আজ কলংকিত ১৬ জুন: দেশ স্বাধীনের পর থেকে যেভাবে গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র হত্যা করা হচ্ছে 

Posted on by

লন্ডন থেকে শেখ মহিতুর রহমান বাবলু : গণমাধ্যম একটি  সমাজের দর্পন।এটি প্রতিদিন মানুষের সুখ- দুঃখ ,আশা – আনন্দ ,ত্যাগ- তিতিক্ষা ,সংগ্রাম ,ভালোলাগা – ভালোবাসা ইত্যাদিকে  প্রতিবিম্বিত  করে। একটা গতিশীল সমাজের রিদপিন্ড যেন বস্তুনিষ্ঠ  আধুনিক গণমাধ্যম।

দেশ স্বাধীনের পর জনগণ গণমাধ্যমকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সংগে একাত্ম দেখতে চেয়েছিলো । এমনকি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও  একই  অঙ্গীকার করেছিল।কিন্তু না আওয়ামীলীগ তার কথা রাখেনি। 

১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাসে নেমে এলো কলংকিত কালো দিন। এই দিনে তদানীন্তন আওয়ামীলীগ সরকার দেশের সকল সংবাদ পত্র বন্ধ করে দিয়েছিলো। কেবলমাত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে  চারটি সংবাদপত্র চালু ছিল। দেশ জুড়ে এই শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার সাংবাদিক ,প্রেস কর্মী ,সাধারণ কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছিল। জারি করা হয়েছিল সংবাদপত্র ডিক্লারেশন বাতিল অধ্যাদেশ।তাই  ১৯৭৬ সাল থেকে দলকানা ছাড়া  সব গণমাধ্যমকর্মীরা ১৬ জুন কে কালো দিবস হিসাবে পালন করে আসছে।অবশ্য হলুদ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ গোষ্ঠী এই দিনটিকে কৌশলে পাশ কাটিয়ে প্রকৃত সত্যকে ধামাচাপা দেবার অপকৌশল বরাবরই  করছে ।


 ১৯৭২ সালের ২৯ মে তদানীন্তন আওয়ামীলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক সরকারের সমালোচনাকারী বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন ” আমি তাদের সাবধান করে দিয়ে বলতে চাই যে ,গণতন্ত্রকে ব্যবহার করে এভাবে গণবিরোধী ও বিদেশী চক্রান্ত সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন এভাবে চলতে থাকলে আমি বলবো ওই সব সাংবাদিকদের লেখার কোনো স্বাধীনতা নেই” ।

১৯৭৩ সালে জারি করা হয়েছিল “প্রিন্টিং প্রেসেস এন্ড পাব্লিকেশনসস” (রেজিস্ট্রেশন এন্ড ডিক্লারেশন )অর্ডিনেন্স। ১৯৭৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তদানীন্তন সংসদের স্পিকার মরহুম আব্দুল মালেক উকিল বলেছিলেন ” অন্য সব দেশের মতো সংবাদ পত্রের যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ থাকা বাঞ্চনীয়। তবে কাউকে প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতা ও সৌজন্যতার পরিপন্থী আলোচনা বা সংবাদ প্রকাশ করতে দেয়া হবে না “.এমনকি স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বলেছিলেন “তথাকথিত বামপন্থী প্রগতিবাদীরা সরকারের সমালোচনা শুরু করেছে। এদের সমালোচনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার মুলে কুঠারাঘাত করছে। এসব  ফ্রি স্টাইল সরকার সহ্য করবে না “। 


