ভারতের আসাম রাজ্যে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে মুসলিমকে গণপ্রহার

Posted on by

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ৬৮ বছর বয়সী এক মুসলমানকে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে।
গণপ্রহারের পরে শওকত আলি নামে ওই ব্যক্তিকে শূকরের মাংসও খাওয়ানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন পুলিশের কাছে। পুলিশ বলছে, মাংস বিক্রির অভিযোগ আনা হলেও মি. আলির দোকানে কোন মাংস পাওয়া যায় নি।


ওই মুসলমান ব্যক্তি ছাড়াও একজন হিন্দুকেও ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মারধর করা হয়।
বিশ্বনাথ চরিয়ালি জেলার পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট রাকেশ রোশন বিবিসি বাংলাকে জানান, “রবিবার একটি বাজারে কিছু দুষ্কৃতি শওকত আলিকে মারধর করে এই অভিযোগ তুলে যে তিনি নাকি রান্না করা গোমাংস বিক্রি করছিলেন। বাজারের ম্যানেজার কমল থাপাকেও মারা হয়।”
এই ঘটনার ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


ভিডিওতে সাদা দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, তার কাপড় ছেঁড়া এবং কাদামাখা। চারপাশে একদল লোক, তারা উত্তেজিত গলায় প্রশ্ন করছেন, যে তার মাংস বিক্রির লাইসেন্স আছে কিনা, তিনি বাংলাদেশী কিনা, তার নাম জাতীয় নাগরিকপঞ্জীতে আছে কিনা ইত্যাদি।
ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় একটি বাজারে গত রোববার। বাজারের ইজারাদার কমল থাপাই নাকি গরুর মাংস বিক্রির অনুমতি দিয়েছিলেন – এ অভিযোগে তাকেও মারধর করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা মি. রোশন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছলেই দুষ্কৃতিরা সবাই পালিয়ে যায়।
“আমরা গোমাংস কেন, কোনও ধরনের মাংসই মি. আলির খাবারের দোকানে খুঁজে পাই নি।”
ওই দুজনকে পুলিশ উদ্ধার করার পর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশী চলছে।
মি. রোশন বলেন, “গরুর মাংস বিক্রি করুক বা না করুক, তাকে মারধর করার অধিকার কারো নেই। আর এটাকে কোনও বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ঘটানো সেটাও বলা যায় না, কারণ একজন হিন্দুকেও মারা হয়েছে।”
ভারতের অনেক রাজ্যে এখন গরু জবাই বা মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ , তবে আসামে গবাদিপশু জবাই করার জন্য পশুপালন দফতরের একটা অনুমোদন দরকার হয়। সাধারণত ১৪ বছরের বেশি বয়স্ক বা ‘স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারানো’ পশুই জবাইয়ের অনুমতি দেয়া হয়।

BBC

More News from আন্তর্জাতিক

More News

Developed by: TechLoge

x