জনবিচ্ছিন্ন সরকার বেশি দিন টিকে না : ড. এমাজউদ্দীন

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ ক্ষমতাসীন সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন আখ্যা দিয়ে বরেণ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, যে সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয় সে সরকার বেশি দিন টিকে না। তিনি গতকাল এক সভায় বলেন, দেশের মালিক জনগণ, এদের থেকে যদি কোনো সরকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে সেই সরকারের স্থায়ীত্ব বেশি দিন হয় না। এই সরকারও বেশি দিন টিকবে না, কারণ তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া ও অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসহ সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে’ যুব সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজক সংগঠনের নেতা এম এ বাশারের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা দেন বিএনপির ভাইস চেয়াম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ, লেবার পার্টির একাংশের মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান।

ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, রাজনীতি স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতি স্থিতিশীলতা দীর্ঘতা পায় না। অর্থনীতি উন্নয়নের পূর্বে সরকারকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে ও সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে নিয়েও সন্দিহান। এদিকে আবার মহাসচির অসুস্থ তাহলে বিএনপি সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবে অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন। এই দল তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, দলটি এক অর্থে জনসাধারণের দল, দলের গঠনতন্ত্রে দল পরিচালনার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেয়া আছে। প্রথম থেকে দশম পর্যন্ত কার কী করতে হবে তা বলা আছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যার যা দায়িত্ব তা পালন করে চললেই হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার পেছনে জনগণের যে সমর্থন আছে তাতেই সরকার ভীত বলে মন্তব্য করে এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, জনসাধারণ এরশাদের পতনের সময়ও এক হয়েছিল, এখনো হবে তার জন্য সময় লাগবে। জনগণ সচেতনায় কাজ করতে হবে। লক্ষ্য একটাই- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সরকার নিজেরাই নিজেদের মধ্যে হানাহানি মারামারি করে নিঃশেষ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস সরকার স্থায়ী করতে চায় মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, দুর্নীতির তদন্ত করা নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করতেই কাজ করছে দুদক। আজকে কথা বলার অধিকার নেই, কোর্টে বিচার নেই। এ দেশের জনগণ বেগম জিয়াকে শুধু বিএনপি নেত্রী মনে করে না, তারা মনে করে গণতন্ত্রের নেত্রী, অধিকারের নেত্রী, জনগণ বেগম জিয়ার দিকে চেয়ে আছে বেগম জিয়াকে জনগণ একদিন মুক্ত করে বাংলাদেশে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী বানাবে। আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। তিনি আজ অসুস্থ, তাকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার সুযোগ দেয়া হোক। সরকারের কোনো আনুকূল্য আমরা চাই না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভয় থেকেই দিশাহারা হয়ে একের পর এক মামলা দিচ্ছে দুদক দিয়ে কল্প-কাহিনি সাজাচ্ছে। সরকার আগামী নির্বাচনকে বাঁচামরার হুমকি হিসেবে নিচ্ছে। সরকার যেভাবে হোক ক্ষমতায় থাকতে চায়, এটা করতেই সরকার এক একটা পাপ ঢাকতে নতুন নতুন পাপ করছে।

জিডিপি বাড়ার সরকারি ঘোষণা চাপাবাজি : রিজভী

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার সরকারি ঘোষণাকে চাপাবাজি বলে অভিহিত করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের সীমাহীন লুটপাট আর দুর্নীতিতে আর্থিক খাত ধ্বংস হয়ে গেছে। রাজকোষ কেলেঙ্কারিসহ সমস্ত ব্যাংক লুট করে ফোকলা করে দেয়া হয়েছে। ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেনেও বর্তমানে প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কমতে কমতে এখন সর্ব নিম্ন পর্যায়ে, বিদেশী রেমিটেন্সে ধস নেমেছে।

রিজভী লিখিত বক্তব্যে বলেন, দুঃশাসনের কবলে পড়ে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে, রফতানি আয় কমছে ব্যাপক হারে, উন্নয়নের নামে দেশজুড়ে হরিলুট চলছে। সারাদেশের সড়ক-মহাসড়ক, ব্রিজ-কালভার্টের বেহাল দশা। খুলনা-যশোর মহাসড়কের খানাখন্দ বেহাল দশা সংস্কার দাবিতে আজো ১৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চলছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-উত্তরাঞ্চল সড়কে যানজটে পড়ে মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। গ্লোবাল কম্পেটিটিভ ইনডেক্স বলছে- এশিয়ার মধ্যে নেপালের পরেই সবচেয়ে খারাপ রাস্তা বাংলাদেশে। অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্বিগুণ তিনগুণ অর্থ ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও কয়েক বছরের মাথায় ভয়াবহ দুর্গতি হচ্ছে রাস্তাগুলোর। দ্রুত পুনর্নিমাণ করার প্রয়োজন পড়ছে। অর্থাৎ আবারো নতুন বাজেট, নতুন লেনদেন, নতুন ভাগ-বাটোয়ারা, নতুন চুরির সুযোগ করে দেওয়া হয়। তারপরও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার সরকারি ঘোষণা চাপাবাজি।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাসির, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জিয়াউর রহমান খান, কবির মুরাদ, কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ একটি বিরাট দুর্নীতি ও চুরির মহাবিদ্যালয়, যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের শিক্ষা দেয়া হয়। চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা একমাত্র আওয়ামী লীগই অর্জন করেছে। আর এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা, জালিয়াতি ও জাল নথির মাধ্যমে বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে তাই পরিকল্পিতভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। কিন্তু বেগম জিয়াকে বন্দী রেখে, নেতা-কর্মীদের ওপর জুলুম নির্যাতন করে স্বৈরাচারী সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। আবারো আমরা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই-বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে জাতীয় নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x