বিচারক আখতারুজ্জামানের অসামঞ্জস্য রায় এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে ইচ্ছাকৃত মিসকোট তথা বিকৃত করেছেন। এ বিষয়ে লিখতে বা কথা বলতে ঘৃণা লাগে । আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে সহনশীল ও সহিষ্ণু রাজনীতির পক্ষে। গণতন্ত্রকে বিকশিত করতে হলে ১৬/১৭ কোটি মানুষের সম্ভাবনাময় দেশকে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী এবং মানবতা ও সভ্যতার বিকাশে দ্বিদলীয় রাজনীতিকে বিকশিত করতে হবে। আর এ জন্য মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীকে একটা কার্যকরী রোল প্লে করা প্রয়োজন। কিন্তু গত দশকের রাজনীতি ও মানবিক দিকগুলো বিবেচনা করলে সহজেই অনুমান করা যায় বাংলাদেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী তার পচনশীলতার সর্ব নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। তারা পরিবর্তন চায় তবে এর জন্য কোনো ধরণের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়। রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে ফ্রিজের পানি দিয়ে তৈরী চা করে ফুটিয়ে ফেলবে কিন্তু পরক্ষনেই বলবে আমি রাজনীতি নিরপেক্ষ মানুষ। দেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে লাভ নেই। কি অদ্ভুত ভণ্ডামি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেধকে উস্কে দিয়ে নিজেরা ওয়ান এলেভেনের পরিস্থিতির জন্য শকুনের মতো হা করে বসে অথবা ক্ষমতাসীনদের উচ্ছিষ্টভোগী হয়ে থাকতে চায় । তথাকথিত কিছু শিক্ষিত শ্রেণী বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে থেকে প্রতিহিংসার রাজনীতির উচ্ছিষ্ঠ ভোগ করে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে চান। তবে তারা রাজনীতি করতে চান না, সময় সুযোগ হলে দেশ সেবা করতে প্রস্তুত! এই হলো আমাদের কিছু সংখ্যক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মনের আকাঙ্খা ও বাসনা । আর এদেরই একজন হবেন ট্রায়াল কোর্টের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।
বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শক্তির কথা বাদ দিলেও, সীমাবদ্ব ও খুব সীমিত স্বাধীনতা নিয়ে যারা বর্তমানে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে রিপোর্ট করেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা টক শোতে অংশগ্রহণ করেন তাদের রিপোর্ট পর্যালোচনা করলে সহজেই বুঝা যায় জিয়া অরফানেজ মামলাকে দেশের শতভাগ মানুষ একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হিসেবেই দেখছে। এখানে শতভাগ বলার কারণ এই সত্য স্বয়ং শেখ হাসিনাও জানেন। কারণ টাকা আত্মসাৎ হওয়া দূরের কথা, জিয়া অরফানেজের টাকা বেড়ে এখন তিনগুন হয়েছে এবং তা ব্যাংকে সঞ্চিত আছে।
রাজনৈতিক নেতাদেরকে স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের সময়ে রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে যেতে হয়। আগেও এর নজির রয়েছে। পাকিস্তান আমলে দুর্নীতির একটি মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানেরও দুই বছরের সাজা হয়েছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে তা একজন জনপ্রিয় রানীতিবিদের প্রতি ইতিহাসের চরম অমানবিকতা ও বর্বরতম আচরণ। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়ের সাথে এবার দুটি বিষয় যোগ হয়েছে। প্রথমত: একজন
রাজনৈতিক নেতার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের দলীয় প্রধানের চরম প্রতিহিংসা এবং দ্বিতীয়তঃ বিচারক নামক ড. আখতারুজ্জামান তার শিক্ষা ও পেশার সঙ্গে চরম প্রতারণা করেছেন। তিনি বেগম জিয়ার বক্তব্যকে মিসকোট তথা বিকৃত করে একজন জুডিশিয়াল ফ্রড হিসেবে চিহ্নিত হয়ে বিচারিক প্রতারণা করেছেন।
