ইন্টারনেট বন্ধ নয়, বেশি ইউজারের কারণে ধীরগতি হয়েছে-প্রধানমন্ত্রী:/নির্বাচনের আগে ও পরে ৩৭ ঘন্টা ইন্টারনেট বন্ধ ছিল-বিটিআরসি

Posted on by

নিউজ লাইফ লন্ডন ডেস্ক : নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ বা ধীরগতি করা হয়নি, অনেক বেশি ইউজারের কারণে এটা এমনিতেই ধীরগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সন্ধ্যায় গণভবনে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন, বাংলাদেশ তথ্য ও প্রযুক্তিতে উন্নত হয়েছে, কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে ইন্টারনেট ডাউন কেন করা হয়েছিলো, এতে মিডিয়াকর্মীদেরও সংবাদ পাঠাতে বেশ কষ্ট হয়েছে…?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগণিত মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। আমার তো মনে হয় অনেক ব্যবহার করলে ইন্টারনেট এমনিতেই স্লো হয়ে যায়। এটা ইউজারের কারণে হতে পারে। আপনি যখন নেটে গিয়েছিলেন তখন হয়তো ইউজার বেশি থাকার কারণে সমস্যা হয়েছে।

৩০ দেশের পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনা এই মন্তব্য করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।


এদিকে রোববার একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে শনিবার দুপুর থেকেই মোবাইল ইন্টারনেটের ফোর জি ও থ্রি জি সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে মধ্যরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরগুলোকে টু জি ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়। ভোটের দিন শেষে মধ্যরাত (৩১ ডিসেম্বর প্রথম প্রহর-০০.০১ আওয়ার) পর্যন্ত এই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখতে বলেছে তারা।

এর ফলে শনিবার রাত ১১টার পর থেকে মোবাইল গ্রাহকরা সম্পূর্ণরূপে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন।

এর আগে শনিবার বিকাল ৩টার পর থেকে ফোর জির ভয়েস ও ডেটা এবং থ্রি জির ডেটা সেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বলে বিটিআরসি।

একটি মোবাইল অপারেটরের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করছেন এবং রাত ১১টার পর থেকে টু জি ইন্টারনেটও বন্ধ রয়েছে।

ইন্টারনেট বন্ধের কারণ ব্যাখ্যায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে ও গুজব প্রতিরোধে’ সরকারের নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সারা দেশে ২৯৯ আসনে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের দিন পেরিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট পাওয়া যাবে না।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেটে ফোর জি ও থ্রি জি সেবা বন্ধ রাখা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় খোলার পর শনিবার দুপুর পর্যন্ত তা চলছিল।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে গত নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ১৮ লাখের বেশি; এর মধ্যে ৮ কোটি ৬০ লাখ গ্রাহক মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হককে মোবাইলে ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x