ঈদ নয়, এটা এবার শোক, বিবিসিকে এক কাশ্মীরি যুবক

Posted on by

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: পাঁচদিন পর ভারত শাসিত কাশ্মীরে শনিবার বিকেলে ঈদের কেনাকাটা করার জন্য কারফিউ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। শ্রীনগরে বেশ কিছু দোকান খোলা ছিলো। অনেক মানুষ বের হয়েছিলেন ঈদ ও পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে। বিবিসি।
কণ্ঠে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে বিবিসির সংবাদদাতা দিলনওয়াজ পাশাকে শ্রীনগরে এক যুবক বলেন, ‘এটি কোনো ঈদ নয়, এটি এবার শোক। গত দুই দিন আমরা তেমন কিছু করিনি। ঈদের পর আমরা ৩৭০ অনুচ্ছেদ ফিরিয়ে আনবো। এটা কাশ্মীর। এটা আমাদের ভূমি। ’

দিল্লিতে বিবিসি বাংলার শুভজ্যোতি ঘোষ বলছেন, ঈদের কথা বিবেচনায় নিয়ে শনিবার কারফিউ কিছু শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু গত দুদিনে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিক্ষোভের খবরাখবর, ফুটেজ, ছবি প্রচার হওয়ার ফলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আবারো তাদের অবস্থান শক্ত করছে।
বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শহরের সোউরা এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভের খবর ও ভিডিও সামনে আসতে শুরু করে।

সেই ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যায়, জনতা ‘আজাদি’র পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে’, ‘৩৭০ ধারার বিলোপ মানি না’ লেখা ব্যানার তুলে ধরছে। পুলিশের ফায়ারিং ও কাঁদানে গ্যাসের শেল চার্জ করারও প্রমাণ ছিল ওই ভিডিওতে। এর পরই প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয় কারফিউ-র কড়াকড়ি আবার নতুন করে বহাল করা হবে।

শনিবার গভীর রাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্য সচিব ও পুলিশ মহাপরিচালকের তরফে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়, ‘গত ছদিনে (অর্থাৎ পার্লামেন্টে ৩৭০ ধারা বিলোপের ঘোষণার পর থেকে) কাশ্মীরে পুলিশ একটাও বুলেট ছোঁড়েনি।’

রোববার মধ্যরাতের পর থেকেই নতুন করে আবার কারফিউ আরোপ শুরু হয়।ফলে আগামীকাল (সোমবার) ঈদের আগে কাশ্মীরের পরিস্থিতি আবার ভীষণ রকম থমথমে হয়ে উঠেছে।

শুভজ্যোতি ঘোষ বলছেন, শুক্রবার সৌউরার ঘটনার পর পুলিশ-প্রশাসন বড় কোনও ঈদগার জমায়েতের অনুমতি দেবে, সেই সম্ভাবনা প্রায় নেই। সাধারণ মানুষকে হয়তো বলা হবে, নিজের এলাকার ছোটখাটো স্থানীয় মসজিদেই যার যার ঈদের নামাজ আদায় করে নিতে।

সোমবার থেকে পাঁচদিন পর শনিবার বিকালে কারফিউ শিথিল করার পর শ্রীনগরের বিখ্যাত ডাল লেকের পাশে বসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছিলেন কয়েকজন যুবক। বিবিসির দিলনেওয়াজ পাশা ছিলেন সেখানে। ঐ যুবকদের একজন বলেন, ‘দুজন মানুষ (নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ) কাশ্মীরকে একটি কারাগার বানানোর সিদ্ধান্ত নিল। কেউই কাশ্মীরিদের সাথে কথা বললো না। এখনও বলছে না…এমনকি নির্বাচিত নেতাদেরও আটকে রাখা হয়েছে। ’

রাগে হতাশায় আরেকজন যুবক বলে উঠলেন, ‘কাশ্মীরিদের বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের আর কোনো রাস্তা নেই। ছোটো থেকেই এটা দেখছি। কারফিউ, বনধ, সেনা অভিযান, কোনো শান্তি নেই। সরকার বন্দুকের নল ধরে সবকিছু করতে পারে। আমাদের জমি নিয়ে নিতে পারে। যা কিছু হচ্ছে সব বন্দুকের জোরে…আমাদের জমি তারা কিনতে পারবে না, ছিনিয়ে নিতে হবে।’ পরিস্থিতি কি তাহলে শান্ত হয়ে যাচ্ছে?

বিবিসির সংবাদদাতার এই প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘এই শান্তি ঝড়ের আগে তৈরি হওয়া থমথমে পরিস্থিতির মতো। কাশ্মীরে ঝড় আসছে। কী হবে কেউ জানেনা। আমরা দীর্ঘ অবরোধের জন্য প্রস্তুত। এটা আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু আমরা কাউকে এই কাশ্মীর নিতে দেবনা। এটা আমাদের কাছে বেহেশত এবং এর জন্য আমরা সবকিছু করতে প্রস্তুত।’

৫ আগস্ট সোমবার ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীর রাজ্যের স্বায়ত্বশাসন দানকারী ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার পর থেকে রাজ্যটি কার্যত অবরুদ্ধ এবং বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। টেলিফোন-ইন্টারনেট সংযোগ ছিন্ন, রাজনৈতিক নেতা সহ শত শত মানুষ গৃহবন্দী বা আটক আছেন। রাজধানী শ্রীনগরের পথে পথে সেনা টহল ও তল্লাশি চলছে, দোকানপাট বন্ধ, জনজীবন স্তব্ধ ।

Leave a Reply

More News from আন্তর্জাতিক

More News

Developed by: TechLoge

x