স্ত্রী-শ্যালিকাকে নিয়ে বৃদ্ধা মাকে মেরে রক্তাক্ত করলেন ছেলে

Posted on by

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মন্ডলপাড়ার মৃত নুরুল হকের স্ত্রী জবেদা বেওয়াকে (৬৭) ছেলে, ছেলের স্ত্রী এবং শ্যালিকা দ্বারা মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে মায়ের ঘরের ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তার সন্তান!মঙ্গলবার জবেদা বেওয়া তার ছেলে মো. আব্দুল সালাম (৪০), ছেলের স্ত্রী শাহিদা বেগম (৩৫) ও ছেলের শ্যালিকা হাবিবা খাতুনের (৩৮) বিরুদ্ধে চিরিরবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগে জবেদা বেওয়া বলেন, আমার ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে আমার সামান্য বিষয়ে মনোমালিন্য হলে আমার ছেলে এবং ছেলের বউ আমাকে মারপিট করে। এর আগেও বেশ কয়েকবার সামান্য বিষয়ে আমার ছেলে এবং ছেলের বউ আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে।তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে আমার ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া লাগলে আমার ছেলে, ছেলের স্ত্রী ও তার শ্যালিকা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে আমার ছেলে ও তার স্ত্রী আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আমাকে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে।

বৃদ্ধ মা অভিযোগে আরও বলেন, আমার ছেলের বউ আমার চুলের মুঠি ধরে টানে হেঁচড়ে মুখে থাপ্পড় দিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় পাশে পড়ে থাকা একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে আমার ঘাড়ে, পিঠে, পায়েসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারপিট করে। আমার চিৎকারে আমার নাতি এগিয়ে এলে তাকেও আমার ছেলে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। পরে দুজনের চিৎকারে প্রতিবেশিরা কাছে এলে রক্ষা পাই। আমার ছেলে বলেছে, ‘এবারের মতো বেঁচে গেলি! এরপর সুযোগ মতো পেলে হাত-পা ভেঙে লাশ বানিয়ে রাখব!’জবেদা বলেন, আমার ছেলে বলে আমি তোকে চিনি না! আমার ঘরের ভেতর দিয়ে ছিটকিনি লাগিয়ে আমাকে বাইরে রাখছে। এখনো আমার টয়লেটের দরজায় তালা ঝুলিয়ে রাখছে। আমি এসবের বিচার চাই।অভিযোগের বিষয়ে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেই আমি পুলিশ দিয়ে আপাতত ওই মাকে ঘরে ঢুকিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। বৃহস্পতিবার মা ছেলে এবং ছেলের স্ত্রী ও তার শ্যালিকাকে থানায় ডেকেছি। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি মিমাংসা করার। যদি এরপরেও ওই ছেলে এমন করে তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x