লন্ডনে খুলনা বাসীর ঈদ গেট টুগেদার গ্রিল পার্টি স্মরণীয় হয়ে থাকবে অনেক দিন( Video)

Posted on by

জীবন চৌধুরী : দুপুর গড়িয়ে বিকাল। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। ফির ফির করে বয়ে চলেছে দখিনা মলয়। বাতাসে শীত নেই। গরমও নেই। এমন সুন্দর একটা পরিবেশে একের পর এক গাড়ি এসে জড়ো হচ্ছে  21 Florence Street এ। এটা এমদাদুল হক চঞ্চল ও লন্ডনে গানের পাখী নামে খ্যাত সিফাত আরা সিমি’র  বাসা। পবিত্র ঈদুল আজহা  উপলক্ষে তারা পরিচিত অপরিচিত খুলনা বাসীকে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের বাসায় বেক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করেছেন ঈদ গেট টুগেদার গ্রিল পার্টি। 

মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। প্রতিবছর খুশির বার্তা নিয়ে আমাদের দুয়ারে আসে সে।ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু  পরিবারের অনেক আপন জনকে দূরে রেখে প্রবাসীদের জীবনে ঈদের আনন্দ কোনোদিনও  ষোলকলায় পূর্ণ হয় না।এটাই সত্য, এটাই বাস্তবতা। 

খুলনা বাসীর ঈদ গেট টুগেদার গ্রিল পার্টির  একাংশ ছবি : Newslife24.com

ঈদের দিন টেলিফোন কথা হচ্ছিল আমার এক বোন সুলতানা’র সাথে। আমার কণ্ঠস্বর শুনতেই  হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললো সে। কয়েক বছর আগে এক ঈদের দিনে তার মা চলে গেছেন না ফেরার দেশে।ঈদ আসলেই সেকথা  কিছুতেই ভুলতে পারছেন না সুলতানা। সব আনন্দকে উপেক্ষা করে  মায়ের স্মৃতি চারণ আর ঘরে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে সে। বিদেহী আত্মার মাগফের কামনা করছে  মায়ের। 

ব্যারিস্টার ইমরুল হাসান ও তার পরিবার 
গ্রিল শেফ রিজভি 

প্রবাস  জীবনের এসব  শূন্যতাকে পূর্ণ করতে প্রতিবছর চঞ্চল ভাই  ও সিমি ভাবি ঈদের দিন এ ধরণের  আয়োজন করে প্রশংসিত হন।ঈদ আনন্দের পাশাপাশি ক্ষনিকের জন্য হলেও সকলে ভুলে থাকেন, ফেলে আসা দেশের স্মৃতিবিজড়িত অনেক  চিহ্ন । 

কলিং বেল টিপতেই গার্ডেন থেকে দৌড়ে এসে চঞ্চল ভাই আমাদেরকে অভিনন্দন জানালেন। পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভাবি।ঈদের দিন পাঞ্জাবির পরিবর্তে গেঞ্জি পরেছেন চঞ্চল ভাই। বুড়া বয়সে যুবরাজ হবার ধান্দা আর কি ।   

গান গাইছেন সিফাত আরা সিমি

 ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়লো ঘরে এক কোনে  টিপ্ টিপ্ করে জ্বলছে তিনটি সুগন্ধি মোমবাতি।চঞ্চলভাই আর সিমি ভাবীর মতো নিজেকে পুড়িয়ে সৌরভ  ছড়াচ্ছে তারা।

উপস্থিত সকলে মহা ব্যাস্ত।দীর্ঘ সময় ধরে কাজের ক্লান্তি চোখে  মুখে ফুটে উঠেছে সবার। ঝিলাম ভাই কাটা কাটি করছে ,রানা দায়িত্ব পালন করছে কিচেন পোর্টারের।বিলেতে সবার পরিচিত মুখ কণ্ঠ শিল্পী জীবন তার গিটারের টিউনিং নিয়ে ব্যাস্ত। স্বপন ভাই এমাথা থেকে ওমাথা করছে দৌড়ঝাঁপ । রিজভি ভাই বারবি কিউ গ্রিল জ্বালানোর আয়োজন নিয়ে আছে ।ব্যারিস্টার ইমরুল ভাই গার্ডেনের এক কোনে ফ্যামিলি নিয়ে চুপচাপ বসা । 

