ফ্রান্সের যুদ্ধবিমান রাফয়ল এখন  ভারতের বিমান ঘাঁটিতে 

Posted on by

ফ্রান্সের কাছ থেকে ভারত যে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান রাফয়ল কিনছে, তার প্রথম ব্যাচের পাঁচটি ফাইটার জেট বুধবার বিকেলে উত্তর ভারতের আম্বালা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।
এক একটি রাফাল কিনতে ভারতের খরচ পড়েছে প্রায় দশ কোটি ডলার – এবং এই প্রতিরক্ষা ক্রয়ে কথিত দুর্নীতি নিয়ে একটা সময় সে দেশের রাজনীতিও ছিল সরগরম।
ভারত দাবি করছে, এই যুদ্ধবিমান বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তের আকাশযুদ্ধে একটা ‘গেমচেঞ্জারে’র কাজ করবে।
যদিও সামরিক পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, রাফালকে বিমানবাহিনীতে সক্রিয় করতে এখনও বেশ সময় লাগবে এবং এই যুদ্ধবিমান পাকিস্তান বা চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে ঠিক কতটা সুবিধা দিতে পারবে সেটাও স্পষ্ট নয়।


বস্তুত চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে গত মাসেই যে দেশ তার কুড়িজন সেনাকে হারিয়েছে, সেখানে এই আধুনিক জঙ্গী বিমান কেনাকে একটা বিরাট সঙ্কটের সমাধান হিসেবে ভারতে তুলে ধরা হচ্ছে।
ফ্রান্স থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্টপওভার নিয়ে আসার সময় মাঝ-আকাশে ৩০ হাজার ফিট উচ্চতায় বিমানগুলোকে কীভাবে ট্যাঙ্কার থেকে রিফিউয়েল করা হয়েছে বা জ্বালানি ভরা হয়েছে সে ছবিও ভারতীয়রা এরই মধ্যে দেখে ফেলেছেন।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান, এয়ার চিফ মার্শাল বি এস ধানোয়ার-এর কথায়, “রাফাল আসলে ভারতের প্রতিরক্ষা সামর্থ্যে একটা বিরাট লাফ।”
“আমাদের দুই প্রতিপক্ষ দেশের ইনভেন্টরিতে এখন যে ধরনের যুদ্ধবিমান আছে তার চেয়ে এটা অনেক ভাল, অনেক দক্ষ,” এয়ার চিফ মার্শাল ধানোয়ার বলেন।
“এয়ার ডিফেন্সের ক্ষেত্রে যেটাকে আমরা ‘ডেটারেন্স’ বলি, অর্থাৎ শত্রু দেশ যেটাকে সমীহ করে চলে, সেটাও অনেকগুণ বাড়িয়ে দেবে এই রাফায়ল।”
“রাফায়ল আসার পর কেউই কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় বা সীমান্তে চট করে ঘেঁষতে সাহস পাবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস,” তিনি বলেন।

tv19online.com coming soon


রাফাল নতুন গাড়ি নয়’
তবে এই কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট আসা মানেই যে ভারতের বাজিমাত করে ফেলা নয় – সে কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও ভারতীয় বাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি।
তিনি বলছিলেন, “এটাতে নিশ্চয় আমাদের এয়ার সুপিরিওরিটি বা এয়ার পোজিশনে অনেকটাই উন্নতি হবে। তবে তার পরেও কয়েকটা জিনিস মনে রাখার আছে।”
“প্রথম কথা, রাফাল আসছে বেশ কম সংখ্যায়। তারপর পাইলটদের ট্রেনিং করাতে হবে, বিমানে ভারতের জন্য কিছু রদবদল করতে হবে, ওয়েপেনাইজেশন বা অস্ত্রসম্ভার যোগ করতে হবে – এবং তাতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে,” তিনি বলেন।
“এটা গাড়ি কেনা নয় যে শোরুম থেকে বের করেই চালাতে শুরু করে দিলাম।”
“তা ছাড়া রাফালকে মূলত যেখানে উড়তে হবে, হিমালয়ের সেই হাই-অল্টিচিউড টেরেইনটাও কিন্তু দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন ও দুরূহ ফ্লাইং এলাকা,” মেজর জেনারেল ব্যানার্জি বলেন।
বছরচারেক আগে প্রায় ৬০ হাজার কোটি রুপি খরচ করে ভারত ফ্রান্স থেকে মোট ৩৬টি রাফায়ল কেনার চুক্তি করেছিল, সেই বিপুল দাম আর কেনার পদ্ধতি নিয়েও ভারতে বিতর্ক ও রাজনীতি কম হননি।
দীপঙ্কর ব্যানার্জি বিবিসিকে বলছিলেন, রাফাল এত দামী বলেই এগুলোর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভারতকে বেশ সতর্ক থাকতে হবে।
তার কথায়, “দেখুন চীন বা পাকিস্তানের কাছেও কিন্তু এর তুলনীয় এয়ারক্র্যাফট আছে। রাফাল অবশ্য কয়েকটা ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে, একটু বেশি সুপিরিওর।”
“তবু আমি রাফায়ল-কে গেমচেঞ্জার বলতে রাজি নই। এর একটা কারণ, এই ধরনের হাই-অল্টিচিউড যুদ্ধে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমেও কিন্তু অনেক পরিবর্তন এসেছে – ফলে এই যুদ্ধবিমানগুলো আর অপরাজেয় নেই।”
“আর এতো দামী এয়ারক্র্যাফট বলেই ভারতকেও খুব সাবধানে এটা ব্যবহার করতে হবে, খুব অ্যাডভেঞ্চারাস হওয়ার সুযোগ থাকবে না।”
“তবে রাফায়ল আসার পর ওই গোটা এলাকায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষে অনেক নতুন কিছু করা সম্ভব হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই!”, বলছিলেন মেজর জেনারেল ব্যানার্জি।
বিগত প্রায় দু’দশকের মধ্যে এটাই ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমানের কেনাকাটা।
কিন্তু সামরিক দিক থেকে প্রতিপক্ষ দেশগুলোর তুলনায় ভারতকে এটা ঠিক কতটা বাড়তি সু্বিধা দিতে পারে, সেটা কিন্তু খু্ব পরিষ্কার নয়।

BBC

Leave a Reply

More News from আন্তর্জাতিক

More News

Developed by: TechLoge

x