‘ভয় নেই, বিএনপির সঙ্গে প্রশাসন-পুলিশ-সশস্ত্র বাহিনী আছে’

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ের প্রতি ইঙ্গিত করে যেকোনো বিপদ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বিএনপির কোনো ভয় নেই। বিএনপির সাথে প্রশাসন আছে, পুলিশ আছে, সশস্ত্রবাহিনী আছে। এ দেশের জনগণ আছে। দেশের বাইরে যারা আছেন, তারাও আছেন। কাজেই বিএনপির কোনো ভয় নেই, ভয়টা আওয়ামী লীগের। দেশের ক্রান্তিকালে সবাইকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় উদ্বোধনী পর্বে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা বক্তৃতায় দেশের বর্তমান সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসন দলীয়করণ, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার প্রশাসনকে দলীয় নেতাকর্মীদের মতো ব্যবহার করছে। তারা মনে করে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যায়। কিন্তু প্রশাসন যদি একটু সুযোগ পায়, তাহলে তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে। কেননা, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। কিন্তু পুলিশকে অন্যায়ভাবে দলীয় কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমি যেখানেই থাকি না কেন, আমি আপনাদের সাথে আছি। আমাকে কোনো ভয়ভীতি দেখিয়ে দমাতে পারেনি, পারবেও না। আমি দলের নেতাকর্মীদের সাথে আছি, দেশের মানুষের সাথে আছি। সাহস করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আসুন, সবাই এই দেশটাকে রক্ষা করি, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনি।

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান : জনসাধারণ ও দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, গুম, খুনের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ জেগে উঠবে, ২০ দল জেগে উঠবে। সব রাজনৈতিক দলকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাই। আজ দেশের এই অবস্থায় জাতীয় ঐক্য অনেক বেশি প্রয়োজন। আমরা কে কী পেলাম, সেটা বড় কথা নয়। যদি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশটাকে রক্ষা করতে পারি, তবে সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

প্রতিহিংসার রাজনীতি নয় : তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ দেশ জাগবে, জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে। সবাই আমরা দেশ গড়ে তুলব। দেশ গড়ার জন্য অনেক লোকের প্রয়োজন হবে। সেখানে আজ যারা জুলুম-অত্যাচার করছে, তাদের সবাইকে মাফ করে দিয়েছি। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না, তাদেরও সাথে নিতে আমরা কোনো দ্বিধা করব না। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। বহু সন্ত্রাস হবে। ষড়যন্ত্র হবে এবং নানা রকমভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করবে, কিন্তু আমরা সে ভয়ে ভীত নই।

ক্ষমা বারবার না : সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমি খোঁজ রেখেছি যারা সব আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, যারা কাজ করেছে, যারা দলের সাথে বেইমানি করেনি, দলে তাদের ভালো ভালো জায়গায় অবস্থান দেয়া হবে। ভবিষ্যতে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়, তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই তারা মূল্যায়ন পাবে। কিন্তু যারা বেইমানি করবে, এক পা এ দিকে, আরেক পা ও দিকে রাখবে, তাদের মূল্যায়ণের কোনো জায়গা নেই। এদের তারাও (সরকার) নেবে না, আমরাও নেবো না। তারপরও আমরা কিন্তু ক্ষমা করেছি। ক্ষমা একবার হয়, বারবার হয় না। তাই আমি বলতে চাই, বিপদ যদি আসে সবাই একসাথে তা মোকাবেলা করব। আর সুদিন এলে একসাথে সুন্দর করে দেশ গড়ব।

ডিজিটাল আইনের সমালোচনা : দেশের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের ক্রান্তিকাল চলছে। আমরা এখানে সভা করতে চাইনি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছিল, কিন্তু কেন সভা করতে দেয়া হলো না? বিএনপি সবচেয়ে বড় দল। তারপরও বলবেন দেশে গণতন্ত্র আছে? আসলে দেশে গণতন্ত্র নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে নতুন কালাকানুন করা হচ্ছে। সাংবাদিকেরা সত্য কথা বলেন। আমাদের নেতারা যারা কথা বলেন, সে কথাগুলো যখন মানুষ শোনে, তখন জনগণের অধিকার হরণ করতে নতুন আইন করা হচ্ছে। আমাদের কথাগুলো আওয়ামী লীগের গায়ে ফোটে।

নৌকা ডুবে গেছে : আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে এত আগে প্রচারের কারণ কী? নৌকা এমন ডোবা ডুবছে যে তোলার জন্য এত আগে ভোট চাইতে হচ্ছে, হাত তুলে ওয়াদা করাতে হচ্ছে। আগামী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের ভূত এখনো আছে, যা বিএনপি এবং সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসেছে। নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

সঠিক রায়ের সুযোগ নেই : খালেদা জিয়া বলেন, সর্বোচ্চ আদালত বলছেন, নিম্ন আদালত সরকারের কবজায়। পত্রিকায় যা দেখছি, তাতে বোঝা যাচ্ছে, সঠিক রায় দেয়ার সুযোগ নেই। সঠিক রায় দিলে কী পরিণতি হয়, তা তো দেখেছেন। তারেক রহমানের রায় দেয়ার পর বিচারককে দেশ ছাড়তে হয়েছে। অপরাধ নেই, সেখানে কীসের বিচার হবে। কিন্তু তারা জোর করে বিচার করতে চায়। এ সময় মিলনায়তনে উপস্থিত নির্বাহী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘আমার নেত্রী আমার মা, বন্দী হতে দেবো না।’ ‘আমার নেত্রী আমার মা, জেলে যেতে দেব না। ‘মা তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে।’

