পুলিশ কি নির্বাচন কমিশনের হয়ে চলছে প্রশ্ন গয়েশ্বরের

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ খুলনার পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে চলছে কি না এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বৃহস্পতিবার (১০ মে) দুপুরে খুলনা দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে কাজে নিয়োজিত দলীয় নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার, পুলিশের হয়রানি, ক্ষমতাসীন দলের হামলা-মামলা, হুমকি-ধামকি এবং সর্বোপরি ধানের শীষের প্রচারণায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগ এনে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

এ সময় গয়েশ্বর বলেন, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিনিয়ত বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, খবরদারি ও হয়রানি করছে। এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে অসংখ্য অভিযোগ দাখিল করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সরকার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন বন্ধ করে আদালতের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেছে। খুলনা সিটিতেও একই ধরনের প্রক্রিয়া করে রেখেছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ দলীয় কর্মীদের ব্যবহার করে ফলাফল আয়ত্ব করতে পারলে বন্ধের প্রক্রিয়ায় যাবে না তারা। মূলত জনগণ এবং ভোটারদের ওপর আস্থা নেই আওয়ামী লীগের। তারা ভোটকে পাত্তা দেয় না। ভোটাররা ভোট দিক আর না দিক, তাদের জিততেই হবে- এ ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আওয়ামী লীগ খুলনায় নির্বাচন করছে।

গয়েশ্বর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে বলেন, কেসিসি নির্বাচন পরিচালায় রিটার্নিং কর্মকর্তাই হচ্ছেন সর্বোচ্চ। কিন্তু সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন একজন যুগ্ম সচিবকে খুলনায় পাঠিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এটা নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর মধ্যদিয়েই নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব না উল্লেখ করে তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান। গয়েশ্বর আরও বলেন, কেসিসি নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলে স্বীকার করেছেন এইচটি ইমাম। তবে তার বক্তব্য আওয়ামী লীগের জন্য প্রযোজ্য না হলেও বিএনপির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি মনোনীত কেসিসি’র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, খুলনায় এ পর্যন্ত বিএনপির ৯০ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে জেলায় ৫৫ এবং মহানগরীতে ৩৫ জন। গ্রেফতাররা সবাই নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রাজনৈতিক মামলায় তারা সবাই জামিনে ছিলেন। বর্তমানে কারো বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। অথচ পুলিশ তাদের পুরোনো মামলায় গ্রেফতার দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে। কর্মীরা নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারছে না। অথচ শহরে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না।

যতই গ্রেফতার-আরও বাধা আসুক বিএনপি নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না উল্লেখ করে এ প্রার্থী বলেন, নির্বাচনে কোনো কারচুপি হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। এসময় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবি করে ভোটারদের সময়মত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, ভীতিমুক্ত পরিবেশ, নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগে দলীয়করণ না করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিও আহবান জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, মশিউর রহমান, শাজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা উবায়েদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x