চিকিৎসায় অনাচার বিরোধী দিবস পালন করল পিআইডি সাহস, অন্তর্লীনা চাইল্ড কেয়ার ও জনস্বাস্থ্য স্বাধিকার মঞ্চ

Posted on by

নিজস্ব প্রতিনিধি : ২০ আগস্ট পিআইডি সাহস, অন্তর্লীনা চাইল্ড কেয়ার ও জনস্বাস্থ্য স্বাধিকার মঞ্চের উদ্যোগে পালিত হল চিকিৎসায় অনাচার বিরোধী দিবস। ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর মাত্র সাত বছর বয়সে অন্তর্লীনা মল্লিককে চিকিৎসায় অনাচার ও চিকিৎসা ব্যবস্থা বাণিজ্যিকীকরণের শিকার হয়ে অকালে চলে যেতে হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন উত্তাল হয়েছিল মহানগরী কলকাতা সহ গোটা রাজ্য। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেদিন সল্টলেকে সুরক্ষা র সেই হাসপাতালটি। বহু বছর পর মালিকানা বদল হয়ে অন্য নামে সেটি চলছে। গুগুল মিটের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ৫টা ৪০ মিনিট থেকে টানা প্রায় তিন ঘন্টা সভাটিতে সভাপতিত্ব করেন ডাঃ দেবপ্রিয় মল্লিক।

