পশ্চিমা কোন নির্বাচনে ১৫ শতাংশের বেশি ভোট কাস্ট হয়? বিএনপির উদ্দেশে প্রশ্ন হানিফের

Posted on by

বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, আইনের শাসন বলবেন আবার বিচার হলে বিচার মানবেন না- এই ধরনের দ্বৈত নীতি থেকে সরে আসতে হবে।

রোববার বিকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এক সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘ইনোভেশন অ্যান্ড কমার্সিয়ালাইজেশন ইন দ্য ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন পার্সপেকটিভ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটি।
হানিফ বলেন, ৪০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি থাকলে একটা স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয়। আমরা যদি বলি, পশ্চিমা দেশের কোন নির্বাচনে কী ১২ শতাংশ, ১৫ শতাংশের বেশি ভোট কাস্ট হয়?

তিনি বলেন, ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হলে তাদের ওখানে অনেক ভোট হিসাব করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনমুখী সেহেতু এখানে ভোট কাস্টিংটা একটু বেশি হয়। সেই হিসেবে ৪৫ শতাংশ যথেষ্ট। আমরা বিএনপিকে বলতে চাই, আপনারা নির্বাচনে অংশ নেন নাই কেন? আপনারা নির্বাচনে অংশ নিলেই তো ভোটের কাস্ট আরও বেড়ে যেত। আপনারা চান অধিক সংখ্যক ভোটার আসুক আবার নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
তিনি বলেন, আপনারা একদিকে বলেন আইনের শাসনের কথা, আরেকদিকে যখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আদালত কর্তৃক অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে থাকেন আপনারা তখন বলেন তাকে মুক্ত করা হবে। আপনাদের আসলে কথা এবং কাজের মধ্যে মিল নেই। কী চান আপনারা সেটা নিজেরা জানেন না।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, যদি আমাদের দেশে বিএনপি-জামায়াতের মতো নেতিবাচক রাজনৈতিক দল না থাকতো, তাদের কর্মকাণ্ড না থাকলে আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। আজকে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা, সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ভালো কাজকে বাধাগ্রস্ত করে দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করাই হচ্ছে এই দলটির কাজ। আজকে তারা একটি দিশাহীন রাজনৈতিক দল হয়ে গেছে। নেতা সঠিক যদি না থাকে, নেতৃত্ব যদি সঠিক না থাকে তাহলে সেই দল বা দেশ কখনো ভালোভাবে এগুতে পারে না।
তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ পযায়ের নেতারা দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের কারণে কারাগারে এবং দেশের বাইরে পলাতক। নেতৃত্বহীন এই দল। ব্যর্থ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ নেতাদের দিয়ে আর যাই হোক সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। যার কারণে বিএনপি নামক দলটি আজকে অন্ধকারের গর্তের দিকে চলে গেছে। তারা আজকে রাস্তায় নেই। তারা রাস্তা হারিয়ে অন্ধকার গর্তের দিকে চলে যাচ্ছে।
হানিফ বলেন, ব্যর্থতা থেকে সরকারের দিকে আক্রমণাত্মক কথা বলে নিজেদেরকে বাচিয়ে রাখতে চায়। আমাদের দেশের জনগণ এখন অনেক সচেতন হয়েছে। জনগণ এখন এই ধরণের সন্ত্রাসের, এই ধরণের দুর্নীতিবাজদের নেতৃত্বের কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশের মানুষ চায়, যে দুর্নীতি করেছে সেই দুর্নীতিবাজরা কারাগারে থাকুক। যে সন্ত্রাস করেছে সেই সন্ত্রাসীরা কারাগারে থাকুক তাদের বিচার হোক এটা এই দেশের মানুষ দেখতে চায়।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ দেশের মানুষ একবারই স্বপ্ন দেখেছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আস্থা রেখে। দ্বিতীয়বার জাতি আবার স্বপ্ন দেখছেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে। সেই স্বপ্ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলার।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসলো, ১৯৯৩ সালে সাবমেরিন ক্যাবলের কানেকটিভির জন্য বিনা পয়সার অফার করা হয়েছিল। এমন তাদের অজ্ঞতা ছিল সেই সময়ের বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালকদের যে তারা এই বিনা পয়সায় এই কানেকটিভিটি তারা নেয় নাই। তখন বলেছিল যে, গোটা বিশ্বের সঙ্গে যদি আমরা সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করি তাহলে বাংলাদেশের সব গোপন তথ্য পাচার হয়ে যাবে।
হানিফ বলেন, এই যে অজ্ঞতা আমাদেরকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছিল। সেই সাবমেরিন ক্যাবল কানেকশন আমাদের নিতে হয়েছিল ১৯৯৬ সালে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরেই উনি এটার গুরুত্ব অনুধাবন করেই এই সাবমেরিন ক্যাবল কানেকশন নিয়েছিলেন। প্রথমে বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা পয়সায় দেওয়ার অফার ছিল। পরে আমাদের অনেক অর্থ ব্যয় করে এই কানেকশনটা নিতে হয়েছিল। আজকে প্রমাণ হয়েছে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই সময়ের সিদ্ধান্তটা দেশের জন্য কতগুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার (খালেদা জিয়া) শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে তার একটা জ্ঞানের ঘাটতি ছিল সেই কারণে এটা তিনি নিতে চান নাই।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা ওঠে। যেমন ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে অনেক কথা উঠছে। আমাদের ইলেকশন কমিশন বলেছেন- ইভিএম পদ্ধতি চালু করবেন। আমরা কিন্তু ইভিএম পদ্ধতি চালু করতে বলেছিলাম। কেন বলেছিলাম? বাংলাদেশে যদি গত ১০০ বছরের নির্বাচনের ইতিহাস পযালোচনা করে দেখা যায় প্রত্যেকটা নির্বাচনের পরেই পরাজিত প্রার্থী বা পরাজিত দল অভিযোগ করে, ব্যালট পেপার জাল, ব্যালট পেপার চুরি হয়- এই ধরণের অভিযোগ কিন্তু সব সময় উত্থাপন করে আসছে।
আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. হোসন মনসুরের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাহফুজুল ইসলাম প্রিন্স।
Jugantor

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x