জীবনমুখী মানুষকে খোদামুখী করার অনন্য মারকাজ চরমোনাই

Posted on by


পলাশ রহমান
ইতালি থেকে

বরিশালে গিয়েছিলাম এক বন্ধুর বাড়ি, বিয়ের দাওয়াত খেতে। ‘বরিশাইল্যাগো’ আপ্যায়ন যারা কোনো দিন দেখেনি তাদের বলে বোঝানো যাবে না- বরিশাইল্যা আতিথেয়তা কাকে বলে!

সুতরাং সে চেষ্টা না করে লেখার মূলপ্রসঙ্গে প্রবেশ করতে চাই- তখন চরমোনাইর মাদরাসায় ফালগুনের মাহফিল চলছিলো। মনোস্থির করলাম মাহফিলে যাবো। দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি সমাবেশের এতকাছ থেকে ফিরে যাওয়া ঠিক হবে না।

কিন্তু বন্ধুদের বলতেও সাহস পাচ্ছিলাম না। এমনিতেই বন্ধু মহলে আমার ভিষণ রকমের দূর্নাম আছে- আমি নাকি সব সময় ‘ধাইনো হাটে ওঁল নামাই’।

সবাই যখন বিয়ের আমুদে ব্যস্ত আমি তখন বুদ্ধি করছি কীভাবে মাহফিলে যাওয়া যায়। ভয়ে ভয়ে আমাদের দলনেতা ওয়াহিদুজ্জামান রিপন ভাইকে জানালাম আমার মনোবাসনা। তিনি এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন। বললাম, আমার কারণে অন্যরা বিরক্ত হবে নাতো?

রিপন ভাইর সব থেকে বড় গুণ হলো আমার কোনো কথায় দ্বিমত করেন না। বিশেষ করে আমার কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেরি, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে তিনি একটুও সময় নেন না। রিপন ভাই বললেন, আমরা হগলে যামু। হগলডিরে লৈয়া যামু।

আমি নিশ্চিন্ত হলাম। আমাদের সাথে ছিলেন খুলনার এক মসজিদের ইমাম এবং আমাদের বন্ধু মইন ভাই। তার উৎসাহ আরো বেশি।

তিনি বললেন, আমিও মনে মনে ভাবছিলাম মাহফিলে যেতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু বলতে সাহস পাচ্ছিলাম না। আরেক বন্ধু খুলনার এক মহিলা কলেজের প্রফেসর রবিউল ইসলাম ভাই। তিনিও কোনো আপত্তি করলেন না। বললেন, চরমোনাই মাহফিলের গল্প অনেক শুনেছি। দেখে যেতে পারলে খারাপ হয় না।

আমাদের গ্রুপের প্রায় সবাইকে রাজি করিয়ে ফেললেন রিপন ভাই, শুধু একজন বেঁকে বসলেন। তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিরাজুল ইসলাম ভাই। সাফ জানিয়ে দিলেন, খুলনায় তার ব্যবসায়িক কাজ আছে, কোনো মতে সময় বের করতে পারবেন না। প্রয়োজন হলে তার ব্যক্তিগত গাড়ি রেখে যেতে রাজি আছেন, কিন্তু খুলনায় তাকে যেতেই হবে।

আমরাও নাছোড় বান্দা। সে না গেলে কেউ যাবো না। এরমধ্যে ইমাম মইন ভাই মাহফিলে যাওয়ার ফজিলত সম্পর্কে কিছুটা বয়ান করলেন, কিন্তু কাজ হলো না। তার পাথর হৃদয় একটুও গলানো সম্ভব হলো না।

চূড়ান্ত গুলিটা ছুড়লেন রিপন ভাই। বললেন, ‘গুল্লিমারি তোর গাড়ির’। সকালে আমরা সবাই চরমোনাই যাবো। সারাদিন সেখানে থেকে দরকার হলে রাতেই খুলনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবো। (বেচারা মিরাজ ভাই, গাড়ি রেখে যাওয়ার কথা বলেই অধিক মাত্রায় ফেঁসে গেলেন!)

