এক-এগারো সরকার নিয়ে হঠাৎ কেন প্রধানমন্ত্রীর উল্টো কথা, প্রশ্ন রিজভীর

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ কোথাও কিছু একটা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘কোথাও কিছু না হলে হঠাৎ করে এত বছর পর কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক-এগারো সরকারের কথা আলোচনায় তুলে এনেছেন? তিনি তো তাদের সমর্থনেই সরকার গঠন করেছিলেন। হঠাৎ কেন তাদের নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর মুখে উল্টো কথা?’

বুধবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জের ধরেই রিজভী এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক-এগারোর সরকারের সময় তার গ্রেফতারের পেছনে কারা ছিল, সেই তথ্য জানা গেছে। তাদের হিসাব পরে নেওয়া হবে। এক-এগারো সরকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন আচমকা বক্তব্য রহস্যজনক। তার এ বক্তব্যে মনে হচ্ছে, কোথাও কিছু একটা হচ্ছে। তা না হলে কেন এত বছর পর আবার তাদের কথা আসবে?’

এক-এগারো তথা সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ওই সময় আঁতাত করে চিকিৎসার নামে কারাগার থেকে বিদেশে গিয়েছিলেন। বিদেশ থেকে ফিরে বিমানবন্দরে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে এক-এগারো সরকারের সব কাজের বৈধতা দেবে। সেই কথা তিনি রেখেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমর্থনে সরকার গঠন করে তাদের শুধু দায়মুক্তিই দেননি, পুরস্কৃতও করেছেন। এখন এমন কী হলো যে এত বছর পর তিনি উল্টো কথা বলতে শুরু করলেন?’ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও এবং সবকিছু জানা থাকলেও কেন এখনই তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে না— বিএনপি ও সাধারণ মানুষ সেই প্রশ্ন করছে বলে উল্লেখ করেন রিজভী।

এখন মাইনাস টু নয়, মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়নে সরকার মরিয়া বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তবে সরকারের এই চেষ্টা সফল হবে না জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচন থেকে মাইনাস করতে জাল নথি তৈরির মাধ্যমে অসত্য মামলায় প্রতিহিংসার বিচারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রহসনের ষড়যন্ত্রের নির্বাচনকে প্রতিহত করে দেশনেত্রীর নেতৃত্বে বিএনপি সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে অংশ নেবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।’

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ২৯ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনও সমাবেশের অনুমতি পাইনি।রিজভী জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী ১ এপ্রিল সারাদেশে লিফলেট বিতরণ ও ৩ এপ্রিল প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। একই দাবিতে ৪ এপ্রিল রাজশাহীতে, ৭ এপ্রিল বরিশালে ও ১০ এপ্রিল সিলেটে জনসভা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম পটু, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x