রাজীবের দুই ভাইকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদেশ স্থগিত

Posted on by

নিউজ ডেস্কঃ রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর প্রাণ হারানো রাজীবের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রায় স্থগিত চেয়ে বিআরটিসির করা আবেদন নিষ্পত্তি করে মঙ্গলবার (২২ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

একইসঙ্গে একটি তদন্ত করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ওই কমিটিকে দুর্ঘটনার জন্য কে কতটুকু দায়ী তা নির্ধারণ করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে হাইকোর্ট দুই ভাইকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে।

আদালতে স্বজন পরিবহনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু ও বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ বি এম বায়েজিদ। অপরদিকে রাজীবের পরিবারের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে ক্ষতিপূরণ বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিআরটিসির করা আবেদনের উপর আপিল বিভাগে সোমবার শুনানি শেষ হয়। সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ আদালত এই আদেশ দিলেন। গত ৮ মে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজীবের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেন।

রায়ে বলা হয়- ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন। প্রতিষ্ঠান দুটি ২৫ লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা আগামী এক মাসের মধ্যে যৌথ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রাজীবের পরিবারকে দিতে হবে। টাকা পরিশোধের পর আগামী ২৫ জুনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।গত ১০ মে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে বিআরটিসি।

গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারান ছাত্র রাজীব। দুই বাসের চাপায় তার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেয়া হয়। পরদিন ৪ এপ্রিল রাজীবের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। ১৩ দিন চিকিৎসার পর ১৬ এপ্রিল মধ্যরাতে সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন রাজীব।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতকে। কখনও টিউশনি করে, কখনও বা পার্টটাইম কাজ করে নিজে পড়াশোনা করেছেন এবং দুই ভাইকেও বানিয়েছেন কোরআনের হাফেজ।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x