পুলিশি চাপের মুখে খুলনায় কাজ করতে চাচ্ছেন না এজেন্টরা: নজরুল

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ চাপের মুখে পড়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের পূর্ব নির্ধারিত বিএনপির এজেন্টরা বিভিন্ন অজুহাতে কাজ করতে চাচ্ছেন না। এতে করে দলটির এজেন্টদের তালিকা পরিবর্তন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

আজ রোববার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, নারী পুলিশরা নারী এজেন্ট ও পুরুষ পুলিশরা পুরুষ এজেন্টদের ধমক দেয় যাতে করে তারা ঠিক মতো কাজ না করে। আমাদেরকে এখন এজেন্টদের তালিকা চেঞ্জ করা লাগছে। চাপের মুখে পড়ে ইচ্ছে করে এজেন্টরা বলছে, ‘আমি অসুস্থ হয়ে পড়ছি, আর পারব না’। এতে করে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে কিছু পুলিশি কার্যক্রম। গণ গ্রেপ্তার চলছে। আমরা নির্বাচন কমিশনে গত দিন বলে যাওয়ার পরেও এভাবে ক্রমাগত গ্রেপ্তার হচ্ছে এবং মনে হচ্ছে এই গ্রেপ্তার আরো বেড়ে গেছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, সেদিন আমরা নির্বাচন কমিশনে এসে কমিশনারদের বলেছিলাম, পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করছে, লোকজনকে বকাবকিসহ হয়রানি করছে। সেদিন নির্বাচন কমিশন বলেছিল, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বির্বাচন কমিশন থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা নেই এই দৃষ্টান্ত পাওয়া মুশকিল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে মামলা আছে ৩৫টি। মহাসচিবের নামে মামলা আছে ৮৮টি। আগের পুরোনো কোনো মামলা হয়তো জামিনে আছে কিংবা সেই মামলার কোনো চার্জশিট হয়নি। অথচ এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে, এদেরকে কিভাবে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখা যায় এবং নির্বাচনী কার্যক্রম কিভাবে বন্ধ করা যায় সেই ব্যবস্থা করা। আমাদের যে সব নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাদের কারো বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। তবু তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, শুধু গতকাল ২১ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা মহানগরের নেতা, খুলনার নেতা, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও অঙ্গ দলের নেতা। এবং গত রাত থেকে এখনো পর্যন্ত আরো ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খাবার টেবিল থেকে পর্যন্ত আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা বাধ্য হলাম নির্বাচন কমিশনে আসতে। খুলনা মহানগরীর গোটা প্রশাসন এবং পুলিশ সবাই এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন। আমরা বির্নাচন কমিশনে বলেছি, আপনারা তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করেন। নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করেন। যাতে করে তারা আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করে। নির্বাচনী পরিবেশ বজায় থাকে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা তাদেরকে (নির্বাচন কমিশন) বলেছি, খুলনার ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে তালা বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের নেতাকর্মী যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদেরকে ছেড়ে দিতে বলেছি। তারা আমাদেরকে বলেছে, তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তারা কোনো রকমের অবৈধ শক্তির প্রয়োগ চান না। এটা অবশ্যই স্বস্তিদায়ক। কিন্তু তার পরে যা ঘটছে তা মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়।

আপনারা খুলনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়েছিলেন কিন্তু কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কশিমন। কিন্তু আওয়ামী লীগ খুলনার রিটার্নিং কর্মকতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে ইসি সেখানে একজন যুগ্ম সচিবকে সেখানে পাঠালেন এসব বিষয়ে কথা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি দল কোনো কিছু বললে কার্যকর হয়। আর বিরোধীদল বললে তা কার্যকর হয় না এটাই বাস্তবতা। এই প্রতিকুল অবস্থা মেনে নিয়েও আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। কারণ জনগণের ওপর আমাদের আস্থা আছে। তারা আমাদেরকে বিজয়ী করবেন।

Developed by: TechLoge

x