‘প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে পাসপোর্টই সব নয়’

Posted on by

নিউস লাইফ ডেস্ক :: প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রবাসীদের এনআইডি পেতে পাসপোর্টধারীরা সুবিধা পাবেন। তবে এটি পেতে পাসপোর্টই সব নয়, এরসঙ্গে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিতে হবে। আর এ কার্যক্রম আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা যেহেতু স্বল্পসময়ের জন্য দেশে আসেন। তাই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রপ্রাপ্তি এবং ব্যবহারে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেজন্য আমরা দেশে এবং বিদেশে সব জায়গায় ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করছি। তারই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলা, জেলা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে আমরা চিঠি দিয়েছি প্রবাসীরা যেন কোনো রকম হয়রানি ছাড়া, বিলম্ব ছাড়া তাদের কাজগুলো করতে পারেন।

সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের ভোটার করতে গিয়ে রোহিঙ্গা বা কোনো বিদেশি নাগরিক যেন এটার সুযোগ নিয়ে এর অপব্যবহারটা না করতে পারে সেটিও লক্ষ্য রাখছি।

যারা প্রবাসে আছেন। তাদের দেশে আসতে কষ্ট হয় বা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই তাদের এই সার্ভিসটা কিভাবে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় আমরা পৌঁছে দিতে পারি। সেজন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। এরই অংশ হিসেবে আমরা সেমিনারেরও আয়োজন করেছি যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন কোন কোন দেশে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কাজ করা হবে তার প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। এ জন্য আমাদের বিভিন্ন টিম গঠন করছি। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা একটি হাইলেভেল টিম যাবো। সেটার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দুয়েকটি দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষ এগুলো পরিচালিত করবো।

সেখানে কি ধরনের সার্ভার স্থাপন করতে হবে, সেই সার্ভারের সঙ্গে মূল সার্ভারের লিঙ্কাপটা কি হবে, ডেটাটা এখান থেকে কিভাবে সেন্ট করবো এবং সেই ডেটার সঙ্গে আমাদের কানেক্টিভিটি উপজেলা পর্যায়ে কিভাবে হবে, সেই কানেক্টিভিটির সাথে আমাদের উপজেলা পর্যায়ে যে ভেরিফিকেশন সেই ভেরিফিকিশনগুলো আমরা কিভাবে করবো এবং তারপরে ফাইনালী অ্যাফিস ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে নাগরিককে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তার এনআইডিটা প্রিন্ট করে প্রবাসে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে কার্ডগুলো পৌঁছে দেবো। আমাদের এই প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো চলছে বলেন সাইদুল ইসলাম।

প্রাথমিকভাবে পরীক্ষমূলকভাবে কয়টি দেশে এ কার্যক্রম চালু করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দুয়েকটি দেশে শুরু করবো। যাতে করে সেখান থেকে কি কি সমস্যা হচ্ছে, সেগুলো কিভাবে সমাধান করা যায়, সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেই তারপর ব্যাপকভাবে আমরা শুরু করবো।

এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টটা কতটুকু গুরুত্ব পাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাসপোর্টতো অবশ্যই গুরুত্ব পাবে। যারা প্রবাসী তারা পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। কিন্তু এই পাসপোর্টই কিন্তু সবকিছু না। কিছুদিন আগেও কিন্তু একটা রিপোর্ট এসেছে যে, বেশকিছু সংখ্যক লোক যারা রোহিঙ্গা অথবা অন্যকেউ। তারা হয়তো আমাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট যেকোনোভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে বসবাস করছে। সুতরাং একজন পাসপোর্ট দিলেই যে বলে দেবো সে বাংলাদেশের নাগরিক সেটা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব হবে না। কারো পাসপোর্ট থাকলে সে বাড়তি সুবিধা পাবে। তবে তার রুট খুঁজতে হবে। সে যে স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা দেবে। সেই ঠিকায় তাকে শণাক্তকারীর এনআইডি নম্বর দিতে হবে। সেটিও চিহ্নিত করা হবে। আমরা একেবারে রুট লেভেলে খোঁজ নিয়ে দেখবো যে, সে আসলে আমাদের দেশের নাগরিক কি না। কারণ কোনো রোহিঙ্গা কোনো না কোনোভাবে একটি পাসপোর্ট সংগ্রহ করলো এবং এটি দিয়ে সে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে গেলো এটা তো হতে পারে না। তাই আমরা যেকোনো প্রবাসীর যে ডকুমেন্টগুলো দেওয়ার কথা সেগুলো দেবে এবং সেই সাথে বাংলাদেশে তার স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানা কোথায় আছে সেটি ভেরিফিকেশন করবো এবং যদি মনে হয় যে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার যোগ্য তাহলে তাকে দেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে পাসপোর্টকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

কবে নাগাদ পরীক্ষমূলক কার্যক্রম শুরু করতে চাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বলা কঠিন। এখন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোন টিমগুলো আমরা কিভাবে পাঠাবো। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়তো জুলাই মাস থেকে আমরা ‍এ কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। তবে কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x