আপাতত ব্রেক্সিট বাদ:২৯ মার্চ ইইউ ছাড়চে না ব্রিটেন

Posted on by

নিউজ লাইফ লন্ডন ডেস্ক :: সুশৃঙ্খল ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে এখনও বদ্ধপরিকর ব্রিটেন। কিন্তু পরিস্থিতি এমনই জটিল যে এত অল্প সময়ে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাবে না। এই কথা জানিয়ে গত বুধবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ককে একটি দু’পাতার চিঠি লিখেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। চিঠির শেষে জুড়ে দিলেন আর্জি— ‘‘আরও তিন মাস, অর্থাৎ ৩০ জুন পর্যন্ত ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হোক। ব্রিটেন কথা দিচ্ছে, ৩০ জুনের পরে ইইউ ছাড়তে আর এক দিনও দেরি করবে না।’’

প্রধানমন্ত্রী মে’র দাবি শর্ত সাপেক্ষে মেনে নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অর্থাৎ ২৯ মার্চ ইইউ ছাড়চে না ব্রিটেন ।

শর্ত হচ্ছে :
১) ৩০ জুনের পরিবর্তে ব্রিটেন কে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগ করার (ব্রেক্সিট) সময় সীমা ২২ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে । তবে আগামী সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে সংসদে নতুন বিল উপস্থান করবেন , যা সর্ব সম্মতি ক্রমে পাস্ হতে হবে। যদি এবারও প্রধানমন্ত্রী মে হেরে যান সেক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনকে বেরিয়ে যাবার উপায় কি এ ব্যাপারে ইইউ কে ১২ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে হবে।
২) চলতি বছরের মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন। যদি ব্রিটেন ঐ নির্বাচনে অংশ ন্যায় সেক্ষেত্রে ব্রেক্সিট কার্যকর আরো বিলম্ব হতে পারে।

তিন বছর আগে ব্রিটেনে এক গণভোটের পরে ব্রেক্সিটের দিন ধার্য হয়েছিল এ বছরের ২৯ মার্চ। কিন্তু দিন যত এগিয়েছে, বোঝা গিয়েছে, ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে সব দলের এমপিদের সহমত হওয়া এত সহজ নয়। তাই তাঁর ব্রেক্সিট চুক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিলমোহর পেয়ে গেলেও পার্লামেন্টের ঘরোয়া ভোটাভুটিতে বারবার হারতে হয়েছে টেরেসাকে।
সেই কথাই ডোনাল্ড টাস্ককে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তারিখ উল্লেখ করে করে জানিয়েছেন, কী ভাবে বারবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তাঁর চুক্তি খারিজ হয়ে গিয়েছে। তবে একই সঙ্গে টেরেসা উল্লেখ করেছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে সায় নেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের। এবং এই অবস্থায় ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়াই যে ঠিক হবে, সেটাও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে ঠিক হয়েছে। দেশের এমপিদের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত পেয়ে টেরেসা তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আর্জি জনান , আরও তিন মাস পিছিয়ে দেওয়া হোক ব্রেক্সিট।

মূল সমস্যা কোথায়

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের পর উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের মধ্যে অবাধে পণ্য এবং মানুষের যাতায়াত অব্যাহত রাখা নিয়ে যে আপত্তি … তবে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থায় সেই সীমান্ত পিছিয়ে চলে যাবে আইরিশ সাগরে। … ব্রিটেন ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলেও তার অংশ উত্তর আয়ারল্যান্ড ইইউর আইনের কাঠামোর মধ্যেই থেকে যাচ্ছে, এটা হতে পারে না।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী মে’র নতুন ব্রেক্সিট বিল ব্রিটিশ সংসদে পাস্ হবার সম্ভাবনা একেবারে নেই বলা যায়। ব্রেক্সিট বিরোধী ক্যাম্পাইনে ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ সাক্ষর জমা পড়েছে। প্রতি মুহূর্তে এ স্বাক্ষরের পরিমান বেড়েই চলেছে।
সবমিলিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে আছেন মহাবিপদে

More News from আন্তর্জাতিক

More News

Developed by: TechLoge

x