গত বছরের (২০১৮) মার্চ মাসে দেশে গিয়েছিলাম। আব্বার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। অনেক বছর পরে সব ভাই-বোন এক জায়গায় হয়েছিলাম। সে সময়ই বরিশালে যাওয়া বন্ধুর বাড়িতে। রাতে সব বন্ধুরা মিলে বিয়ে বাড়িতেই ছিলাম। সারা রাত বেশ জমা করেছি। সকালে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী নাস্তা রসের পায়েশ খেয়ে, বরিশাইল্যা বন্ধু এবং আওয়ামী লীগ নেতা কবির ভাই এবং বিএনপি নেতা তৌহিদ ভাইকে বিয়ে বাড়ির ব্যস্ততায় রেখে আমরা রওয়ানা করি চরমোনাই উদ্দেশ্যে।

স্পিটবোর্ট ঘাটে দেখা হয়ে যায় ইসলামি যুব আন্দোলন খুলনা মহানগরের সভাপতি শেখ ইসমাইল হোসেন ভাইর সাথে। তিনিও মাহফিলে যাচ্ছেন। আমরা তার ভাড়া করা বোর্টে চড়ে বসলাম। প্রাকৃতিক নৈস্বর্গ দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম চরমোনাইর মাহফিলে।

একদিন আগে মাহফিল শুরু হয়েছে। আমরা গিয়েছি দ্বিতীয় দিনে। আরেক দিন পরে আখেরি মোনাজাত হবে। সময়ের অভাবে মোনাজাত পর্যন্ত থাকা সম্ভব হয়নি। ওই দিন রাতেই আমরা খুলনার উদ্দেশ্যে ‘বাংলার ভেনিস’ বরিশাল ত্যাগ করি।


অনেক সময় ঘুরে ঘুরে মাহফিল দেখলাম। লাখ লাখ মানুষ। গিজগিজে মানুষ। সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত সাধারণ মানুষের সংখ্যাই বেশি। বেশ কিছু যুবককেও দেখলাম। আগবাড়িয়ে তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলাম। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। তাদের বেশির ভাগই এসেছেন প্রথম বারের মতো।

জানাগেলো মোট ৫টা মাঠে চটের সামিয়ানা ফেলে মাহফিলে আগতরা অবস্থান নিয়েছেন। এর বাইরেও অনেকে আছেন- খোলা আকাশের নিচে, নদীর ঘাটে বেঁধে রাখা লঞ্চে, আশপাশে আত্মীয় পরিচিতজনদের বাড়িতে।

আমাদের পক্ষে ৫টি মাঠ ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি। একটি মাঠ দেখতে দেখতেই পা ব্যাথা হয়ে যায়। ইসমাইল হোসেন ভাই আমাদের নিয়ে যান ইসলামি যুব আন্দোলনের অস্থায়ী কার্যালয়ে। তখন যুব আন্দোলনের মিটিং চলছিল। আমরা ওই রুমের এক পাশে বিশ্রাম করছিলাম। কেউ একজন আমার হাতে মাহফিলের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত একটা ট্যাবলয়েড পত্রিকা দিয়ে গেলেন। আমি সেটায় নাক ডুবিয়ে বসে থাকলাম।

যুব আন্দোলনের মিটিং শেষ হলে যুব নেতা নেছার উদ্দিন ভাই আমাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। বেরুনোর আগে একজনকে বললেন, ফেসবুকে ঘোষনা করে দাও- রাতে মদিনা হোটেলে আড্ডা হবে। সাংবাদিক, লেখক, সংস্কৃতিকর্মীদের আড্ডা। কিন্তু আমার দূর্ভাগ্য, সে আড্ডায় থাকা সম্ভব হয়নি।

আমরা প্রথমে গেলাম পীর সাহেব সৈয়দ রেজাউল করিমের সাথে দেখা করতে। তিনি তখন মাহফিলের মূল স্টেজের দিকে যাচ্ছিলেন। সম্ভবত ওলাম সম্মেলন অথবা ছাত্র সম্মেলনে বক্তৃতা করার জন্য। এ সময় এক ঝলক কুশল বিনিময় হয় আমাদের মধ্যে।