 শুরু থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির ধারাই  এমন। যা কিছুই তাদের পক্ষে যায় তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। কেউ সমালোচনা করলে বা অপ্রিয় সত্য বললে আর উপায় নেই। লাগিয়ে দেয় স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারের তকমা।শুরু হয় জেল জুলুম গুম খুন  সহ অমানবিক নানা  অত্যাচার অবিচার।
৭২-৭৫ শাসনামলে বামদলের    খবর বাদ  দিয়ে   পত্রিকায় শুধুই  সরকারি গুণগানের খবর প্রকাশ করতে বাধ্য করা হতো  । যারা সরকারের এ নিয়ম নীতি মেনে মন্ত্রীদের যত বেশি ছবি ছাপাতো তার ভাগ্যে জুটতো ততো সরকারী বিজ্ঞাপন। যে পত্রিকায়  সরকারের সমালোচনার খবর আর মন্ত্রীদের ছবি ছাপা হতো না সে পত্রিকা সরকারী বিজ্ঞাপন অর্থাৎ ডিএফপি’র বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত হতো । 

১৯৭৪ সালে সংবাদপত্র দমনের জন্য তদানীন্তন আওয়ামীলীগ সরকার জারি করেছিল “নিউজপ্রিন্ট নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ”। এরও উদ্যেশ্য ছিল পত্রিকা প্রকাশে বাধা দেয়া। একই বছর জারি করা হয়েছিল স্পেশাল পাওয়ার এক্ট।এই আইনের বিরাট অংশ জুড়ে ছিল সংবাদ পত্র ও সংবাদপত্র শিল্প নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে। ঐ নতুন আইনে যে কোনো সংবাদের জন্য পত্রিকা বন্ধ করে দেবার আইন ছিল। যে কোনো খবরের জন্য যে কোনো সাংবাদিককে গ্রেফতার ও তার উপর অবাধে নির্যাতনের অফুরন্ত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল রক্ষীবাহিনী ও পুলিশের উপর। এই আইন প্রয়োগের  কারণে সমগ্র  দেশে নেমে এসেছিলো ভয়াবহ আতঙ্ক। একের পর এক সংবাদ পত্র বন্ধ হতে লাগলো ,গ্রেফতার হল দেশের সনামধন্য সব সাহসী সাংবাদিক। দুঃসহ যন্ত্রনা নেমে আসলো গণমাধ্যম জগতের প্রায় প্রতিটা মানুষের উপর। 
এতো কিছু করেও বঙ্গবন্ধু যখন মেনন, ইনুদের  নিয়ন্ত্রণে আনতে  বার্থ হলেন তখন  ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সংবাদ পত্র বাতিল অধ্যাদেশ জারি করে একযোগে দেশের সকল দৈনিক,সাপ্তাহিক ,পাক্ষিক এবং মাসিক পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সরকার এর প্রতক্ষ নিয়ত্রনে থাকা ৪ টি পত্রিকা বাদে।যে দল বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবন্ধু বানালো, সেই  আওয়ামীলীগ  সহ দেশের সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগের নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মাত্র ৮ মিনিটের সিদ্ধান্তে পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে মুছে দিলেন বঙ্গবন্ধু নিজেই ।দেশে চালু করা হলো একটিমাত্র রাজনৈতিক দল। তার নামকরণ করা হলো বাকশাল।বাকশালে যোগ দিতে দেশের সকল পেশার মানুষকে চাপ প্রয়োগ করা হলো। রক্ষীবাহিনীর পক্ষ থেকে স্লোগান দিতে বলা হলো  এক নেতার এক দেশ  বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।  তাইতো দলকানা ছাড়া  কোনো প্রকৃত দেশপ্রেমী সাংবাদিক  আজো ভুলেতে পারেনি  ১৬ জুন কালো দিনের কথা ।


১৯৭৫ সালে তদানীন্তন আওয়ামীলীগ সরকার সংসদে ৮ মিনিটের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল । নিষিদ্ধ করা হয়েছিল  দেশের সব রাজনৈতিক দল। বাকশালে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল সাংবাদিক সহ  সকল শ্রেণীর পেশাজীবীকে। একই বছর ১৬ জুন সরকারের তপলিবাহক  চারটি পত্রিকা ছাড়া দেশের সকল পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

