নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল সুবিধা নিতে সরকারই উস্কানি দেবে, পা দেবেন না

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-কর্মসূচি থেকে ‘রাজনৈতিক সুবিধা’ নিতে সরকারই নানাভাবে উস্কানি দেবে, তবে তাতে পা না দেওয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তৃতীয় দফায় আজ শনিবার গণস্বাক্ষর কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের প্রতি এই আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকারি দল উস্কানি দিবে যাতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়, তাঁরা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে। আমরা তাদের সেই সুযোগ দিব না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আমরা আদায় করব।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এরপর থেকেই রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আজ বাংলাদোশের ইতিহাসে সবচে সংকটময় মুহূর্তে উপস্থিত হয়েছি। এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব থাকবে কি না সে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। তাই গণতন্ত্র, নাগরিক ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খালেদা জিয়া। তাঁকে মুক্ত করতে হবে। সবাই নিজের চেতনাকে জাগ্রত করুন, ঘর থেকে বের হয়ে আসুন, সব অন্যায়- অপশক্তির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করুন।’

‘আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনব। আমি দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানব, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করুন, রাজপথে নেমে আসুন, কোনো বিশৃঙ্খলা করবেন না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বর্তমান অবৈধ সরকার মিথ্যা, সাজানো মামলায় তাঁকে অন্যায়ভাবে নির্জন কারাগারে আটক করে রেখেছে। কারাগার থেকে তাঁকে মুক্ত করবার জন্য, দেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র মুক্ত করবার জন্য, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। সেই আন্দোলন আজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। তার অংশ হিসেবে আজকের এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, এ কর্মসূচি চলতে থাকবে।’

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারর হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,  প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আজকের এ গণস্বক্ষর কর্মসূচি চলবে দেশব্যাপী। দলের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্বাক্ষর করতে পারবেন।

এদিকে ঢাকা ছাড়াও সারা দেশের জেলা, মহানগর ও উপজেলায় একসঙ্গে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

বিএনপির এ কর্মসূচি ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে পুলিশের সতর্ক অবস্থান।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা অনির্বাচিত, অনৈক সরকারের পদত্যাগ ও খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি। খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়ে দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রকে কারাগারে পাঠিয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি দেশের সাধারণ মানুষ ও গণতন্ত্রের মুক্তি।’

‘এবার আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করব এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনব’ উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘যার মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং দেশের মানুষ আবারও শান্তিতে থাকতে পারবে।’

দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজেই বলেছেন, বিএনপির অক্ষমতার কারণে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। আমি তাঁকে বলতে চাই। বিএনপি সন্ত্রাস নয়, শান্তিতে বিশ্বাস করে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন। আপনারা আমাদের উস্কানি দিচ্ছেন, যাতে সেই সুযোগে নিজেরা অপকর্ম, নাশকতা করে বিএনপির ওপর দোষ চাপাতে পারেন।’

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x