হাজার হাজার মানুষের প্রাণোচ্ছল অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বৈশাখী মেলা ২০১৯

Posted on by


টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে এবারও হাজারো মানুষের প্রাণের উচ্ছলতায়, আনন্দ উল্লাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৈশাখী মেলা। ৩০ জুন রোববার পূর্ব লন্ডনের উইভার্স ফিল্ডে অনুষ্ঠিত মেলা উপলক্ষে বাংলাটাউন এবং ব্রিক লেন সহ গোটা এলাকা মেতে ওঠে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে।
দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে সর্ববৃহৎ মেলা হচ্ছে এটি।


সকালে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় দেশিয় বাদ্যযন্ত্র ও সুরের মূর্চ্ছনায় সব বয়সের শত শত মানুষের মিছিলে ছিলো বৃহদাকৃতির নৌকা, বাঘ ও কচ্চছপের প্রতিকৃতি। কাউন্সিলের আর্টস, পার্কস এন্ড ইভেন্টস টিমের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বৈশাখী মেলা ২০১৯ অতীতের চেয়ে আরো বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণ হয়েছে এবার।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস বলেন, বারার গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচির প্রধানতম অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এই মেলা। তিনি বলেন, এবারের বৈশাখী মেলাকেও সবার কাছে আকর্ষনীয় করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়। একদম নিজেদের আঙ্গিনায় বাংলার সেরা সঙ্গীত, শিল্প ও সংস্কৃতি উদযাপন ও উপভোগের সুযোগ পেয়েছেন বারার বাসিন্দা ও এখানে বেড়াতে আসা লোকজন।
এবারের মেলায় হাজারো দর্শকদের মাতাতে বাংলাদেশ থেকে আসেন এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ইমরান, লোকসঙ্গীত শিল্পী লাভলী দেব ও বেলি আফরোজ। আরো ছিলেন বিলাতের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী আলাউর রহমান, হাসি রানী, আমির মোহাম্মদ ও সুজানা আনসার, তরুণদের কাছে জনপ্রিয় আরবান স্টার নিশ। আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি অর্জনকারী ডান্স গ্রুপ নাজ এন্ড বলি ফ্লেক্স এর হাই-এনার্জী পরিবেশনায় নেচে ওঠে মাঠের হাজারো দর্শক।
মূল মঞ্চের অদূরে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষেরা স্বাস্থ্য ও সৃজনশীল নানা কার্যক্রমে অংশ নেন। সব বয়সীদের জন্য ছিলো গল্প বলার আসর, নাটক, কর্মশালা, কবিতা পাঠের আসর, দাবা প্রতিযোগিতা, ক্যারম খেলার আয়োজন ইত্যাদি। এছাড়া বাংলার ঐতিহ্যবাহি শাড়ি পড়ে সেলফি তোলার নতুন এক আয়োজন ছিলো ফ্যামিলি জোনে, যা কিশোরী তরুণীদের কাছে ভীষণ আকর্ষনীয় হয়ে ওঠেছিলো। কৃত্রিমভাবে তৈরী করা বটতলায় বসেছিলো লোক সঙ্গীতের আসর। ফ্যামেলী জোনে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদেরকে বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। মেহদী, ফেইস পেইন্টিং ইত্যাদিও ছিলো সেখানে।
সংস্কৃতি বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর সাবিনা আকতার বলেন, অত্যন্ত সমৃদ্ধ কৃষ্টি সংস্কৃতি উপভোগ করতে সকল নৃতাত্বিক পরিচয়ের সব বয়সী মানুষজনকে আবারো সপরিবারে একত্রিত করেছে এই মেলা। এরই সাথে শুরু হয়েছে বারার বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে উপভোগ করার গ্রীষ্মকালীন নানা কর্মসূচি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x