ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও ব্যর্থতা

Posted on by

ক্রীড়া ডেস্ক : টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরুর পরেও নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দল অলআউট হয়েছে মাত্র ২৩৪ রানে। তামিম ইকবালের ১২৬ রানব্যতীত বাকি দশজন মিলে করেছেন মাত্র ১০৮ রান। ব্যাটিংয়ের এই ব্যর্থতা যেনো বোলিংয়েও চলছে সমানতালে।

ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের কোনো পরীক্ষাই নিতে পারেননি টাইগার বোলাররা। উইকেটশূন্য ছিলো প্রথম সেশন। দ্বিতীয় সেশনে পড়ে মাত্র ১টি উইকেট। শেষ সেশনে মন্দের ভালো তিন উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।

তবে দিন শেষে বিস্তৃত হাসিটা নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ঠোটেই। কেননা ম্যাচের দ্বিতীয় দিনেই যে তার দল এগিয়ে গিয়েছে ২১৭ রানে, হাতে রয়েছে ৬টি উইকেট। অধিনায়ক নিজে অপরাজিত রয়েছেন ৯৩ রানে। সেঞ্চুরি করেছেন দুই ওপেনার জিত রাভাল এবং টম লাথাম।

ব্যর্থ ছিলেন ব্যাট হাতে, হতাশ করেছেন ফিল্ডিংয়েও। কিন্তু বল হাতে যেনো তিনিই হয়ে উঠলেন দলে হাসি বা স্বস্তি ফেরানোর মাধ্যম। সবার আগে তার প্লেয়িং রোল ব্যাটসম্যান, ফিল্ডিংটাও করেন বেশ দারুণ। অথচ যখন ব্যর্থ হলেন এ দুটিতেই তখন বল হাতে চমক দেখালেন ডানহাতি পেসার সৌম্য সরকার।

পুরো বাংলাদেশ দল যেখানে ব্যাটিং করেছে মাত্র ৫৯.২ ওভার, সেখানে নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটিই স্থায়ী ছিলো ৬৯.৫ ওভার। দ্বিতীয় উইকেটেও ধারা বজায় রেখেছিলেন ওপেনার টম লাথাম ও কেন উইলিয়ামসন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন বিশাল লিডের পথে।

যে লাথামের ক্যাচ ছেড়ে করেছিলেন অপরাধ, বল হাতে সে লাথামকে ফিরিয়েই আংশিক দায়মোচনও করেছেন সৌম্য। আংশিক বলা হচ্ছে কারণ শূন্য রানে জীবন পাওয়া লাথাম যে থেমেছেন নামের পাশে ১৬১ রান নিয়ে। লাথামের পর রস টেলরকেও ফিরিয়ে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মুখে স্বস্তির হাসি এনে দিয়েছেন সৌম্য।

বাংলাদেশ দল স্বস্তিটা পেতে পারত ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় বলেই অভিষিক্ত এবাদত হোসেন স্লিপে ক্যাচ বানিয়েছিলেন কিউই ওপেনার টম লাথামকে। সেটি রাখতে পারেননি সৌম্য সরকার। জীবন পেয়ে যান লাথাম, অক্ষত থাকে উদ্বোধনী জুটি।

সে জুটি পরে খেলেছে আরও ৬৮.৩ ওভার। সবমিলিয়ে ৬৯.৫ ওভার! দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টার এ জুটিতেই বাংলাদেশ দলের করা ২৩৪ রান টপকে গেছে স্বাগতিকরা। এগুতে শুরু করেছে বিশাল লিডের পথে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের চার বিরতি পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩২৬ রান। লিড এরই মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে ৯২ রানে।

আগের দিনের অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের জুটিটি দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনেরও প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন দুই ওপেনার জিত রাভাল এবং টম লাথাম। পুরো বাংলাদেশ দল যেখানে খেলেছে ৫৯.২ ওভার, সেখানে ে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানই ইনিংসে থেকেছেন ৬৯.৫ ওভার।

