টাওয়ার হ্যামলেটসে দৃষ্টি পীড়াদায়ক ফোন বুথ স্থাপনের প্রচেষ্টা রুখে দিলেন কাউন্সিলের প্ল্যানাররা

Posted on by


টাওয়ার হ্যামলেটসের প্ল্যানাররা যেসকল এলাকায় তারা চাননা, সেখানে দৃষ্টি পীড়াদায়ক ফোন বক্স স্থাপনে বিভিন্ন কোম্পানীর প্রচেষ্টা রুখে দিতে সক্ষম হয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, সারা দেশের টাউন সেন্টারগুলোতে প্ল্যানিং আইনের ফাঁকফোকড় ব্যবহার করে কাউন্সিল ও বাসিন্দাদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে বিভিন্ন কোম্পানী কর্তৃক বিপুল সংখ্যক দৃষ্টি পীড়াদায়ক ফোন বক্স স্থাপন করা হচ্ছে। এসব ফোন বক্সের বেশির ভাগই ব্যবহৃত হচ্ছে বিজ্ঞাপনের স্থান হিসেবে এবং যারা এগুলো বসিয়েছে, তারা বিপুল অর্থ কামিয়ে নিচ্ছে। তবে, এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।
সম্প্রতি বারার ৯টি পৃথক স্থানে এই ধরনের ফোন বক্স স্থাপনের আবেদন কাউন্সিলের পরিকল্পনাবিদরা প্রত্যাখ্যান করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা সমর্থন করেছেন প্ল্যানিং ইন্সপেক্টর।
এ প্রসঙ্গে মেয়র জন বিগস বলেন, এসব ফোন বক্সগুলো আমাদের প্রিয় ও ঐতিহ্যবাহি লাল ফোন বক্স থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এগুলো আকারে অনেক বড়, যা আমাদের রাস্তাগুলোর পারিপার্শ্বিকতাকে গোলমেলে করে দেয় এবং সমাজ বিরোধি আচরণজনিত কার্যকলাপকে আকৃষ্ট করে থাকে। আমাদের বাসিন্দারা বারার রাস্তায় এগুলো দেখতে চাননা এবং আমরাও চাইনা। আমি নিশ্চিত এই সিদ্ধান্ত ও উদাহরণ গোটা বারার ক্ষেত্রে ভালোভাবে গ্রহণ করা হবে।
গত বছরের এপ্রিল মাসে ৭টি ফোন কিয়স্ক (ফোনবুথ) স্থাপনের জন্য ইউরো পেফোন লিমিটেড নামের একটি কোম্পানী প্রথম আবেদন করে।

প্রস্তাবিত কিয়স্কগুলো ঐতিহ্যবাহি ফোন বক্সের তুলনায় অনেক বড়, তিন দিক বন্ধ, যার একদিকে রয়েছে বড় আকারের গ্লাসের প্যানেল। কোম্পানীর পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ফোন ব্যবহারকারীর জন্য নিছকই শেল্টার হিসেবে এই গ্লাস প্যানেল, কিন্তু অন্যত্র এই গ্লাস প্যানেলকে বড় ধরনের এডভার্টাইজিং পোস্টার প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করতে দেখা গেছে। আবেদন করার তিন মাস পর টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তা প্রত্যাখ্যান করে। ইউরো পেফোন কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্ল্যানিং ইন্সপেক্টরেটে আপিল করে।

প্ল্যানি ইন্সপেক্টর জিলিয়ান রান গত মাসে ফোন কিয়স্ক স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। গত সপ্তাহে আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়ে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেন এবং প্ল্যানিং অনুমোদন না দেয়ার কাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি প্রতিটি প্ল্যানিং আবেদন সরেজমিনে যাচাই করে দেখতে পান যে, প্রস্তাবিত ফোন কিয়স্কগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার সামগ্রিক অবয়বে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
এর আগে আরো ১৬টি আপিল আবেদন সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করার দুই মাস পর কাউন্সিলের প্ল্যানিং টিমের নতুন এই বিজয় অর্জিত হলো। পূর্বেকার আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান আশা করেছিলো ৮টি ইনলিঙ্ক প্যানেল স্থাপন করবে, যেখানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে। এসব প্যানেলে ওয়াই-ফাই ও ফ্রি ফোন কল সুবিধা থাকায় এগুলো অপরাধ ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সাথে জড়িতদের কাছে আকর্ষনীয় হয়ে ওঠে। মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িতরা ফ্রি কল সুবিধা গ্রহণ করছে বলে কাউন্সিল এবং পুলিশ প্রমানাদি সংগ্রহ করে। এছাড়া এসব ফোন বুথগুলো রাস্তা ও ফুটপাতগুলোকে বাধাহীন চলাচল এবং

প্রাণচাঞ্চল্যময় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে কাউন্সিলের হাইস্ট্রিট ও টাউন সেন্টার টীমের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলের কেবিনেট মেম্বার ফর প্ল্যানিং, এয়ার কোয়ালিটি এন্ড ট্যাকলিং পোভার্টি, কাউন্সিলর রেচেল ব্ল্যাক বলেন, ফোন কিয়স্ক স্থাপনে আগ্রহী কোম্পানীগুলোর প্রচেষ্টা সাফল্যের সাথে রুখে দেয়ায় আমি আমাদের প্ল্যানিং টিমের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি আশা করি এই সাফল্য তাদের জন্য এই বার্তা হবে যে, আমাদের রাস্তাগুলোকে নিরাপদ রাখতে এবং জনসাধারণ যাতে সহজেই চলাফেরা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করতে দ্বিধা করবো না

Leave a Reply

More News from এক্সক্লুসিভ

More News

Developed by: TechLoge

x