বাংলাদেশের পাওনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জনগণ জানতে চায়: মির্জা ফখরুল

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্ক  ::  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কলকাতা সফরে বাংলাদেশের পাওনা ও দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন কিনা জনগণ তা জানতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান বিরোধী দলকে দমনের উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকরারের ৯ বছরেও তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেছেন। সেখানে তিনি শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেছেন। জনগণের প্রশ্ন, আমাদের যে পাওনা ও সমস্যাগুলো রয়েছে তা সম্পর্কে তিনি কথা বলেছেন কিনা। আমরা এখনও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা পাইনি। যদিও আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বলেছিল, তিস্তা চুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তাই নয়, অভিন্ন ১৫৮টি যে নদী রয়েছে, সেগুলোর পানি বণ্টনেরও চুক্তি হয়নি। অথচ ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি হচ্ছে। সীমান্তে প্রতিনিয়ত আমাদের মানুষ হত্যা হচ্ছে, সে বিষয়ে চুক্তি হচ্ছে না, কিন্তু ট্রানজিট হয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন বন্দর নির্মিত হচ্ছে। আমরা অবশ্যই কানেক্টিভিটির পক্ষে। একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সংযোগ স্থাপনের পক্ষে। তবে তার বিনিময়ে কী পাচ্ছি তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।’

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। গুলশানের একটি হোটেলে এ আয়োজন করা হয়।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আওয়ামী লীগের দাবির কাছ নতি স্বীকার করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের তল্পিবাহক এই কমিশন নির্বাচনি বিধি সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি প্রচারণার সুযোগ করে দিয়েছে। যা নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে এতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে না। এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি ইসি। আশা করি, তারা এ বিধিটি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগেও এ ইসির পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছি, এখনও করছি। সরকার তাদের দলীয় লোক দিয়ে এ কমিশন গঠন করেছে। এ কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কমিশনের পুনর্গঠন দাবি করছি।’

চলমান মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু বিরোধী দলকে দমনের জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। আগেও বলেছি, নিজের ঘর পরিষ্কার করুন। নিজের ঘরেই অনেক মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে।’ সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখে সরকার নির্বাচন করতে চায় বলে তাকে জামিন দিচ্ছে না মন্তব্য করে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্য খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচনের বাইরে রাখা। তাকে বাদ দিয়ে এ দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। আমরা বলেছি, বিএনপি ও ২০ দলকে বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, আওয়ামী লীগ জনগণকে বোকা বানিয়ে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। গোটা জাতির সামনে একটাই প্রশ্ন–কবে এই সরকারকে দায়িত্ব থেকে সরাতে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব। সেজন্য আমরা ২০ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। একইসঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান করেছি–আসুন, আমরা একটিমাত্র প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হই। সেটি হচ্ছে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সব দল ও জনগণের অংশগ্রহণে একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা। যা সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। আজ এ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন কলাকৌশল গ্রহণ করছে।’

ইফতারে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী ও ২০ দলীয় জোটের দলগুলোর নেতারা অংশ নেন।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x