ট্রায়াল আদালত প্রতারণাপূর্ণভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে বলেছেন যে, ‘আসামি বেগম খালেদা জিয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার বিধান মোতাবেক আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য প্রদানের সময় নিজ জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন যে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’ কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে, বেগম খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে নির্বিচারে গুলি করে প্রতিবাদী মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের হত্যা করা হচ্ছে। এগুলো কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়? ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি? শেয়ারবাজার লুট করে লাখো কোটি টাকা তছরুপ হয়ে গেল। নিঃস্ব হলো নিম্ন আয়ের মানুষ। … এই মামলায় আমাকে কেন অভিযুক্ত করা হয়েছে তাও আমার বোধগম্য নয়। আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জনগণের কাছে এটা পরিষ্কার যে, এর প্রতিটি মামলা আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে। সবগুলো মামলাই করা হয়েছে অসত্য, ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে।’ একজন বিচারক যে কিনা বাংলা ভাষা ঠিকমতো বুঝতে পারেনা না, তিনি কি করে আইন বুঝবেন। এ ধরণের বিচারকদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন রাখা কি অবান্তর ? আমরা জানি বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠে, আইনের ধারা উপধারা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হয়। কিন্তু একটি সহজ ও সাবলীল বক্তব্যকে মিসকোট তথা বিকৃত করে রায় প্রদান ইতিহাসে সত্যিই বিরল। তবে প্রবাদ আছে, চোররা যতই স্মার্ট হোক না কেন, কোনো না কোনোভাবে চুরির চিহ্ন রেখে যায়। এদিক দিয়ে সত্যের যে জয় হয় তা আবার প্রমাণিত হলো।
জিয়া অরফানেজর মামলার জবানবন্দিতে বেগম জিয়া এক জায়গায় বলেছিলেন, নির্বিচারে গুলি করে প্রতিবাদী মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে, ছাত্র ও শিক্ষকদের হত্যা করা হচ্ছে। এগুলো কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়? অপব্যবহার আমি করেছি? উনি প্রশ্ন করলেন বিক্ষুব্ধ হয়ে। অথচ এটাকে বিচারক তার রায়ে বলে দিলেন যে, আসামি বেগম খালেদা জিয়া ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারার বিধানমতে আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য দেয়ার সময় নিজ জবানিতে স্বীকার করেছেন যে, তিনি অপরাধ করেছেন। কীভাবে বেগম জিয়ার বক্তব্যকে বিকৃত করে বিচারক রায় দিয়েছেন তা ভাবতেও অবাক লাগে । প্রশ্নবোধক চিহ্ন তুলে দিয়ে উনি দাড়ি দিয়ে দিয়েছেন। কি অদ্ভুত কথা উনি বলে দিলেন উনি দোষী। আইনের ভাষায় যাকে বলে, ‘ইট ইজ অ্যান অ্যাবসার্ড প্রোপোজিশন’। আবার বিচারক তার রায়ের অন্য অংশে বলেছেন বেগম খালেদা জিয়া তার প্রতি আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচারক নামের কিছু মানুষ যদি বেগম জিয়ার মতো মানুষের ব্যাপারে এরকম অস্বচ্ছতা এবং এরকম ম্যালাফাইড করতে পারে- এটার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। দেশের মানুষ কার ওপরে বিশ্বাস রাখবে ? বিষয়টি সহজ কমন সেন্সর বিষয়। সত্যিকার অর্থে সব জ্ঞানের বড় জ্ঞান হলো কান্ড জ্ঞান। চিন্তা করুন, আপনি একজন অ্যাকিউজড। আপনি ৩৪২ স্টেটমেন্ট করেছেন ৪০-৫০ পাতা। আপনি অনেক কিছু বলেছেন সেখানে। সেখানে আপনি কি এসে বলবেন যে, আমি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছি? এটা কোনো সুস্থ মানুষ বলা দূরের কথা চিন্তাও করবে না ? অথচ এটাকে হাইলাইট করা হয়েছে। ফোকাস করে বলা হয়েছে, উনি তো নিজে অ্যাডমিট করে গেছেন। সুতরাং আর ট্রায়ালের কি দরকার ছিল? এটা যে বিচারক বুঝে না, অথবা বুঝেও অন্যদের বোকা বানাতে চায়, তার কাছ থেকে ন্যায় বিচার দূরে থাক, সে তো বিচারকেরই যোগ্য না।

গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এক দল বা জোট ক্ষমতায় থাকলে অন্য দল বা জোট বিরোধী অবস্তানে থাকে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে থাকে যা রাজনীতিরই অংশ। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ একে অন্যের বিরুদ্ধে সমালোচনাসহ জ্বালাময়ী বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে থাকেন। কিন্তু রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে নেতা নেত্রীরা যখন রাজনীতির ভাষা পরিহার করে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন এবং মানবিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম দীনতা প্রকাশ করেন তখন এদের রাজনীতির দেউলিয়াত্বকেই শুধু প্রমাণ করে না বরং দেশের প্রতি সেসব নেতা নেত্রীদের কমিটমেন্ট নিয়ে বিরাট প্রশ্ন দেখা দেয়। আর দেশের মানুষের প্রতি তাদের মনের কোণে লুকায়িত প্রতিশোধের স্পৃহা দেখে সঙ্কিত করে তুলে।
দেশে বর্তমানে আচলাবস্তার একটাই কারণ আর তার সমাধানও খুব জটিল না। তবে এখানে একটা বিরাট ‘কিন্তু’ আছে। ‘কিন্তু’টা হলো যদি আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে যারা এখন দেশের দায়িত্বে আছেন তারা একটু সহনশীল বা সহিষ্ণুতার রাজনীতি করতে চান তার ওপর বর্তমান সমস্যার সমাধান নিহিত। কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের চলমান রাজনীতির ধারাবাহিকতা দেখে মনে হচ্ছে তারা প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্নের রাজনীতিতে অগ্রসর হচ্ছেন। ইতিহাস স্বাক্ষী নিশ্চিন্হের রাজনীতিতে কেউ সফলকাম হননি বরং ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিজেরাই নিশ্চিন্হ হয়ে গেছে। বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে হিটলার, চেঙ্গিস খাঁ’রা যেমন সফল হননি, অখন্ড পাকিস্তানেও আইয়ুব, ইয়াহিয়া, ভুট্টরা সফলকাম হতে পারেননি। হালের জামানার এরশাদ বা ১/১১ এর নায়করাও গণতন্ত্রকে বন্দী শিকলে আটকাতে পারেননি। বর্তমানের শাসকরাও দেশের মানুষদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না।
তবে বর্তমান শাসকগোষ্টি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে দেউলিয়াত্ব দেখাচ্ছেন তাতে জাতি হিসেবে আমাদের অনেক পিছনে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের অনেকে আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসন কার্যক্রম দেখে মনে করছেন যে, দলটি কি রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসর নিতে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত পর্যায়েও এমন আচরণ করা ঠিক না যাতে করে ভুল বুঝাবুঝির অবসানের পর তার অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য মুখ লুকিয়ে হাটতে হয়। আর রাজনীতি তো শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য নয়। ক্ষমতা থেকে চলে যাবার পরও দেশের জনগণের সাথেই তাদের থাকতে হবে। তাহলে দেশের মানুষের প্রতি প্রতিহিংসার বিষবাস্প ছড়িয়ে কার স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে।
