ভোটে যাওয়া-না যাওয়া নির্ভর করে সরকারের আচরণে: বিবিসি বাংলাকে মির্জা ফখরুল

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্কঃ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলখানায় রেখে বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে কি না এটা সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি জানান,খালেদা জিয়ার মুক্তি তাদের প্রথম ও প্রধান দাবি।নির্বাচন বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আসেনি।লন্ডন সফররত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।ফখরুল মনে করেন,খালেদা জিয়াকে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ মনে করে এবং একারণেই তাকে ‘নির্বাচন থেকে,রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে’ রাখার প্রচেষ্টা সবসময়ই নেওয়া হচ্ছে।

‘ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলেও এই একই চেষ্টা করা হয়েছিল।কিন্তু জনগণের চাপে তারা তখন সফল হতে পারেনি।আজকে আবার দুঃখজনক-ভাবে সেদিন যারা ‘মাইনাস টু’ তত্ত্বের শিকার হয়েছিল তারাই আবার চেষ্টা করছে ‘মাইনাস ওয়ান’ অর্থাৎ খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য।’

খালেদা জিয়াকে জামিন না দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন,একটি তৈরি করা মিথ্যা মামলায় তাকে যেভাবে জেলে নেওয়া হয়েছে,সেটাকে ধরেও বলা যায় যে পাঁচ বছরের যেকোনো সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার সঙ্গে সঙ্গে তার জামিন হয়ে যায়।কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক খালেদা জিয়ার বেলায় সেটা হয়নি। সরকার এখানে একটা প্রতিপক্ষ হয় চতুর্দিকে প্রভাব বিস্তার করছে।’

ফখরুল মনে করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক সংকট চলছে তার পেছনে ‘একমাত্র কারণ হচ্ছে সরকারের সহনশীলতার অভাব।তিনি বলেন,প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার তাদের যে চেষ্টা এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।সরকারের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী, গণতন্ত্রের জন্যে যিনি সংগ্রাম করেছেন তাকে জেলে আটকে রেখে সেই সমস্যার সমাধান হবে না।’

খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের হতে না দিলে এই সমস্যা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। ‘খালেদা জিয়া জেলে থাকুন আর জেলের বাইরে থাকুন,তিনিই বিএনপির নেত্রী।তিনি যেখানেই থাকুন না কেন এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেবেন।

খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না এই প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,নির্বাচনে যাবো কি যাবো না সেটা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করছে সরকারের আচরণের ওপর।নির্ভর করবে দেশের মানুষের আচরণের ওপর।সুতরাং এবিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ আসেনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে যদি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়,জনগণের ভোট দেওয়ার অবস্থা তৈরি হয়,রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রচার প্রচারণা চালাতে দেওয়া হয় তখন বিএনপি এবিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।ফখরুল বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হবে।বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে।সরকারকে সেনা মোতায়েন করতে হবে।এবং সকল দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন,এসব তো শুধু আমাদের কথা নয়।সবাই বলছে।সকল রাজনৈতিক দলের কথা।ড. কামাল হোসেন,বি চৌধুরী,আ স ম আব্দুর রব,মাহমুদুর রহমান মান্না যারা আমাদের সাথে জোটে নেই তারাও এই প্রস্তাবের কথা বলছেন।এবং মাঝে মাঝে তাদের লোক এরশাদ সাহেবও একথাগুলো বলছেন। –বিবিসি বাংলা

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x