দিনটা ছিল শুক্রবার। জুমার আজানের পর নেছার উদ্দিন ভাই আমাদের নিয়ে গেলেন স্টেজের পেছনে, অতিথিশালায়। সেখানে বসেই কথা হয় ইসলামি আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমেদের সাথে। ইসমাইল হোসেন ভাইর সাথে দেখলাম তার বেশ খাতির। দুজনে কী যেনো গল্প করলেন অনেক সময়। এর মধ্যে জুমার খুৎবা শুরু হলো। পীরে কামেল সৈয়দ ফয়জুল করিম দীর্ঘ বক্তৃতা করলেন রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে।

নামাজের পর অনেক অতিথি সাথে নিয়ে মেহমানশালায় প্রবেশ করলেন যুব সমাজের প্রাণপুরুষ সৈয়দ ফয়জুল করিম। এক এক করে আমার সব বন্ধুদের সাথে পরিচিত হলেন। অনেক গল্প করলেন।

বিকালে গেলাম মুজাহিদ কমিটির কার্যালয়ে। সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ মোখতার হুসাইন আমাদের আপ্যায়ণ করলেন আপেল, আঙ্গুর এবং কমলা লেবু দিয়ে। সাথে চা বিস্কুটও ছিল। অনেকক্ষণ কথা হলো ডাক্তার সাহেবের সাথে। এই মানুষটার অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কাছে আমি বরাবরই কৃতজ্ঞ হয়ে যাই। এবারও ব্যতিক্রম হলো না।

সারাদিনে আরো অনেকের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। খুলনার মুজাহিদ কমিটির সেক্রেটারী মুফতি মাহবুব ভাই, শিল্পী আবুল কালাম আজাদ ভাইসহ অনেকের সাথে কুশল বিনিময় হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের কার্যালয়েও অনেকের সাথে দেখা হয়েছে।

ছাত্রদের স্টল থেকে চিন্তুাযুদ্ধ নামে একটা বই কিনেছিলাম। বইটার রিভিউ লেখার ইচ্ছা ছিল, অলসতার কারনে হয়ে ওঠেনি। তবে এখানে ছোট করে বলে রাখি- চিন্তুাযুদ্ধ বইটাকে অসাধারণ একটা তথ্যকোষ বলা যায়। লেখক যে অনেক পরিশ্রম করেছেন তা সহজেই বোঝা যায়। বইটা ফের প্রকাশের আগে ভালো কাউকে দিয়ে সম্পাদনা করিয়ে নিলে লেখায় টুকটাক যে দূর্বলতা আছে তা পুশিয়ে যাবে আশা করি।

মাগরিবের নামাজের পর আমরা মাঠে বসে পীর সাহেবের বয়ান শুনি। মানুষের জীবন দর্শন এবং মৃত্যু পরবর্তি জিন্দেগি বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন। কবর আজাবের বয়ান যখন করছিলেন, আমার কাছে মনে হলো গোটা মাঠ খৈর মতো ফুটছে। চারদিক থেকে ভেসে আসছিলো মানুষের কান্নারোল।

জীবনকে পরিশুদ্ধ করার, সৃষ্টিকর্তার করুনা পাওয়ার সে কী আকুতি মানুষের মধ্যে, না দেখলে বোঝা যাবে না। সত্যিই জীবনমুখী মানুষকে খোদামুখী করার এক অনন্য মারকাজ চরমোনাইর মাহফিল। এর আধ্যাতিকতা বলে বোঝানো অসম্ভব।

আমি এখানে একটা কথা বলে রাখতে চাই- যারা চরমোনাই মাহফিলের সমালোচনা করতে চান তারা একবার নিজের চোখে দেখে আসুন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আপনার সমালোচনা অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে। গ্রহণযোগ্য হবে।

পীর সাহেব ভক্ত মুরিদদের হাততুলে ওয়াদা করতে বললেন, নির্বাচনের সময়ে হাতপাখায় ভোট দেয়ার জন্য। আমার বন্ধুদেরও দেখলাম হাত উঁচু করতে।


