এক্সক্লুসিভ

More News

Developed by: TechLoge

x