‘ডিসেম্বরের মধ্যেই সংসদ নির্বাচন করতে চায় ইসি’

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্কঃ এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে চাই।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ডিসেম্বরের কোন সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে— সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, কোন সপ্তাহে হবে, সেটা এখনও বলতে পারছি না। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে— এ প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি আমাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ১ তারিখ সময় দিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। এরপর বৈঠকে বসবে কমিশন। পরে তফসিল ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একজন নির্বাচন কমিশনার (মাহবুব তালুকদার) দেশের বাইরে আছেন। উনি দেশে ফিরলে সবাই বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা তফসিল ঘোষণা করবেন বলে জানান তিনি।

ইসি সচিব স্বীকার না করলেও এর আগে ইসির একাধিক কমিশনার এবং একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ৪ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে ওই দিন সিইসির জাতীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালকের কাছে ইসি দফতর থেকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, আগামী ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আগামী ৪ নভেম্বর ইসির কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই দিনই সভা শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর ৪ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হলে ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে, অর্থাৎ ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর— এই তিন দিনের যেকোনো একদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুপারিশ অনুযায়ী গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করা সম্ভব না হলে বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটি সংশোধন করা হবে বলে জানিয়ে ইসি সচিব জানান, ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর কমিশন সভায় একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করবেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও আশাবাদ জানান তিনি।

ইসি সচিব বলেন, আরপিও সংশোধনের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। আমরা সবশেষ যে খবর পেয়েছি, এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের পর সেটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে, যেন এটি পূর্ণাঙ্গ একটি আইনে রূপ লাভ করতে পারে।

ইসি সচিব বলেন, আশা করছি এই সংসদে এটা পাস হবে। পাস না হলে সংসদের অবর্তমানে যে নিয়ম (অধ্যাদেশ) থাকে, সেটি কার্যকর হবে। আমাদের যে মূল আইন (আরপিও) আছে, সেটাও আধ্যাদেশের মাধ্যমে করা হয়েছিল। তাই সংসদে সম্ভব না হলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটি সংশোধন করা যেতে পারে। পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশনে এটা আইনে পরিণত হতে পারে।‘তবে আমরা এখনও আশা করছি, এটি চলতি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। যেহেতু সংসদ ২৯ তারিখ পর্যন্ত চলবে, সেখানেই এটি পাস হওয়ার সম্ভবনা আছে— বলেন ইসি সচিব।

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, কিছুটা ব্যবহার তো করাই হবে। এসময় আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে আট বিভাগীয় শহরে ইভিএম মেলা শুরু হবে বলে জানান তিনি।ইসি সচিব বলেন, ইভিএমে খুব সহজেই ভোট দেওয়া যায়। স্মার্ট কার্ড না থাকলেও এনআইডি কার্ডের নম্বর দেওয়ার পর আঙুলের ছাপ দিলেই ভোট দেওয়া যাবে।

ইভিএমে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোট দিয়ে দিতে পারেন, এর ফলে অপব্যবহারের সুযোগ আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটার সুনির্দিষ্ট হলে সেই ভোটারের আঙুলের ছাপ মেশিনে গ্রহণ করলে সহায়তা (অ্যাসিস্ট) করার জন্য একটি অপশন আছে। অন্ধ ব্যক্তি ভোট দিতে এলে তিনি নিজে ভোট দিতে পারেন না। তার ভোট দেওয়ার জন্য ভোটগ্রহন কর্মকর্তার অ্যাসিস্ট করার একটি বিধান আছে। সেখানে কোনো অপব্যহারের সুযোগ নেই। কারণ সেখানে প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট— সবাই থাকবেন।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x