বাংলাদেশ সেন্টারের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

Posted on by

লন্ডন : বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের উদ্যোগে মুক্তিযাদ্ধা সম্মাননা এবং নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহন উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্টারের নেতৃবন্দসহ লন্ডনের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নিম্নে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার
সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ,
ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডন’র পক্ষ থেকে আপনাদেরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে, এ বছর আমাদের মহান স্বাধীনতার ৪৮ বছর পূর্তি। বিষয়টি জাতি হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব পালনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির একটি গৌরবজনক অধ্যায়।এ অধ্যায়ের মহানায়ক হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বীরত্ব গাঁথা ইতিহাসের রচয়িতা হচ্ছেন বাংলাদেশের জনগণ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে “অপারেশন সার্চ লাইট” নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, দীর্ঘ ৯ মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নির্বিচারে বাংলার বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু যে কোন মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মূহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার সংগ্রাম ও আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে এই বিলেতে। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে যুক্তরাজ্যে আন্দোলন ও সংগ্রাম । প্রবাসী বাংলাদেশীরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে এ আন্দোলনে যুক্ত হন। গড়ে তোলা হয় মুক্তিযুদ্ধের স্টিয়ারিং কমিটি । এ কমিটির নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেন্টারের সাথে যুক্ত বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ যুক্তরাজ্যে গড়ে ওঠা আন্দোলনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন ও অর্থ তহবিল সংগ্রহে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জল এ ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সেন্টার গৌরবান্বিত। বাংলাদেশ সেন্টারের সাথে সম্পৃক্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যুক্তরাজ্যের সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানাতে এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন, সেই সাথে নব নির্বাচিত ম্যানেজমেন্ট কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান আগামী ৩১ মার্চ রবিবার বিকাল ৫ টায় পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সি ব্যাংকুটিং হলে জাকজমকপূর্ণ ভাবে আয়োজন করার সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানটির ব্যাপক প্রচার ও সফল করার জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্মানিত সাংবাদিকদের সর্বাত্মক সাহায্য ,সহযোগিতা ও উপস্হিতি কামনা করছি।

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ,
আপনাদের মাধ্যমে অবগত করতে চাই – বাংলাদেশ সেন্টারের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ ও সময়ের স্বল্পতার কারণে এবার সমগ্র যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মহান সকল সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করতে না পারার জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বিষয়টি আমাদের মহান সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধারা অনুধাবন করবেন এবং ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। বাংলাদেশ সেন্টারের একটি পরিকল্পনা আছে আগামীতে সমগ্র যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মহান সকল সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিশাল পরিসরে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা অনুষ্ঠান আয়োজন করার। এ ব্যাপারে আমরা সকলের সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করবো।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
বাংলাদেশ সেন্টারের সেন্ট্রাল লন্ডনের ২৪ প্রেমব্রিজ গার্ডেনের এ ভবনটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বহু স্মৃতি বিজড়িত । এ ভবনটি থেকে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ২৭ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। যুদ্ধকালীন সময় এখানে বসেই বাংলাদেশ স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনের কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এ ভবনটিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্তোলন করা হয়। বহির্বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা হিসেবে ছিল এটি সর্বপ্রথম । ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এ ভবনটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সেন্টারের এ ভবন আমাদের পূর্ব পুরুষের সূদুরপ্রসারী চিন্তা-চেতনার ফসল। সেন্ট্রাল লন্ডনের চেলসি এন্ড কেনসিংটন বারায় অবস্হিত এ ভবনটি বাংলাদেশের গৌরবের পতাকা বহন করে।এ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় আমাদের মুরুব্বীয়ানরা যে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন, এজন্য তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এটি এখন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঐতিহ্য , গৌরব ও মর্যাদার অন্যতম প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শতবছরের পুরনো এই লিষ্টেড বিল্ডিংটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি , এ বছরের মধ্যে সেন্টারের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশ সেন্টারের এ অগ্রযাত্রার পেছনে বাংলাদেশ হাইকমিশন, আমাদের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, স্থায়ী সদস্য, আজীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্যসহ কমিনিউটির সর্বস্তরের জনগণের সার্বিক সাহায্য, সহযোগিতা ও সমর্থন ছিল উল্লেখ করার মতো। আমরা ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ ,
আপনারা কষ্ট করে আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্হিত হওয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অতীতে সেন্টারের বিভিন্ন কার্যক্রমে আপনাদের সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছি। আগামীতেও সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনা করতে আপনাদের সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা পাব এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

More News from কমিউনিটি

More News

Developed by: TechLoge

x