দেশে জ্বল সংকটের কারণে বৃষ্টির দৃশ্য রাখতে চাইছেন না ভারতের পরিচালকরা?

Posted on by


তামিল সিনেমা, সে রোমান্টিক ছবি হোক বা থ্রিলার, বৃষ্টির দৃশ্য বহু ছবিতেই থাকে। কখনও মারপিটের সময়ে বৃষ্টি পড়ে, কখনও বা নায়ক নায়িকার নাচের মধ্যে ঝমঝমিয়ে নামে বৃষ্টি।
কিন্তু সে রাজ্যে যে তীব্র জলসঙ্কট শুরু হয়েছে, তারপরে অনেক পরিচালকই এখন মনে করছেন বৃষ্টির দৃশ্য শুট করে জল অপচয় করাটা অনুচিত।


কেউ ভাবছেন কম্পিউটার গ্রাফিক্স দিয়ে বৃষ্টির দৃশ্য তৈরি করতে, আর কোনও প্রযোজক আবার ওই একটা বৃষ্টির দৃশ্য শুট করার জন্যই বিদেশে টিম পাঠাচ্ছেন।
তামিলনাডুর রাজধানী চেন্নাইতে এক কলসী জলের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সেই জলও আসছে জলের ট্যাঙ্কে করে। পানীয় জলের হ্রদগুলো শুকিয়ে গেছে।
অন্যদিকে সিনেমায় বৃষ্টির একটা দৃশ্য শুট করার জন্য দরকার হয় এরকম বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার ভর্তি জল।
সাধারণ মানুষ যখন জলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন, তার মধ্যেই জল অপচয় করে বৃষ্টির দৃশ্য শুট করতে গিয়ে অনেক পরিচালক বিবেকের দংশনে ভুগতে শুরু করেছেন।
এবছর সব থেকে বেশি টাকা তুলতে পেরেছে ‘পেট্টা’ নামের যে সিনেমাটি, তার সহযোগী পরিচালক শ্রীনিবাসন বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “এটা খুবই ভাল একটা ভাবনা। কৃত্রিম বৃষ্টির যে দৃশ্য আমরা ছবিতে দেখাই, সেটা সহজেই কম্পিউটারের মাধ্যমে ভিস্যুয়াল এফেক্টস দিয়ে করা যায়। যদিও গ্রাফিক্স দিয়ে বৃষ্টির দৃশ্য তৈরির খরচা চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। তবুও ভবিষ্যতের কথা ভেবে জল অপচয় না করাই ভাল।”
তবে তিনি এটাও জানালেন যে তামিল ফিল্ম প্রোডিউসার্স কাউন্সিল এখনও এরকম কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয় নি যে বৃষ্টির দৃশ্য শুট করা যাবে না।
প্রযোজক জি ধনঞ্জয়নকে উদ্ধৃত করে টাইমস অফ ইন্ডিয়া লিখেছে, “তামিলনাডুর ইতিহাসে কখনও এত তীব্র জলকষ্ট হয় নি। এর থেকে ভবিষ্যতের জন্য আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমি তো বৃষ্টির দৃশ্য শুট করে জল নষ্ট করা বন্ধ করে দিয়েছি।”
টেলিভিশন প্রযোজনা সংস্থাগুলিও ধারাবাহিক নাটক বা রিয়্যালিটি শোগুলোতে বৃষ্টির দৃশ্য দেখানো বন্ধ করে দিয়েছে।
”বিগ বস” রিয়্যালিটি শোয়ের উপস্থাপক, প্রখ্যাত অভিনেতা কমল হাসান তার টিমের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন যে ‘বিগবস’ যে ভবনটির ভেতরে সেখানে সুইমিং পুল রাখা যাবে না আর জলের মিটার বসাতে হবে, যাতে প্রতিযোগিরা জলের অপচয় বন্ধ করেন।
চেন্নাইয়ের জলসঙ্কট নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতেরও।
লিওনার্দো দি ক্যাপ্রিও বিবিসির একটি প্রতিবেদন সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে লিখেছেন, “একমাত্র বৃষ্টিই চেন্নাই শহরকে রক্ষা করতে পারে।”
সেই বৃষ্টি অবশেষে এসেছে বুধবার রাতে। চেন্নাই শহর সহ পাশ্ববর্তী জেলাগুলিতে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে।
সমুদ্রের ধারের শহর চেন্নাইতে স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর বৃষ্টি হয়, কিন্তু গতবছর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ খুবই সামান্য। তার ফলে পরিশুদ্ধ জল সরবরাহ প্রকল্পের জলাধারগুলি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে।
যেটুকু সামান্য জল সরবরাহ করছে সরকার, তা ছাড়া কখনও সারা রাত জেগে ট্যাঙ্কারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে মানুষকে, কখনও দ্রুত ট্যাঙ্কার পেতে ঘুষও দিতে হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলি লিখছে।
অনেক অফিস তার কর্মীদের বাড়ি থেকেই কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে অফিসে জল খরচ না করতে হয়।
সিনেমা হল বা থিয়েটারগুলিতে জলবিহীন টয়লেট বসানোও শুরু হয়েছে।
BBC

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x