দেশের বৃহৎ দল বিএনপিকে দমন করার জন্য ক্ষমতাসীনরা যেসব কৌশল নিয়েছে সেগুলোর কোনোটাই রাজনৈতিকভাবে দূরদর্শী বা বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে না। আওয়ামী লীগের নেতারা কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তারা আর রাজনীতি করবেন না। তা না হলে রাজনীতিতে এসব রো (কাঁচা) কৌশল কেউ আশা করে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে একটি পরিত্যাক্ত কারাগারে প্রথম দিকে ডিভিশন না দিয়ে সরকার প্রধান কি জেদ আর প্রতিহিংসার আগুনে ঘি ঢালছেন? এ ধরণের প্রতিহিংসাকে দেশের সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। এসব করে সরকার বেগম জিয়া এবং বিএনপির প্রতি মানুষের সহানুভূতি বাড়াতে সহায়তা করেছে। এটা চরম অসভ্যতা ও বর্বরোচিত আচরণ। রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে এরকম কাপুরুষিত আচরণ মেনে নেয়া যায় না। দেশের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ৭০ এর অধিক একজন মা’র প্রতি এরকম নিষ্ঠুর আচরণ মানবিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের কতখানি নীচে নামলে করা সম্ভব তা কল্পনারও অতীত।
সরকারের মরণ কামড় দেখে বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, আওয়ামী লীগের ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে তারা রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে লিগাসি রেখে যাচ্ছে তার থেকে জাতি হিসেবে আমাদের মুক্তি পেতে অনেক সময় পেরিয়ে যেতে পারে। দেশের একটি বৃহৎ দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর প্রতি এ আচরণ প্রকারান্তরে দেশের মানুষকে উস্কিয়ে দেয়া হচ্ছে। একটি সভ্য দেশে এ ধরনের আচরণ চলতে পারে না। সারা পৃথিবীর কাছে দেশকে ছোট করে ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে কার স্বার্থে? দেশের জনসাধারণের প্রতি এরকম নির্দয় ও প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে কেউ আশা করে না। এ ধরনের প্রতিহিংসার বিপরীতে যে প্রতিরোধ সৃষ্টি হয় তার থেকে এর নায়কেরা যে রেহাই পাবেন না তাও নিশ্চিত। কিন্তু জাতি হিসেবে আমাদের পেছনে ঠেলে দিয়ে লাভ কার? না কি সমগ্র জাতিকে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে লিপ্ত করে দেশকে অন্যের কোলে ঠেলে দিয়ে প্রতিশোধ নেয়া হচ্ছে? সে প্রশ্ন আজ সকলকে ভাবিয়ে তুলছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের কথিত বিচারের নামে অবিচার আর আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতি এবং আখতারুজ্জামানের মিসকোট এসবই স্বৈরতন্ত্রের বাই প্রডাক্ট। বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্বে আওয়ামী লীগ বিশেষ করে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ভুল চাল দিয়েছেন। বেগম জিয়া এবং বিএনপির জনপ্রিয়তা এখন সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে। গান্ধীবাদী অহিংস আন্দোলন নয় আবার আওয়ামী লীগের মতো লগি বৈঠা আর মানুষ পুড়ানোর নৈরাজ্যবাদী আন্দোলন নয়। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং বেগক খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় বিএনপি আন্দোলন করছে দেশের জনগণের স্বতঃস্পুর্ত সমর্থনে একেবারে বিএনপির মতো করে । দেশপ্রেমিক জনতার আকাঙ্খাকে লালন করে তৃণমূল সঞ্চারী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বিএনপিতে আজ ইস্পাত কঠিন ঐক্য বিরাজমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গণমুখী এবং প্রান্তিক ও তৃণমূলের মানুষদের সাবলম্বী করার রাজনীতি আওয়ামী লীগ চাইলেও হয়তো করতে পারবে না । তবে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ঠিকে থাকতে হলে ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে সহনশীল ও সহিষ্ণু রাজনীতি করতে হবে । তাই মৃত্যু হোক পাশবিকতার বন্দ্ব হোক প্রতিহিংসা আর অমানবিকতার রাজনীতি।

লেখক: গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাবেক সহকারী অধ্যাপক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x