মাহফিলের কিছু কিছু বিষয় আমার ভালো লাগেনি। যে কথাগুলো আমি আগেও বিভিন্ন সময়ে লিখেছি। মুজাহিদ কমিটির কার্যালয়ে ডাঃ মোখতার হুসাইন সাহেবের সাথে কথা বলার সময়েও বলেছি- মাহফিলের মধ্যে মিছিল বন্ধ করা উচিৎ। এতে মাহফিলের অধ্যাতিকতা নষ্ট হয়। অনেক মানুষ কষ্ট পায়। নিজের চোখে দেখেছি, ছাত্ররা যুবকরা হুড়হুড় করে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় অনেক বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষ কষ্ট পায়। অনেকের গায়ে ঠেলাধাক্কা লাগে। যা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য হয় না।

মাহফিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বড় ব্যানার টানিয়ে যৌনরোগসহ হাবিজাবি ওষুধ বিক্রির বিজ্ঞাপন চোখে পড়েছে। যা চরমোনাইর মাহফিলের সৌন্দর্য নষ্ট করে।

আমি মনে করি মরহুম পীর সাহেব সৈয়দ এছহাক রহ. এর নামে তাবিজ বিক্রি বন্ধ করে দেয়া উচিৎ। অনেক বছর হয়ে গেছে, এখন আর ওই কথিত তাবিজ বিক্রির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করি না। এতে মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ছোট ছোট বিষয়গুলোই মানুষের ধারনা বদলে দেয়।

মাহফিলটাকে আরো বেশি পরিবেশ বান্ধব করা দরকার। পলিউশন কমানো দরকার। চলাচল সহজ করা দরকার। মাহফিলে আগতদের কেউ মারা গেলে লাশ সংরক্ষনের জন্য বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা থাকা দরকার। স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পানির বেপারে মানুষকে সচেতন করা দরকার। অস্থায়ী হোটেল রেস্তোরাগুলোর খাবারের মান এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকা দরকার।

মাহফিলের নিরাপত্তা এবং শৃংক্ষলা একেবারেই সন্তষজনক মনে হয়নি। এত মানুষের সমাগমে যে পরিমানে নিরাপত্তা এবং শৃংক্ষলা থাকা দরকার তাতে ঘাটতি আছে। এর জন্য দক্ষ এবং শিক্ষীত কর্মীবাহিনি গড়ে তোলা দরকার। নিয়ম শৃংক্ষলা রক্ষায় নিয়জিতদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। সময় উপযোগী করা দরকার।

সর্বোপরি বিনয়ী হওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে, ওখানে যারা যায় তারা সবাই দীনপ্রত্যাশী। তাদের সাথে রুখ্য ব্যবহার কোনো বিবেচনায়ই গ্রহণযোগ্য নয়।
সারাদিনে আরো অনেকের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। খুলনার মুজাহিদ কমিটির সেক্রেটারী মুফতি মাহবুব ভাই, শিল্পী আবুল কালাম আজাদ ভাইসহ অনেকের সাথে কুশল বিনিময় হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের কার্যালয়েও অনেকের সাথে দেখা হয়েছে।

ছাত্রদের স্টল থেকে চিন্তুাযুদ্ধ নামে একটা বই কিনেছিলাম। বইটার রিভিউ লেখার ইচ্ছা ছিল, অলসতার কারনে হয়ে ওঠেনি। তবে এখানে ছোট করে বলে রাখি- চিন্তুাযুদ্ধ বইটাকে অসাধারণ একটা তথ্যকোষ বলা যায়। লেখক যে অনেক পরিশ্রম করেছেন তা সহজেই বোঝা যায়। বইটা ফের প্রকাশের আগে ভালো কাউকে দিয়ে সম্পাদনা করিয়ে নিলে লেখায় টুকটাক যে দূর্বলতা আছে তা পুশিয়ে যাবে আশা করি।

