খালেদা জিয়া করোনা পজিটিভ তবে উপসর্গহীন 

Posted on by

মোঃ অহিদুজ্জামান : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। এ ছাড়া তার বাসার আরও ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত কিনা- নিশ্চিত হতে শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে আইসিডিডিআর,বিতে ওই নমুনা পরীক্ষা হয়। সেখানকার পরীক্ষায় সেদিনই তার করোনা সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে তার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ল।

গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করা হয়। তবে গতকাল বিকেলে দলটির পক্ষ থেকে তার করোনা সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

এর আগে গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান বলেন, খালেদা জিয়ার করোনার নমুনা পরীক্ষা হয় আইসিডিডিআর,বিতে। সেখানে তার রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। কারও করোনা হলে তা নিয়ে লুকোচুরির কিছু নেই।

এর পর গতকাল বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিশ্চিত করেন- খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত। তার অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি ভালো আছেন। তার রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব জানান, শনিবার খালেদা জিয়ার নমুনা আইসিডিডিআর,বিতে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গেছে। অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়ার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে। এখন পর্যন্ত অন্য কোনো উপসর্গ নেই বলে জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থানীয় মসজিদে দোয়া করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

ফিরোজায় আরও ৮ জন আক্রান্ত :দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া ছাড়াও তার গৃহপরিচারিকা ফাতেমা, গাড়িচালক জালালসহ বাসভবনের আরও ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমে খালেদা জিয়ার বাসভবনের কেয়ারটেকারদের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এর পর গৃহকর্মী ফাতেমার নমুনা পরীক্ষা করা হলে তারও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তারপরই মূলত খালেদা জিয়ার করোনার নমুনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার তার অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সঙ্গে করোনার নমুনাও পরীক্ষা করা হয়। এতে তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। গতকাল বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে আসার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. আল মামুন। তিনি বলেন, ‘ম্যাডামসহ মোট নয়জন আক্রান্ত।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিয়ে মামুন বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে ম্যাডামের ফিজিক্যাল কন্ডিশন ভালো। কোনো উপসর্গ তার নেই। জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট- কোনোকিছুই নাই।’

তাহলে কেন নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ল? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাসার একজন স্টাফের আরও ৫-৬ দিন আগে জ্বর-জ্বর ভাব ছিল। তখন তার টেস্ট করানো হয়। এতে রেজাল্ট পজিটিভ আসে। এর পর ওই স্টাফ যে রুমে থাকত, ওই রুমের বাকিদেরও আমরা চেক করাই। তখন তাদেরও পজিটিভ আসে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই ম্যাডামের টেস্ট শনিবার করানো হয়।’

ডা. মামুন বলেন, গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবনের যত বাসিন্দা আছেন, তারা সবাই করোনায় আক্রান্ত। পুরো বাসভবনকে হাসপাতালের মতো করে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই-একজনের করোনার উপসর্গ থাকলেও ম্যাডামের কোনো উপসর্গ নেই। তিনি সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। এখন পর্যন্ত তার শারীরিক কোনো জটিলতা দেখা যায়নি। তাই বাসায় রেখে তাকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। তবে রাজধানীর একটি হাসপাতাল আমরা ঠিক করে রেখেছি। যদি কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর চিন্তা করব।

সূত্র জানায়, ‘ফিরোজা’র যেসব বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খালেদা জিয়ার করোনা টেস্টের রিপোর্টের একটি কপি ভাইরাল হয়েছে। সেটির কিউআর কোড স্ক্যান করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে ওয়েবসাইট থেকে পরীক্ষার ফল জানা যায়, সেখানে চলে যায়। সেখানেও এই কপিটি দেখা যায়। রিপোর্টে যে ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটি টেকনোলজিস্ট মো. সবুজের।

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, তাদের হাসপাতালে একজন ভিআইপি রোগীর করোনার চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে করোনা ইউনিটে একটি কেবিন রাখতে বলা হয়েছে।

খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে জামিনে রয়েছেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হয়। দুই বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর গত বছর করোনা মহামারির কারণে পরিবারের আবেদনে তাকে ছয় মাসের জামিনে মুক্তি দেয় সরকার, যা তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক বাদে অন্য কেউ দেখা করতে পারেন না।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x