বিএনপির বিদেশ কমিটি চার ধান্দাবাজের কবলে আটকে আছে

Posted on by

রেদোয়ান আহমদ ইউরোপ : ইউরোপীয় দেশগুলোর বিএনপির কমিটি চার ধান্দাবাজ আন্তর্জাতিক সম্পাদকের কারনে আটকে আছে লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমানের নেতৃত্ব এই চক্রটি বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখেন কমিটি গুলো পকেট ভর্তি টাকা আর ব্যাগ ভর্তি উপহার না পেলে ইউরোপের কোন দেশের কমিটি মাহিদুর রহমান ও তিনির গংদের কাছ থেকে পাওয়া কল্পনা করা যাওনা।যেন পদ-পদবি পেয়েই খালাস। দলের দুর্দিনে নেই আন্তর্জাতিক সম্পাদক সহ-সম্পাদকদের কোনো ভূমিকা। কয়েক বছর ধরে বিদেশেই অবস্থান করছেন পদধারী অনেকেই। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তাদের কোন কর্মকান্ডই প্রকাশ্যে নেই। গত তিন বছরে কোন দেশের সাথেও বিএনপির সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে পারেননি। এমনকী বিদেশের কোন কমিটি গঠন কিংবা সংগঠনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব কোন্দ্বল নিরসনের জন্য উদ্যোগ নেয়নি। অথচ দলের গঠনতন্ত্রের প্রচার সম্পাদককের পরই আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদ। গুরুত্বপূর্ন এ পদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদকও সহসম্পাদক এক ডজন নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে খোদ দলের ভেতর-বাইরে সমালোচনার ঝড় বইছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

গত ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপির নতুন কমিটি গঠিত হয়। এতে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মুহিবুর রহমান, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, মো. নওশাদ জামির ,মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, নজরুল ইসলাম আজাদ, আনোয়ার হোসেন খোকন, এ্যাড.ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা, বেবি নাজনীন, শাকিরুল ইসলাম শাকিল।

সুত্রমতে, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যে প্রাচ্য, সার্কভুক্ত দেশ, এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল ভাগ করে দেওয়া হয়। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ দায়িত্ব বন্টণ করে দেন। কিন্তু দায়িত্ব বুঝিয়ে নেওয়া পর্যন্তই শেষ। এরপর আর কোন নেতা কাজ করেননি।

সুত্রমতে, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সহ সম্পাদকরা দায়িত্ব পাওয়ার পর অদ্যবধি পর্যন্ত একত্রিত হয়ে একদিনও কোন বৈঠক করেননি। তাদের ওপর সংগঠনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনাও করেননি। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাহী কমিটির সম্পাদকীয় ও কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ অনেক পদে নতুন করে নেতাদের নিয়োগ দিলেও বেশির ভাগ নেতাদেরই কোন কাজ নেই। দলের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে নেতাদের কোনো যোগাযোগ নেই। আবার অনেকে লোক দেখানো পার্টি অফিসে মাসে একবার আসলেও দলের কোন কর্মসুচীতে অংশ নিচ্ছেন না । কেউ-কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েই দায়িত্বমুক্ত হচ্ছেন।

বিএনপির সুত্রমতে,আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকদের কাজ হচ্ছে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নে যে সব পদক্ষেপ ও কার্যক্রম সরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয় তার খোঁজ খবর রাখা ও দলকে নিয়মিতভাবে তা অবহিত করাই আন্তর্জাতিক সম্পাদকদের প্রধান কাজ। এছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থানরত বিশ্বের দেশগুলোর রাষ্ট্রদুতের সঙ্গে সর্ম্পক উন্নয়নে যোগাযোগ রক্ষা করে চলা ও রাষ্ট্রদুতের সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দেশ ও দলের ভাবমুর্তি উজ্জল করাও এ পদের অন্যতম দায়িত্ব। কোন দেশের শাখা কমিটি দেখভাল করা ও সংকট নিরসনে কাজ করা।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতে, বিএনপিতে পদ নিলেই তিনি ভাল কাজ করেন না এটা মুশকিল। মাঠের অনেক নেতা আছে যিনি দলের জন্য সব সময়ই মাঠে থাকেন। কিন্ত কখনই তিনি বড় পদ পাননি। বিএনপি এমন একটি দল এখানে বেশিরভাগ নেতারা প্রভাব খাটিয়ে দলের সাংগঠনিক পদ নিয়ে বসে আছেন। তবে দলের জন্য মাঠে ঘাটে থাকছে না। সিনিয়র কিছু নেতার কারনে পদের দায়িত্ব অনেক নেতা পালন করতে পারছে না এমন অভিযোগ রয়েছে। অনেক নেতা পদ নিয়েই বসে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সহ সম্পাদক পদধারী অনেক নেতা দেশের বাইরে আছেন। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম ২০১৭ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তাকে লন্ডনের বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। আরেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান লন্ডনেই থাকেন। সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও আনোয়ার হাসেন খোকনও দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে আছেন। তবে এ দুই নেতার নামে কোনও মামলা আছে কিনা, তা জানা যায়নি।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনি সংসদ অধিবেশনে দলের পক্ষে কথা বলেন। আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহ-সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে নারায়নগঞ্জ ২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করেছেন।