গান গাইছেন রাজীব হাসান 

 গার্ডেনে টানানো হয়েছে বিশাল এক তাবু। থরে থরে সাজানো আছে  হরেক রকমের বাসায় তৈরী খাবার।রং বেরঙের অপূর্ব লাইটিং ,সাউন্ড সিস্টেম ,প্রজেক্টরের সামনে বিশাল পর্দা।গাদা গাদা বসার চেয়ার।সব মিলিয়ে এক এলাহী কান্ড। নিজের খরচে আর নিজের গরজে এমন ঈদের আয়োজন আমার ৩২ বছরের প্রবাস  জীবনে  দেখিনি কোনোদিন। 

গিটারে মোঃ জীবন পশে রশিদ রনি ও নাহিদ রানা 
গান গাইছেন নাসরিন মার্চ 

প্রথমেই পরিবেশন করা হল চটপটি ও ফুসকা। যে যার মতো নিয়ে খাচ্ছে। কেউ অতিথি মনেই  হচ্ছে না এখানে । ছেলেরা প্রায় সবাই নতুন নতুন পাঞ্জাবী  পাজামা ও কোটি পড়া। মহিলারা পরেছেন কালারফুল বাহারি শাড়ি।পরিপূর্ণ ঈদের আমেজ।মনে হচ্ছে লন্ডনের বুকে যেনো এক খন্ড খুলনা। 

 ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন ব্রিটেনে রক সম্রাট খ্যাত রাজীব হাসান,ডাঃ শাহরিয়ার শাওন ,ডাঃ সাদিয়া তাহসিন ,ডঃ সজীব হোসেন ,আইনজীবী বেহ্জাদ শারমিন,সাব্বির আহমেদ,মোয়াজ্জেম হোসাইন ,মোঃ সাগর , আজমীর ,ক্রিকেটার অভি আতিক ,মোবাসসের আহমেদ  রাসেল ও আরো অনেকে। প্রায় সবাই এসেছেন  স্বপরিবারে। 

চটপটি ও ফুসকার আসরে বেজে উঠলো মনমাতানো বাংলা গান।শিল্পী মোঃ জীবন।  রনি ভাই স্বপন সহ অনেকে সমান তালে গেয়ে চলেছে । রাজীবও এ যাত্রায় বসে রইলো না। ক্রস গাইতে থাকলো জীবনের সাথে। 

খুলনা বাসীর ঈদ গেট টুগেদার গ্রিল পার্টির  একাংশ

সন্ধান কিছু আগে গ্রিলে আগুন জলে উঠলো  দাউ  দাউ করে।চিকেন ,সিক কাবাব ও নানা  ধরণের মাংস পোড়া সুগন্ধে মুখরিত হলো সমগ্র আকাশ বাতাস। 

এদিকে আমাদের চারজন গুণী শিল্পী জীবন,রাজীব, সিমি ও নাসরিন মার্চ ভাবি গানে গানে আসর জমিয়ে তুলেছে।চলছে একের পর এক ফেভারেট গান। অনেকের অনুরোধও রক্ষা করছেন তারা । 

অন্যরা  ফোকাস লাইটের  আলো আঁধারে কেউ দাঁড়িয়ে কেউবা বসে গ্রিল খাচ্ছে। গানের তালে তাল মিলানো হালকা পাতলা নাচ ,ছবি তোলা ,ভিডিও করা ,সেলফি ,ফেসবুকে লাইভ সবই চলছে তখন।

প্রবাসে কম্পিউটারের ডিক্সে গাঁথা কর্ম ময় জীবনের সব দুঃখ কষ্ট ভুলে সবাই দুলছে অনাবিল আনন্দের নাগর দোলায়। 

খুলনা বাসীর ঈদ গেট টুগেদার গ্রিল পার্টির  একাংশ

গভির রাত।চারিদিকে নীরব নিস্তব্দ।  প্রতিবেশীদের কথা বিবেচনা করে চঞ্চল ভাই ও ভাবি আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন। গার্ডের ছেড়ে ড্রইং রুমে গিয়ে অনুষ্ঠান কন্টিনিউ করতে অনুরোধ করলেন। সেখানেও চললো আরো কছুক্ষন। 

এবার সত্যি সত্যি বিদায় নেবার পালা।কিন্তু  যেতে নাহি মন চায় তবু  চলে যেতে হয় ……

Eid Party in London

Leave a Reply

More News from কমিউনিটি

More News

Developed by: TechLoge

x