মাগরিবের নামাজের পর আমরা মাঠে বসে পীর সাহেবের বয়ান শুনি। মানুষের জীবন দর্শন এবং মৃত্যু পরবর্তি জিন্দেগি বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন। কবর আজাবের বয়ান যখন করছিলেন, আমার কাছে মনে হলো গোটা মাঠ খৈর মতো ফুটছে। চারদিক থেকে ভেসে আসছিলো মানুষের কান্নারোল।

জীবনকে পরিশুদ্ধ করার, সৃষ্টিকর্তার করুনা পাওয়ার সে কী আকুতি মানুষের মধ্যে, না দেখলে বোঝা যাবে না। সত্যিই জীবনমুখী মানুষকে খোদামুখী করার এক অনন্য মারকাজ চরমোনাইর মাহফিল। এর আধ্যাতিকতা বলে বোঝানো অসম্ভব।

আমি এখানে একটা কথা বলে রাখতে চাই- যারা চরমোনাই মাহফিলের সমালোচনা করতে চান তারা একবার নিজের চোখে দেখে আসুন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আপনার সমালোচনা অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে। গ্রহণযোগ্য হবে।

পীর সাহেব ভক্ত মুরিদদের হাততুলে ওয়াদা করতে বললেন, নির্বাচনের সময়ে হাতপাখায় ভোট দেয়ার জন্য। আমার বন্ধুদেরও দেখলাম হাত উঁচু করতে।


মাহফিলের কিছু কিছু বিষয় আমার ভালো লাগেনি। যে কথাগুলো আমি আগেও বিভিন্ন সময়ে লিখেছি। মুজাহিদ কমিটির কার্যালয়ে ডাঃ মোখতার হুসাইন সাহেবের সাথে কথা বলার সময়েও বলেছি- মাহফিলের মধ্যে মিছিল বন্ধ করা উচিৎ। এতে মাহফিলের অধ্যাতিকতা নষ্ট হয়। অনেক মানুষ কষ্ট পায়। নিজের চোখে দেখেছি, ছাত্ররা যুবকরা হুড়হুড় করে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় অনেক বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষ কষ্ট পায়। অনেকের গায়ে ঠেলাধাক্কা লাগে। যা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য হয় না।

মাহফিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বড় ব্যানার টানিয়ে যৌনরোগসহ হাবিজাবি ওষুধ বিক্রির বিজ্ঞাপন চোখে পড়েছে। যা চরমোনাইর মাহফিলের সৌন্দর্য নষ্ট করে।

আমি মনে করি মরহুম পীর সাহেব সৈয়দ এছহাক রহ. এর নামে তাবিজ বিক্রি বন্ধ করে দেয়া উচিৎ। অনেক বছর হয়ে গেছে, এখন আর ওই কথিত তাবিজ বিক্রির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করি না। এতে মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ছোট ছোট বিষয়গুলোই মানুষের ধারনা বদলে দেয়।

মাহফিলটাকে আরো বেশি পরিবেশ বান্ধব করা দরকার। পলিউশন কমানো দরকার। চলাচল সহজ করা দরকার। মাহফিলে আগতদের কেউ মারা গেলে লাশ সংরক্ষনের জন্য বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা থাকা দরকার। স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পানির বেপারে মানুষকে সচেতন করা দরকার। অস্থায়ী হোটেল রেস্তোরাগুলোর খাবারের মান এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকা দরকার।

মাহফিলের নিরাপত্তা এবং শৃংক্ষলা একেবারেই সন্তষজনক মনে হয়নি। এত মানুষের সমাগমে যে পরিমানে নিরাপত্তা এবং শৃংক্ষলা থাকা দরকার তাতে ঘাটতি আছে। এর জন্য দক্ষ এবং শিক্ষীত কর্মীবাহিনি গড়ে তোলা দরকার। নিয়ম শৃংক্ষলা রক্ষায় নিয়জিতদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। সময় উপযোগী করা দরকার।

সর্বোপরি বিনয়ী হওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে, ওখানে যারা যায় তারা সবাই দীনপ্রত্যাশী। তাদের সাথে রুখ্য ব্যবহার কোনো বিবেচনায়ই গ্রহণযোগ্য নয়।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x