রাজধানীর খিলক্ষেতে পাঁচতারা হোটেল ‘লা মেরিডিয়ানে’র গ্র্যান্ড বলরুমে বেলা ১১টায় দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই বৈঠক হয়। গ্রেফতার ও হয়রানির মধ্যেই সকাল থেকেই নেতৃবৃন্দ সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। প্রথম পর্ব ছিল উদ্বোধন অনুষ্ঠান। দ্বিতীয় পর্ব কর্ম অধিবেশন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে উদ্বোধনী পর্বের শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন। সভায় মরহুম নেতাদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ-শিল্পী-সাহিত্যিকসহ বিশ্বখ্যাত বিশিষ্টজনদের স্মরণ করে আনা শোক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

এরপর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন। জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫০২ জন। পাঁচ শতাধিক সদস্য এবং আমন্ত্রিত নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সভাস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে তিনি ফিরে যান বলে দলের কয়েকজন নেতা জানান। বৈঠকে নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বাইরে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরাও ছিলেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পর ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। এরপর গতকাল তাদের নিয়ে প্রথম সভা করলেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে সভার মূলমঞ্চে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব:) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বসা ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

নির্বাচনে যাওয়ার ৬ শর্ত : একাদশ নির্বাচন সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, আগামী ভোট হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। ভোটকেন্দ্রে জনগণের আসার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ভোটের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোবাইল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে এবং ভোটের জন্য ইভিএম-ডিভিএম ব্যবহার করা যাবে না। এ ব্যাপারে নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মতামত জানতে চাইলে তারা সমস্বরে হ্যাঁ সূচক সমর্থন জানান।

প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সরকারের উদ্দেশে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি বন্ধ করে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করুন। আমরা কখনো প্রতিহিংসা করব না। সরকার প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধে মত্ত হয়ে সবার নামে মামলা দিয়েছে। কিন্তু এভাবে বেশি দিন যাওয়া যায় না। পৃথিবীর বহু দেশে দেখেছি শক্তিশালী নেতারা ছিলেন, আজকে তারা কোথায়? দেশগুলোর নাম না বললেও চলবে। যাদের একচ্ছত্র ক্ষমতা ছিল তাদের অনেকে কিন্তু আজ দুনিয়ায় নেই। কাজেই এটা বুঝতে হবে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ওপরে একজন আছেন, তিনিই বিচার করেন। তিনি বারবার বুঝার সুযোগ দিচ্ছেন। কিন্তু অপকর্ম বেশি হলে এমন সময় দড়ি টান মারবেন সে দিন আর সময় পাবেন না। সুতরাং আসুন, নির্বাচন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনি, দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাই।

সরকার আবারো গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, এখন আবার গুম খুন গ্রেফতার চলছে। এসব নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বৈরাচার এরশাদ এবং মঈন-ফখরুদ্দীন অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা দখল করেছিল। এই সরকারও অস্ত্রের মুখে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করিয়েছে। তারা আবার গণতন্ত্রের কথা বলে। তাহলে তাদের সাথে এই সরকারের পার্থক্য কোথায়? গত চার দিনে চার শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসলে এভাবে সরকার বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে মনের আশা পূরণ করতে চায়।

সরকারের প্রতি দেশের জনগণের সমর্থন নেই জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, আজকে দেশে দ্রব্যমূল্যের অব্যাহত বৃদ্ধিতে গরিব মানুষ উদ্বিগ্ন। তারা বহু কষ্টে আছে। চাল-ডাল-পেঁয়াজ, লবণ সব কিছুর দাম বেশি। চালের কেজি ৭০ টাকা। পেঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা। তাহলে গরিব মানুষের কী হবে? দেশে গরিব মানুষের সংখ্যা বাড়ছে আর সরকার শোনাচ্ছে উন্নয়নের ফিরিস্তি। শেয়ারবাজার, ব্যাংকসহ সর্বত্র দুরবস্থা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই এ অবস্থা হয়।

নেতাকর্মীদের হয়রানির কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন আরো বলেন, সারা দেশে আমাদের সাড়ে ১৮ লাখ নেতাকর্মীর নামে ৭৮ হাজার মামলা হয়েছে। ঘরে থাকা এমনিক বিদেশে থাকা নেতাদের নামেও মামলা দেয়া হচ্ছে। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের আমলে আমার নামে মামলা হয়েছিল চারটি। আর শেখ হাসিনার নামে মামলা হয়েছিল ১৫টি। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসে সব মামলা প্রত্যাহার করেছে। আমার মামলাগুলো সচল রেখেছে।

তিনি বলেন, আজকে দেশে বিনিয়োগ নেই। ক্ষমতাসীনরা বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচার করে সুইস ব্যাংকে জমাচ্ছে। দেশের মানুষ ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারছে না। গুম খুন দিয়ে দেশ সয়লাব হয়ে গেছে। আর তারা দেখাচ্ছে উন্নয়নের ফিরিস্তি! শিক্ষাঙ্গনে চলছে সন্ত্রাস। প্রথম শ্রেণীর প্রশ্নও ফাঁস হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কী কাণ্ড ঘটিয়েছে তারা। তারা হিন্দুদের সম্পদও জোর করে দখল করে। আর মুসলাম দাড়ি টুপি রাখলেই জঙ্গি বানায়! আসলে দেশের মানুষ চায় পরিবর্তন। তারা সেই পরিবর্তন চায় ভোটের মাধ্যমে।

Developed by: TechLoge

x