শোচনীয় পরাজয়ে হোয়াইটওয়াশই হলো টাইগাররা

Posted on by

স্পোর্টস ডেস্ক :: এমন বাংলাদেশের চেহারা অনেকদিন দেখেননি ভক্তরা। কিছুদিন আগেই নড়বড়ে থাকা শ্রীলঙ্কার সামনে একেবারে অসহায় হয়ে পড়লো বাংলাদেশ! তিন ম্যাচের সিরিজে একেবারে রীতিমত ধবল ধোলাই। তাও কোনো প্রতিরোধ না গড়ে। গতকাল শেষ ওয়ানডেতে ২৯৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে একমাত্র সৌম্য সরকার ছাড়া বাকি সবার ব্যর্থতায় ১৭২ রানেই গুটিয়ে গেছে তামিমবাহিনী। আর টানা তিন হারে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

কলোম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে জিততে পারে না বাংলাদেশ দল। এমন কথা প্রচলিত ছিলো এবং এবারের সফরেও সেটা টিকে রইলো। কেননা তিন ম্যাচের সিরিজে কোন ম্যাচেই জিততে পারলো না টাইগাররা। সাকিব, মাশরাফি ও লিটন দাসকে ছাড়া সিরিজ খেলতে গিয়ে একেবারে বিধ্বস্ত হলো বাংলাদেশ দল। পুরো সিরিজে মুশফিক, শফিউল ও সৌম্য সরকার ছাড়া আর কেউ নিজেদেরকে দেখাতে পারেননি।

শেষ ম্যাচে বল হাতে তিন উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও সর্বোচ্চ ৬৯ রানও এসেছে সৌম্যর কাছ থেকে। আর শেষ দিকে তাইজুল ইসলামের ব্যাট থেকে আসে ২৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রান। তাছাড়া আর কেউই রান পাননি। কাল ওপেনিংয়ে সৌম্যকে রেখে এনামুলকে নিয়ে নামেন তামিম। এনামুল ১৪ রান করলেও তামিম ফেরেন মাত্র ২ রানে। মুশফিক ব্যর্থ হয়ে ফেরেন ১০ রানে। আর সাকিবের স্থলাভিষিক্ত হতে চাওয়া মোহাম্মদ মিঠুন ব্যাক টু ব্যাক ফ্লপ। মাত্র ৪ রান করেন তিনি।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একটু সঙ্গ দিচ্ছিলেন সৌম্য সরকারকে। কিন্তু শানাকার বলে বিভ্রান্ত হয়েছেন রিয়াদও। ব্যাট যেনো শুনছেই না রিয়াদের কথা। ২৩ রানের জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ৯ রানে ফেরেন তিনি। সাব্বির কিংবা মিরাজ কেউই দলকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। ফলে বাংলাদেশও হেরেছে ১২২ রানে।

বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করে দুই খ্যাতিমান তারকাকে বিদায় জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গাকে বিদায় জানিয়ে প্রেমাদাসা রাঙিয়েছিলো। আর শেষ ম্যাচ জিতে সেটা নুয়ান কুলাসেকারাকে উৎসর্গ করেছে লঙ্কাবাহিনী। তিনিও ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন কয়েকদিন আগে। কাল বল হাতে লঙ্কানদের হয়ে জ্বলে ওঠেন শানাকা ও রাজিথা। দুজনের সঙ্গে যোগ দেন লাহিরু কুমারা। শানাকা ৩টি এবং রাজিথা ও কুমারা ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

আগের দুই ম্যাচের মতো সিরিজের শেষ ওয়ানডেতেও ব্যাটে-বলে একেবারেই যাচ্ছেতাই অবস্থা ছিলো বাংলাদেশের। বল হাতে একমাত্র তাইজুল ইসলাম ছাড়া বাকি সবার ইকোনোমি রেট ছিলো ৬ এর উপরে। সাব্বির ও মুশফিকের হাতে জীবন পেয়ে জ্বলে ওঠেন ম্যাথুস। করেন ইনিংসের সর্বোচ্চ ৮৭ রান। এছাড়াও কুশল মেন্ডিস ৫৪, দলনায়ক করুনারতেœ ৪৬, কুশল পেরেরার ৪২ রান করেন।

ঝড়ো ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কার রানকে ৩শ’র কাছাকাছি নেন শানাকা, হাসারাঙ্গা ও জয়সুরিয়া। তিনি ১৪ বলে করেন ৩০ রান। হাসারাঙ্গা ৫ বলে ১২ ও শেহান ৭ বলে ১৩ রান করেন।

Leave a Reply

More News from খেলাধূলা

More News

Developed by: TechLoge

x