নিরীহ যুবককে থানায় ডেকে নিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দিলো আব্দুর রহমান(এসআই)

Posted on by

গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে এক যুবককে থানায় ডেকে নিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই যুবকের নাম কাউছার (২৭) সে পেশায় একজন রিকশাচালক।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই যুবকের বাবা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক আয়েস আলী। বুধবার দুপুরে আয়েস আলী সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাউছার যাত্রীদের প্রয়োজনে দূর-দূরান্তে রিকশা নিয়ে যান। গত ২০ জুন দিবাগত রাতে উপজেলার কাপাইশ গ্রামের মোন্তাজ উদ্দিন দর্জির ছেলে রাসেল দর্জিকে নিয়ে তিনি ছৈলাদি গ্রামে যান। পরে তাকে নিয়ে ফেরার পথে ওই গ্রামের তমিজ শেখের ছেলে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) বোরহান শেখ তাদের পথ আটকায়। এ সময় রাসেল দর্জির দেহ তল্লাসি করে ৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করে।

বিষয়টি জানাজানি হলে একই গ্রামের সফুর উদ্দিন শেখের ছেলে তাইজুল ইসলাম, মৃত সামছু শেখের ছেলে বাদল শেখ ও মফিজ উদ্দিন ওরফে বুইড্ডা শেখের ছেলে জয়নাল শেখ বিষয়টি সমঝোতা করেন। এ সময় চৌকিদার বোরহানকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখালে ইয়াবা রেখে সে তাদের ছেড়ে দেয়।

পরের দিন এ ঘটনায় সমঝোতাকারী তাজুলের বিকাশ নম্বরে ২ হাজার টাকা পাঠায় কাউছার। স্থানীয়রা বিষয়টি জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি গ্রাম পুলিশ সিদ্দিকের মাধ্যমে থানায় জানান। পরে ওইদিন রাতে থানার এসআই আব্দুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স ও দুই গ্রাম পুলিশ সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে রাসেলকে তার বাড়ি থেকে আটক করে।

পরেরদিন (২২ জুন) সকালে গ্রাম পুলিশ বোরহান কাইছারকে ফোনে ডেকে আনে এবং চৌকিদার বোরহানের কাছে রাখা ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রাম পুলিশ সিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু ওই রাতে ওই এসআই বাদী হয়ে থানায় ৪৪ পিস ইয়াবা দেখিয়ে কাউছারের নামে একটি মাদক (নং ২৩) মামলা দায়ের করেন।

পরদিন (২৩ জুন) সকালে রাসেলকে থার্টিফোরে এবং কাউছারকে মাদক মামলায় গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়। এদিকে পুলিশ রাসেলকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করলেও তাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয় তাকে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার দুর্বাটি গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে।

আয়েস আলী প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি গরীব এবং টাকা দিতে পারিনি বলে রাসেলের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবা দিয়ে আমার ছেলে কাউছারকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি ২ জুলাই এসপি ও ডিসি স্যারের কাছে অভিযোগ করেছি।’

এসআই আব্দুর রহমানকে থানায় না পেয়ে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা বিচ্ছিন্ন করেছেন।

এর আগে থানার ওসি মো. আবুবকর মিয়া স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে থানায় ডেকে নিয়ে ওই এসআইয়ের পক্ষে বলেন। ওই সময় তিনি রাসেলকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটকের কথা বলেন। কিন্তু রাসেলকে আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয় অন্য স্থানের কথা।

এ ব্যাপারে পরে আবার ওসি বলেন, ‘মামলার প্রয়োজনে পুলিশ যে কোন স্থানের কথা উল্লেখ করতে পারে। তাতে কোন সমস্যা নাই।’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x