সুন্দরবনে আগুন

Posted on by

মোঃ অহিদুজ্জামান : আবারো আগুনে জ্বলছে সুন্দরবন। ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টা পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বন বিভাগ এবং শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ও সুন্দরবন সুরক্ষায় ভিটিআরসি টিমের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের আর একটি টিম ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানাতে পারেনি বন বিভাগ। খবর শুনে খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক ( সিএফ) মইনউদ্দীন খান, বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এ নিয়ে গত ২০ বছরে সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগে ২৫ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে গতকাল বেলা ১১টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানি এলাকায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সিপিজির টিম লিডার লুৎফর রহমান বলেন, সুন্দরবনে আগুন লাগলে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আমরা আগুন নেভানোর কাজে অংশগ্রহণ করি। এর আগেও আমরা ১৫-২০ জন সিপিজি সদস্য সুন্দরবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছি। আশা করি খুব দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, এলাকাবাসী বনের মধ্যে ধোঁয়া দেখে আমাদের খবর দেন। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। সিপিজি সদস্য, গ্রামবাসী, বন বিভাগের ভোলা ও ধান সাগর ক্যাম্পের সদস্যদের নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। আনুমানিক দেড় থেকে দুই একর বন জুড়ে আগুন জ্বলছে। আগুনের চতুর্দিকে বেজ (ক্যানেল) কাটার কাজ চলছে। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স শরণখোলা স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আ: সত্তার জানান, দুপুরে সুন্দরবনে আগুন লাগার খবর আসে তাদের কাছে। খবর পেয়ে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক তেমন ভালো না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পারস্পারিক যোগাযোগ করতে পারছে না। বাগেরহাট থেকে আর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে। তারা এলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়রা বলেন, সুন্দরবনে বার বার আগুন লাগার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। কখনও আগুন লাগার কারণ আমরা জানতে পারি না। আগুন লাগলেই শুনি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। পরে আর কিছু শুনি না। সুন্দরবন আমাদের মায়ের মত রক্ষা করে। সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ আমাদের জানানো উচিত। আমাদের ধারণা বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে আগুন লাগানো হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনের দাসের ভারানি এলাকায় অল্প কিছু জায়গায় আগুন ধরেছে। যে এলাকায় আগুন ধরেছে ওই এলাকায় সুন্দরী গাছের পরিমাণ কম। ফায়ার সার্ভিস ও বন কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে। আগুন যাতে বনে ছড়িয়ে পড়তে না পাবে সেজন্য ফায়ার লাইন কেটে তাতে পানি ভরে দেয়া হচ্ছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের তথ্য মতে, গত ২০ বছরে সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগে ২৫ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব অগ্নিকান্ডে সুন্দরবনের প্রায় ৭৫ একর শতাংশ বনভ‚মির গাছ, বিভিন্ন ধরনের ঘাস, লতাপাতা পুড়ে যায়। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা।
সুন্দরবনে ২০০২ সালে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায়, ২০০৪ সালে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী ক্যাম্প এলাকায় ও আড়ুয়াবের খালে এবং ২০০৫ সালে চাঁদপাই রেঞ্জের আড়ুয়াবের খালের পশ্চিমে তুলাতলা ও খুটাবাড়ি এলাকায় আগুন লাগে। এরপরের বছর ২০০৬ সালে তেরাবেকা খালের পাড়ে, আমুরবুনিয়া, কলমতেজিয়া, পচাকুড়ালিয়া বিল ও ধানসাগর স্টেশন এলাকায় মোট পাঁচটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
২০০৭ সালে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী নলবন, পচাকুড়ালিয়া বিলে অগ্নিকান্ডের ঘটে। ২০১০ সালে ধানসাগর স্টেশনের গুলিশাখালী, ২০১১ সালে ধানসাগর স্টেশনের নাংলী, ২০১৪ সালে আবারও ধানসাগর স্টেশন সংলগ্ন বনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালেও ধানসাগর স্টেশনের নাংলী, পচাকুড়ালিয়া, তুলাতলী এবং ২০১৭ সালে একই স্টেশনের মাদরাসার ছিলা নামক স্থানে আগুন লাগে।
সর্বশেষ ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধানসাগার স্টেশন এলাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ হিসেবে ২০০২ সালের ২২ মার্চ থেকে থেকে ২০২১ সালের ৩ মে পর্যন্ত ২০ বছরে ২৫ বার সুন্দরবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

Developed by: TechLoge

x