কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন মারা গেছেন

Posted on by

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন আর নেই।তিনি মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়ে ছিল ৭৬ বছর।রবিউল হুসাইন দীর্ঘদিন রক্তের জটিলতায় ভুগছিলেন।গত দুই সপ্তাহ ধরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ২৪ নভেম্বর তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৮ সালে একুশে পদক পাওয়া এই কবি কাজ করেছেন ভাষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্যও।তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রের ট্রাস্টি,একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য।ঝিনাইদহের শৈলকূপার সন্তান রবিউল হুসাইনের জন্ম ১৯৪৩ সালে।কুষ্টিয়ায় মেট্রিক আর ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে তিনি ভর্তি হন ইস্ট পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজির (বর্তমান বুয়েট) আর্কিটেকচার ফ্যাকাল্টিতে।ছাত্রজীবনেই তার বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়।কবিতা,প্রবন্ধ,উপন্যাস মিলিয়ে দুই ডজনের বেশি বই রয়েছে তার।স্থপতি রবিউলের ঝোঁক ছিল ইটের কাজের দিকে।তার নকশায় বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ কাউন্সিল (বিএআরসি) ভবনটি ছিল তার প্রিয় একটি কাজ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তি ও স্বাধীনতা তোরণ,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইট,ভাসানি হল,বঙ্গবন্ধু হল,শেখ হাসিনা হল,খালেদা জিয়া হল,ওয়াজেদ মিয়া সায়েন্স কমপ্লেক্স,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম ও অ্যাকাডেমিক ভবন কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে রবিউল হুসাইনের নকশায়।বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য রবিউল শিশু কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় কচি-কাচার মেলা,জাতীয় কবিতা পরিষদ,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ,বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটেও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

Developed by: TechLoge

x