জাফর ইকবালের ওপর হামলায় আটক ব্যক্তিরা আ.লীগের লোকজন: মির্জা ফখরুল

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপিকে দোষারোপ করায় আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক ও বিজ্ঞানীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করা হলো। আর কোনও তদন্ত না করে সরকার থেকে বলে দেওয়া হলো বিএনপি এজন্য দায়ী। অথচ দেখা যাচ্ছে, যাদের আটক করা হয়েছে তারা আওয়ামী লীগের লোকজন।’ মঙ্গলবার (৬ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১১টা থেকে একঘণ্টা তাদের এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৪ মার্চ সকালে রাজধানীর গুলিস্তানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, ‘মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার চক্রান্তে বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই হামলা তাদের চক্রান্ত, যাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বিএনপি।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল মঙ্গলবার মানববন্ধনে প্রশ্ন তোলেন, ‘আওয়ামী লীগ কি শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশকে অকার্যকর ও জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়?’  তিনি বলেন, ‘দেশকে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত করতে ষড়যন্ত্র সাজাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।’

মানববন্ধনে দেশের জনগণ ও সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। তার ভাষ্য, ‘দেশের মানুষ ও সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সবাই মিলে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে চাই আমরা। দেশ ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করবো। আসুন, সবাই মিলে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

মির্জা ফখরুলের মন্তব্য, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। তার কথায়, ‘দেশকে ও দেশের মানুষকে রক্ষার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে আন্দোলন করতে হবে।’

এই রাজনীতিবিদ আরও বলেন,  ‘যারা নির্বাচিত নয়, তাদের অধীনে কোনও নির্বাচন হতে পারে না। তাই পরিষ্কার করে বলছি, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে সব রাজনৈতিক দলের জন্য। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে তারপর নির্বাচন দিলে সেই নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। তখন ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হবে বলে আমরা আশা করছি।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি পেতে যেন দেরি হয় সেজন্য বিভিন্ন চলছাতুরির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ছিল, ‘পুরোপুরি মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে তার যে আইনি অধিকার তা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাকে জামিন পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না।’

একই অভিযোগ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফের। তিনি বলেছেন, ‘সরকার ইচ্ছে করেই খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ করছে। কারণ, তারা নিজেদের অধীনে একদলীয় নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের কথায়, ‘আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন কখনও পূরণ হবে না। তার (খালেদা জিয়া) নেতৃত্বে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো আমরা।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকার থেকে যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে ঠিকই ফিরে আসবেন। আমরা নেত্রীর নির্দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। এর মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুস সালাম, জয়নুল আবদীন ফারুক, ২০ দলীয় জোটের কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় মানববন্ধনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, জিয়া পরিষদের মহাসচিব ড. এমতাজ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহিল মাসুদ, ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x