tv19online.com


সোসাইটি ফর সোস্যাল ফার্মাকোলজি, পশ্চিমবঙ্গের কর্ণধার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ স্বপন জানা অন্তর্লীনার অকালে চলে যাওয়ার ঘটনাটি চিকিৎসার ব্যবস্থার মধ্যে যে অব্যবস্থা লুকিয়ে রয়েছে তা সাবলীলভাবে তুলে ধরেন। সেই সুর ধরেই বর্ষীযান বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ তাপস ভট্টাচার্য বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা অনাচারের মূল রয়েছি চিকিৎসা শিক্ষাক ব্যবস্থার মধ্যে। যেখানে অর্থের জোরেই চিকিৎসক হওয়া যায় বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায়। সেখানে প্রচুর অর্থ ব্যয় বা বিনিয়োগ পরিবারের পক্ষ‌ থেকে করা হয়ে থাকে একজন চিকিৎসক তৈরির জন্য সেখানে চিকিৎসায় অনাচার চলছে শুধু না আগামীদিনে যদি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা না হয় তাহলে তা আরও বাড়বে। ডাঃ ভট্টাচার্য বেসরকারি হাসপাতালের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে একটি বেসরকারি অডিট ব্যবস্থা প্রণয়নের উপর জোর দেন। চিকিৎসকদের অসহায়তার কথা তুলে ধরে অনাচারের জন্য সমাজব্যবস্থার দিকে তির নিক্ষে প করে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও চিকিৎসক আন্দোলনের অন্যতম নেতা ডাঃ হীরালাল কোনার। তবে তিনি রোগির পরিবারের মানসিকতার বিষয়টির চেয়ে চিকিৎসকের স্বার্থের দিক তুলে ধরেন। বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার পিছনে যে রাজনৈতিক মদত থাকে সেখানে বাণিজ্যকীকরণ আরও তীব্র হবে এই ইংগিত দেওয়ার চেষ্টা করেন ডাঃ নিতাই দত্ত। চিকিৎসকরা মানবিকভাবে পরিষেবা দিলেও অনেক ক্ষেেত্রে পরিচালক গোষ্ঠীর নীতির ফলে ভুল বার্তা পৌঁছায়। চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ক তখন তিক্ত হয়ে ওঠে। ‘এই অনাচার’ বন্ধের আশু প্রয়োজন। এই অভিমত ব্যক্ত করেন ডাঃ মালতী টুডু। তার জন্য জনমত তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি করেন। ড. অনাদি কুণ্ডু তাঁর বক্তব্যে বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের মালিকপক্ষ‌ টার্গেট বেঁধে দিয়ে থাকেন। আর সেই টার্গেট-এর লক্ষ্যৎ নিয়ে চলে চিকিৎসা তার ফলে লক্ষ‌ লক্ষ‌ টাকার বিল বেসরকারি হাসপাতালে তৈরি হয়। মৃতদেহ আটকে বিল আদায় করা হয়। এছাড়া পিআইডি সাহস, অন্তর্লীনা চাইল্ড কেয়ারের পক্ষ‌ থেকে স্বপন মণ্ডল গোটা বিশ্বে টেলিমেডিসিন পরিষেবা কিভাবে মানুষকে চিকিৎসা পৌঁছে দিচ্ছে তার পরিসংখ্যান তুলে বলেন, আমরা আমাদের স্বল্প সামর্থ্য নিয়ে সেই পরিষেবা পৌঁছে দেবার জন্য ২২ জন চিকিৎসকের সহায়তা নিয়ে টেলিমেডিসিন ব্যবস্থা চালু করেছি। এর প্রসার ঘটাতে পারলে বহু সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারেন। লন্ডন থেকে সাংবাদিক ও মনোবিদ নাজমূল হোসেন নাজমূল আবেগমথিত কণ্ঠে চিকিৎসার অনাচারের এক করুণ চিত্র তুলে ধরেন। করোনা আবহে তথাকথিত উন্নত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উলংগ চিত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন খোদ লন্ডন শহরে অ্যাম্বুলেন্স ফোন করলে আসতে সময় লাগে ৩-৪ ঘন্টা। চিকিৎসা ব্যবস্থা বলতে যা রয়েছে তা একটি কংকালসার চেহারা এমনটাই তুলে ধরেন সাংবাদিক ও মনোবিদ নাজমূল হোসেন নাজমূল। বনগাঁ থেকে বিশিষ্ট সমাজকর্মী পঙ্কজ রায় বাইপাসের ধারে রুবি হাসপাতাল ৪ লক্ষ‌ টাকার প্যাকেজ বলে প্রায় ১১ লক্ষ‌ টাকা আদায় করে ভুল চিকিৎসায় তাঁর বোনের মৃত্যুর করুণ কাহিনী তথ্যসমৃদ্ধ ভাষায় ব্যক্ত করেন। তিনি ১৩ জন চিকিৎসক ও ৭ জন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেষর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেও কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন। এছাড়া চিকিৎসায় অনাচার বন্ধে আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে বক্তব্য রাখেন স্বরূপ চক্রবর্তী, অনিন্দ্য বিশ্বাস, অচিন্ত্য ঘোষ, শেলি বাগ, প্রিয়াঙ্কা গোস্বামী, বির্বতন ভট্টাচার্য, তহমীনা খাতুনরা।
সভার শেষলগ্নে পিআইডি সাহস ও জনস্বাস্থ্য স্বাধিকার মঞ্চের পক্ষে্ সভাপতি ডাঃ দেবপ্রিয় মল্লিক বলেন, চিকিৎসক হল রোগির জন্য। বেসরকারি হাসপাতালের তাবেদার চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বলেন জনস্বাস্থ্য আন্দোলনকে প্রসারিত করতে না পারলে রোগীর স্বার্থ রক্ষাহ হবে না। তিনি স্পষ্টভাষায় বলেন, আমরা রোগির পক্ষেে, চিকিৎসক শপথ নিয়ে থাকেন রোগির স্বার্থ দেখার জন্য। রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে চিকিৎসার অধিকার দেওয়ার জন্য। সংবিধানে স্বাস্থ্যের অধিকারকে মৌলিক অধিকার দেওয়ার জন্য দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।.সঞ্চালক সাংবাদিক সুকুমার মিত্র বলেন, সমাজ ব্যবস্থা পাল্টানোর আগে দেশটাকে কু-সংস্কারের দিকে মোড় ঘোরানোর জন্য যে চেষ্টা চলেছে তার বিরুদ্ধে আশু আন্দোলন প্রয়োজন। কুসংস্কারমুক্ত সমাজই পারে মানুষের অধিকার আন্দোলনকে জোরদার করতে। আগামী দিনে পিআইডি সাহস ও জনস্বাস্থ্য স্বাধিকার মঞ্চের কর্মসূচিতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x