বিএনপির সামনে দুই চ্যালেঞ্জ : মওদুদ

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘বিএনপির সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ হাজির হয়েছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আন্দোলনের মধ্যে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারকে অপসারণ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত প্রতিবাদী নাগরিক সভায় মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা এবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করব কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সরকারকে অপসারণ করা যায়; নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা যায়। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করব। কিন্তু সরকার চায়, খালেদা জিয়াকে ছাড়া ভোট করতে।

আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপির চেয়ারপারসনকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়ে সরকার তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে—এমন মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘মিথ্যা, সাজানো, ভুয়া মামলায় কারাগারে পাঠিয়ে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা কমছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সরকার তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য জিয়া পরিবারকে হেয় করা।’

মওদুদ আহমদ আরো বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি জাল-জালিয়াতির মামলা। এ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো ফৌজদারি নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা। খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে দুর্বল করতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অথচ এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই। এমনকি যেসব ফাইল সরকার তৈরি করেছে, এর কোথাও খালেদা জিয়ার সই নেই।’

‘খালেদা জিয়া যে কারাগারে রয়েছেন, তা একটি পরিত্যক্ত নির্জন কারাগার। এখানে তাঁকে রাখার উদ্দেশ্য তাঁর মনোবল ভেঙে দেওয়া। কিন্তু সরকারের এ প্রচেষ্টা সফল হবে না। তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা কোনো আইন বা জেলকোডেও নেই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়ে সরকার ভুল করেছে। তাঁকে কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, এ জন্য সরকারই দায়ী থাকবে। তারা কোনোভাবেই এর দায়ভার এড়াতে পারবে না।

সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে নাগরিক সভায় আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুকোমল বডুয়া, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x