সুত্র জানায়, ইউরোপে বিএনপির চারজন আন্তর্জাতিক সম্পাদক থাকলেও বিগত তিন বছরে সাংগঠনিক ভাবে বহির্বিশ্বে কোন দেশের শাখা কমিটি গঠণ করতে পারেননি। এমনকী দলের কূটনীতিক পলসিতে বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে সম্পুর্ন ব্যর্থ হয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পার্লামেন্টের সাথে কিছু বিষয়ে কূটনীতিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন শুধুমাত্র বেলজিয়াম বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

সূত্র মতে, বহির্বিশ্বে বিভিন্ন দেশের শাখা কমিটি গুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা। দ্বন্দ্ব কোন্দ্বলের কারণে সংগঠনের কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টি হয়নি। ফিনল্যান্ড কমিটির মেয়াদ আট বছর চলছে, সুইডেন কমিটির মেয়াদ ছয় বছর, ডেনমার্কে ১৪ বছর ধরে কমিটি নেই। ফ্রান্স বিএনপির কমিটি নেই সাত বছর থেকে, হলান্ড শাখা বিএনপির কমিটির মেয়াদ চার বছর, জার্মান বিএনপি কমিটির মেয়াদও চার বছর। বিএনপির কমিটি নেই স্পেন, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও পর্তুগালে। শুধুমাত্র বেলজিয়াম ও রাশিয়া কমিটির মেয়াদ এখনো আছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কমিটিতে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন,তারা কতটুকু কাজ করছেন,তা দলের মহাসচিব বলতে পারবেন।

এদিকে, মালয়েশিয়া বিএনপির শাখা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব কোন্দল চরম আকার ধারন করেছে। মালয়েশিয়া ১৩ প্রদেশে বিএনপিকে ১৪২ টি ইউনিট কমিটি গঠণ করেন সাবেক সভাপতি শহীদ উল্লাহ শহীদ। দলকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচি সফল করেন তিনি। কিন্ত কমিটি গঠনের কোন নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে পকেট কমিটি দেয় দলের হাইকমান্ড। এনিয়ে মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন মালয়েশিয়া বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এই দ্বন্দ্ব কোন্দল নিরসনে দলের আর্ন্তজাতিক সম্পাদকরা কোন উদ্যোগ নেয়নি। এক পর্যায়ে সাবেক সভাপতি শহিদ উল্লাহ শহীদেরর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ সক্রিয় হন। দুই গ্রুপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এতে বিব্রত হয়ে অনেকেই বিএনপির রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সভাপতি শহিদ উল্লাহ শহীদ স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ১৫ বছর ধরে মালয়েশিয়ার পথে প্রান্তরে ঘুরে সংগঠনকে সংগঠিত করেছি। কিন্তু ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি দিয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ করেছি। আন্তর্জাতিক সম্পাদক,সহ সম্পাদককে জানিয়েছি। তারা কেউ কোন উদ্যোগ নেয়নি।দুদির্নের দলের পাশে থাকা নেতাদের মুল্যায়ন করে নতুন কমিটির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অপর দিকে, ডর্জনখানেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক-সহ সম্পাদক থাকার পরও কুয়েত শাখা বিএনপির কমিটি করার দায়িত্ব পান জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সৌদি আরব বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আহমেদ আলী মুকিব। গত ২৬ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠি পাওয়ার পর আলহাজ্ব আহমেদ আলী মুকিব কুয়েত বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠণের কাজ শেষ করেন। গত ১৪ জানুয়ারী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কুয়েত শাখা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন।

এ বিষয়ে কুয়েত শাখা বিএনপির একাধিক নেতা স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, আহবায়ক কমিটি গঠণের আগে অনেক দ্বন্দ্ব কোন্দ্বল ছিল। একাধিকবার দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদকদের জানানো হয়েছে। কিন্তু সংকট নিরসনে তারা কোন ভূমিকা রাখেননি। তাহলে আন্তর্জাতিক সম্পাদক সহ সম্পাদকদের কাজ কী? দলের কোন কাজে আসেন এ নেতারা। শুধু পদ দখল করে থাকেন।

More News from কমিউনিটি

More News

Developed by: TechLoge

x