বলা হয় শহীদ প্রেসিডেন্ট  জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা  এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার স্থপতি।তিনি  ক্ষমতায় এসেই গোটা জাতি ,রাজনৈতিক দল, সংবাদপত্র ও দেশের সাংবাদিকদের উদ্ধার করেছিলেন।আওয়ামীলীগ সহ সব দলকে অবাধে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিলেন । দেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনি সেদিন বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করে দেশে প্রচলিত বাকশালের মসনদে দিব্বি বসে পড়তে পারতেন। ক্ষমতার লোভে তা তিনি করেন নি।অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে দেশের মানুষকে ফিরিয়ে দেন গণতন্ত্র। তাইতো তাকে বলা হয়  বাংলাদেশের  বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক।

তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট। জাতীয় প্রেসক্লাব ভবন , প্রেস কাউন্সিল ও ওয়েজ বোর্ড। সাংবাদিকদের জন্য মীরপুরে বরাদ্দ দিয়েছিলেন জমি।শহীদ জিয়া ১৯৭৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বলেছিলেন ” বিশ্বের যেসব দেশে সংবাদপত্র ও সংবাদমাধ্যমগুলি নিরংকুশ স্বাধীনতার অধিকারী সেখানেও তাদের নীতিমালা মেনে চলতে হয়। কারণ ন্যায়নীতি বর্জিত দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির জন্য শুধু অকল্যানই ডেকে আনে। বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ এ বিশেষ দিকটি সম্পর্কে সচতন থাকলে গণতন্ত্র উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজতর হবে। ” 

১৬ জুন এর  কালো আইনের জোরেই সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ সংবাদপত্র শিল্পের উপর কম খবরদারি চালাননি।অনেকের মতে ৭৪-৭৫এর বিশেষ ক্ষমতা আইনের সবচাইতে বেশি অপব্যাবহার করেছেন তিনি। কথায় কোথায়  বন্ধ করে দিয়েছেন  পত্রিকা।অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন হাজার হাজার সাংবাদিক। তার আমলে ২৪ টি সংবাদপত্র ও সাময়িকী নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন সংবাদপত্র শিল্পকে।
 তার আমলে প্রতিদিন রাতে -সংবাদপত্র অফিসে টেলিফোন আসতো। নির্দেশ দেয়া হতো কোন সংবাদ প্রকাশিত হবে ,আর কোনটি হবে না। ভদ্রভাষায় এ নির্দেশকে বলা হত “প্রেস অ্যাডভাইসেস “. প্রেস অ্যাডভাইসেস  ছিল তিন ধরণের ১) একদম যাবে না ২) যাবে তবে ফলাও করা যাবে না ৩)বিশেষ অংশটি ফলাও করার নির্দেশ দেয়া গেল।

 সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে নানা পারিপার্শিক কারণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। তার আমলে ট্রাস্টের অধীনে পত্রিকাগুলোকে “গতিশীল “করার  চেষ্টা করা হয়। সবচে মজার ব্যাপার এসব পত্রিকা কখনো গতিশীল হয়নি। জনগণের আস্থাও অর্জন করতে পারেনি।তবে ঠিকাদার শ্রেণীর কাছে এসব পত্রিকা খুব প্রিয় হয়ে ওঠে। কেননা বিভিন্ন টেন্ডার বিজ্ঞাপনে ঠাসা থাকতো পুরা পত্রিকা।

২০১৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার পাকিস্তানিদের আদলে  ,বঙ্গবন্ধুর মতো সেই কালো আইন আবার ফিরিয়ে আনলো   আইসিটি আইনে।সেখানে সুকৌশলে যুক্ত করা হলো ৫৭ ধারা।তার মানে পাকিস্তান  আমলের পুরানো মদ নতুন লেভেলে বাজারজাত করলো ডিজিটাল কায়দায়।এই আইনে নাগরিকদের গ্রেফতার ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ধারাটি বাতিলের অভিযোগ করে আসছিলেন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার-কর্মীরা। 