দুজনের জুটিতে আসে ২৫৪ রান। একপর্যায়ে যখন মনে হচ্ছিলো এ জুটি আর ভাঙা সম্ভব না তখনই বল হাতে জাদু দেখান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনিংসের ৭০তম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই ফিরিয়ে দেন জিত রাভালকে।

শুরু থেকে দারুণ সচ্ছন্দ্যের সঙ্গে খেলছিলেন রাভাল। কিন্তু পার্টটাইমার রিয়াদ আক্রমণে আসার পর আর লোভ সংবরণ করতে পারেননি তিনি। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন মিড উইকেটে দাঁড়ানো খালেদ আহমেদের হাতে।

তবে আউট হওয়ার আগে নিজের কাজটি ঠিকই করে ফেলেছেন রাভাল। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে খেলেছেন ১৩২ রানের ইনিংস। ২২০ বলের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১৯ চার ও ১ ছক্কার মারে। তার বিদায়ে দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়েন লাথাম ও উইলিয়ামসন।

এ জুটিতে আসে আরও ৭৯ রান। যখন চোখের সীমানায় দেখা যাচ্ছিলো বাঁহাতি ওপেনার টম লাথামের ডাবল সেঞ্চুরি, তখন আবারও দৃশ্যপটে হাজির সৌম্য। এবার আর খলনায়ক নয়, পুরোপুরি নায়ক হয়ে, টম লাথামকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে, নিজের ক্যাচ ছাড়ার ‘দায়মোচন’ করে।

১ উইকেটে ৩২৬ রান নিয়ে চা বিরতিতে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। বিশ মিনিটের বিরতিটিই যেনো ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটালো লাথামের। বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই সৌম্য সরকারের করা অফস্টাম্পের বাইরের নিরীহ দর্শন ডেলিভারিতে ব্যাট ছুঁইয়ে ধরা পড়েছেন ওয়াইড স্লিপে দাঁড়ানো মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে।

যে কারণে ডাবল সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও লাথামকে থামতে হয় ১৬১ রানে। ২৪৮ বলের ইনিংসে ১৭টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা হাঁকান তিনি। এর আগে দ্বিতীয় দিন সকালে হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। প্রতি ওভারেই একটি-দু’টি বাউন্ডারিতে যেনো টেস্টের মধ্যেই ওয়ানডে ব্যাটিং শুরু করে দেন টম লাথাম, কেন উইলিয়ামসনরা।

উদ্বোধনী জুটিতে ২৫৪ রান করার পর চা বিরতি পর্যন্ত দ্বিতীয় উইকেটেও অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৭২ রান যোগ করে ফেলেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন এবং টম লাথাম। মাত্র ৩৬ বল থেকে ৩২ রান করে চা বিরতিতে যান উইলিয়ামস। ওপেনার লাথামের সংগ্রহ তখন ১৫৬ রান।

চা বিরতির পরপরই লাথাম ফিরে যাওয়ার পর উইকেটে আসেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রস টেলর। পিচে যার স্থায়িত্বকাল ছিলো মাত্র ৬ ওভার। সৌম্য সরকারের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে লাইন মিস করে লেগ বিফোরের ফাঁদে ধরা পড়েন টেলর। আউট হওয়ার আগে ১৯ বলে ৪ রান করেন তিনি।

দ্রুতই লাথাম-টেলরের বিদায়ের পর হাল ধরেন উইলিয়ামসন এবং নিকলস। দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন পাক্কা ১০০ রান। দুজনই তুলে নেন নিজেদের হাফসেঞ্চুরি। দিনশেষের দুই ওভার আগে মিরাজের ওভারে বোল্ড হওয়ার আগে ৫৩ রান করেন নিকলস। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ব্যাট হাতে আসেন নেইল ওয়াগনার।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x