পরমাণু চুল্লি বানিয়ে ফেলেছে সৌদি আরব

Posted on by

তলে তলে এতদূর চলে যাবে সৌদি আরব কেউ তা জানতেও পারেনি এতদিন! রাজধানী রিয়াদের কিং আবদুল আজিজ শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি পরমাণু চুল্লি বানিয়ে ফেলেছে সৌদি আরব। ‘গুগল আর্থ’-এর উপগ্রহ চিত্রে সম্প্রতি তা ধরা পড়েছে। সেই ছবি প্রকাশও করা হয়েছে। আর তার পরেই তা জানতে পেরেছে পরমাণু শক্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কেন গোপনে ওই পরমাণু চুল্লি বানাচ্ছে সৌদি আরব? কী তার উদ্দেশ্য? কেন এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধায়ক সংস্থাকে আগেভাগে কিছুই জানায়নি সৌদি সরকার? রিয়াদে তড়িঘড়ি পরিদর্শক পাঠানোর দাবি উঠেছে মার্কিন কংগ্রেসে।

বৃহস্পতিবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল আর্থের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ওই পরমাণু চুল্লি বানানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেই চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছে দেয়ার জন্য একটি বড় মাপের ‘ভেসেল’ বা পাত্রও বানিয়ে ফেলা হয়েছে। রিয়াদে গিয়ে সৌদি আরবকে সেই ভেসেলটি বানিয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘ইনভ্যাপ সে’। ভেসেলটির উচ্চতা ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট। ব্যাস ২ দশমিক ৭ মিটার। আর্জেন্টিনা অবশ্য এ ধরনের ভেসেল অনেক দেশকেই বেচেছে। আইএইএতে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি রাফায়েল মারিয়ানো গ্রস্সি বলেছেন, ‘আমরা ভেসেল বানিয়ে দিয়েছি, ডাক পেয়েছিলাম বলেই। চলতি বছরের শেষের দিকেই চুল্লিটি কার্যক্ষম হবে। তবে সেই ভেসেলে কতটা ইউরোনিয়াম মজুদ করতে পারবে, সে ব্যাপারে আইএইএর সঙ্গে কঠোর চুক্তি করতে হবে সৌদি সরকারকে। মেনে চলতে হবে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন।’ উপগ্রহের পাঠানো ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সৌদি সরকার অবশ্য চুপ করে থাকেনি। খবরটিকে ঢাকা-চাপা দেয়ারও চেষ্টা করেনি। সৌদি আরবের জ্বালানি শক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গবেষণা ও শিক্ষামূলক কাজের জন্যই ওই পরমাণু চুল্লি বানানো হচ্ছে। তার জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তির শর্ত মেনেই চুল্লি বানানো হচ্ছে।’ কিন্তু গবেষণা ও শিক্ষামূলক কাজের জন্য পরমাণু চুল্লি চালাতে ইউরেনিয়ামের মতো পারমাণবিক জ্বালানির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু গুগল আর্থের উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছ, চুল্লিতে জ্বালানি পৌঁছে দেয়ার জন্য যে ভেসেল বা পাত্র বানিয়েছে রিয়াদ, তা ইউরেনিয়ামের জন্যই।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো পরমাণু চুল্লিই একদিনে বানিয়ে ফেলা যায় না। প্রস্তুতি ও নির্মাণকাজ নিয়ে অন্তত ৫-৭ বছর সময় লাগে। অথচ এ ব্যাপারে এতদিন অন্ধকারেই ছিল আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধায়ক সংস্থাটি। আইএইএর সাবেক কর্মকর্তা রবার্ট কেলি বলেছেন, ‘উপগ্রহের পাঠানো ওই সব ছবি পরমাণু চুল্লির সম্ভাবনাই জোরালো করে তুলেছে।’ ইরানের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার আগ্রহ দেখে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান অবশ্য গত বছরই পরমাণু বোমা বানানোর হুমকি দিয়েছিলেন। গুগল আর্থ সেই নির্মীয়মাণ পরমাণু চুল্লির ছবি সবার জন্য প্রকাশ করার পর থেকেই আলোড়ন শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সিকে (আইএইএ) সবকিছু জানাতে বাধ্য থাকে। যে কোনো পরমাণু চুল্লি বানানোর আগে তার নকশা, উদ্দেশ্য, মেয়াদ, ক্ষমতা, সবকিছুই আইএইএকে জানাতে বাধ্য থাকে চুক্তিবদ্ধ পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো।
Jugantor

More News from আন্তর্জাতিক

More News

Developed by: TechLoge

x