ধারাবাহিক এ সব প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাসের পর দেখা গেল সেখানে ৪টি ধারায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিতর্কিত ৫৭ ধারাটিকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।এমনকি নতুন এই আইনে জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার আরও বেশি খর্ব হবে বলেও আশংকা ছড়িয়ে পড়লো সর্ব মহলে ।

ধারা ৮ অনুযায়ী যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট প্রতীয়মান হয় যে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য উপাত্ত দেশের বা উহার কোনো অংশের সংহতি ,অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নিরাপত্তা প্রতিরক্ষা ধর্মীয় মূল্য বোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুন্ন করে বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণার সঞ্চার করে ,তাহলে   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী উক্ত তথ্য উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার  জন্য মহাপরিচালকের মাধ্যমে বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবে। 

এই আইনে প্রকাশিত বিষয়বস্তু অপসারণ বা ব্লগ করার ক্ষেত্রে  প্রয়োজনীয় যুক্তি আইনটিতে একেবারেই অস্পষ্ট সুতরাং মহাপরিচালক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতা এতো বেশি যে তারা কোনোকিছু  অন্যায় মনে করলে আইনের প্রয়োগ করতে পারবে।  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরোয়ানা ছাড়াই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৩ ধারায় তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের  ক্ষমতা দেয়া হলো ।


 ৪৩ ধারা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি  মিডিয়া অফিসে এসে তল্লাশি করেন এবং মনে করেন যে তদন্তের স্বার্থে  অফিসিয়াল সার্ভারে তার ঢোকা ও জব্দ করা দরকার  তাহলে অপরাধের আলামত থাকুক আর না থাকুক সার্ভার জব্দ ও  প্রচার বা  প্রকাশনা বন্ধ রাখতে পারবে ।


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫৩ ধারায় বলা আছে আইনের ১৪টি ধারা  অ-জামিনযোগ্য ৩২ ধারায় সর্বোচ যাবজ্জ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকার অর্থদণ্ডের বিধান আছে। ৩২ ধারার ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ বিষয়টি নিয়ে সর্বমহলের আপত্তি ছিল। গুপ্তচরবৃত্তির পরিবর্তে সেখানে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘গুপ্তচরবৃত্তি’র চেয়ে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট আরও বিস্তৃত, আরও ভীতিকর।

মোটকথা নতুন ডিজিটাল আইনের ৮,২১,২৫,২৮,২৯,৩১,৩২,৪৩ও ৫৩ ধারা দুর্নীতিবাজদের জন্য অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেছে । পক্ষান্তরে এটা সুশাসনের পথে বাধা ও  গণমাধম , গণমাধম কর্মী ,সাংবাদিক, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ,কলামিস্ট ,  বিশ্লেষক ,  টক শো তে অংশগ্রহণকারী,কার্টুনিস্ট ,সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহারকারীদের হয়রানি করতে  ব্যাপকহারে সুযোগ রাখা  হয়েছে।

 
অস্তিত্বের মহাসমুদ্রে ঝড় উঠেছে পাঠক। পালে  বাতাস নেই। যেকোনো মুহূর্তে নৌকাটা ডুবে যেতে পারে।এদিকে চারিদিকে অথৈ জল। ভয়ঙ্কর সব জলজ প্রাণীর নজরদারি। স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছি আমরা ক’জন।  যতই কষ্ট হোক না কেনো ।  তুলে আনতে চাই ” নীল পদ্ম ” ।  পাঠকের  হাতে তুলে দিতে চাই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ। চাই আপনাদের সহযোগিতা। ভয়ঙ্কর প্রাণীর রক্তচক্ষুই উপেক্ষা করে সাথে থাকবেন তো ? 
লেখক : শেখ মহিতুর রহমান বাবলু  কলামিস্ট লেখক প্রবাসী সাংবাদিক:

Editor :Newslife24.com

 

Leave a Reply

More News from এক্সক্লুসিভ

More News

Developed by: TechLoge

x