যথাযত মর্যদায় ব্রিটেন সহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচের বিভিন্ন দেশে উৎযাপিত ঈদুল আজহা

Posted on by

নিউজলাইফ লন্ডন ডেস্ক : যথাযত মর্যদায় ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য্যপূর্ণ  পরিবেশে ব্রিটেন সহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচের বিভিন্ন দেশে  উৎযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা।এ উপলক্ষে ব্রিটেনের  বিভিন্ন মসজিদে ও খোলা মাঠে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।লন্ডনের ব্রিকলেন মসজিদ ও ইস্ট লন্ডন মসজিদে ৫ টি করে জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।ইলফোর্ড সহ অনেক জাগাতে খোলা মাঠে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। অধিকাংশ জাগাতে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭ টায়। এবার  ঈদ রবিবারে হওয়াতে  অনেকে সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করছেন।  যারা ছুটি পাননি তাদেরকে প্রথম জামাতে নামাজ আদায় করে কর্মস্থলে ছুটতে দেখা গেছে।

   
ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর মুসলিম উম্মাহর বৃহত্ ধর্মীয় উত্সব ঈদুল আজহা । মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানির রেওয়াজ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। এই অনন্য ঘটনার স্মরণে কোরবানি প্রচলিত হয়। মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে জবাই করা পশুর মাংস বা রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, কেবল নিয়ত ছাড়া। ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে, মনের পশু অর্থাৎ কুপ্রবৃত্তিকে পরিত্যাগ করা।


পবিত্র হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতি বছর জিলহজ মাসের দশ তারিখে বিশ্ব মুসলিম ময়দানে নামাজ আদায়ের পর যার যা সাধ্য ও পছন্দ অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। আরবি আজহা এবং কোরবান উভয় শব্দের অর্থ হচ্ছে উত্সর্গ। কোরবানি শব্দের উত্পত্তিগত অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ, আত্মোত্সর্গ, নিজেকে বিসর্জন, নৈকট্য লাভের চেষ্টা ও অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া প্রভৃতি।
সুরা হজে বলা হয়েছে, এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়। আল্লাহর বান্দারা কে কতটুকু ত্যাগ ও খোদাভীতির পরিচয় দিতে প্রস্তুত এবং আল্লাহপাকের নির্দেশ পালন করেন তিনি তা-ই প্রত্যক্ষ করেন কেবল। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে (মুসনাদে আহমদ)। আল কোরআনের সুরা কাউসারে বলা হয়েছে, অতএব তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড় এবং কোরবানি কর। সুরা হজে বলা হয়েছে, কোরবানি করার পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।


জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কেনো একদিন কোরবানি করা যায়। কোরবানিকৃত পশুর ৩ ভাগের ১ ভাগ গরীব-মিসকিন, একভাগ আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেওয়া যায়। এদিকে ৯ জিলহজ ফজর নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজ আছর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তালবিয়াহ পাঠ করা ওয়াজিব। তালবিয়াহ হলো, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক জাতির বাত্সরিক আনন্দ-ফুর্তির দিন আছে। এই দিনে ধনী-গরীব, বাদশা-ফকির নির্বিশেষে সব মুসলমান এক কাতারে ঈদের নামাজ আদায় করে, একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে। ঈদ মুসলিম উম্মাহর জাতীয় উত্সব।

Leave a Reply

More News from কমিউনিটি

More News

Developed by: TechLoge

x