জিয়া অরফানেজ মামলার রায়কে ঘিরে বিএনপিতে সর্বোচ্চ ‘সতর্কতা’

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এটিকে কেন্দ্র করে কোনোভাবেই তারা সরকারের হাতে ইস্যু তুলে দিতে রাজি নয়। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা করার জন্যই ক্ষমতাসীনরা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায় দিতে যাচ্ছে। আর এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপিকে সংহিস আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়ে মূলত নির্বাচন থেকেই দূরে রাখতে চাইছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেন, ‘সরকার যেভাবে পরিকল্পনা করছে, সে ফাঁদে আমরা পা দেব না। আমরা বারবার বলে আসছি, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিতে যাব না। আমাদের হাই-কমান্ড থেকে এমনটাই নির্দেশনা আছে। কারণ, অন্য কোনো পক্ষ যাতে আমাদের ওপর দিয়ে কোনো ফায়দা লুটতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এটা স্পষ্ট। তারা চাইছে, কিভাবে বিএনপিকে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা যায়। আর এর মাধ্যমে তারা খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। কিন্তু, এত ফন্দি এঁটে কোনো লাভ হবে না, রায় নিয়ে আমাদের অবস্থান হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।’

চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, ‘এটা শুধু খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ওপর আঘাত নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। একটা মিথ্যা মামলাও কিভাবে পরিণতি পেতে চলেছে, তা জনগণ বিস্ময়ের সঙ্গে দেখছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব। ম্যাডামও কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক পরিবেশ সৃষ্টি না করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রত্যেকটি সৈনিক ম্যাডামের এ নির্দেশনা অনুসরণ করবেন।’

দলীয় সূত্র জানা গেছে, রায়ের দিন আদালত এলাকায় ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করবেন। এছাড়া সারাদেশেও নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে দেয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীর ১৩৬ ইউনিট কমিটির নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অস্তিত্ব জানানের চেষ্টা করবে। এরই মধ্যে তারা নিজেদের মত করে প্রস্তুতি সভাও করেছে।

গত মঙ্গলবার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কূটনৈতিকদের বৈঠকের পর দলের সিনিয়র নেতারা ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে অংশ নেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েম্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুইয়া, ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার প্রমুখ।

গত মঙ্গলবার পুলিশভ্যানে হামলার ঘটনার পর রাতের মধ্যেই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ ৭৫ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।

এছাড়া রাতভর তল্লাশি চালানো হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের প্রায় অর্ধশত নেতার বাসায়।

বুধবার দিনভরও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বেশ কয়েকজন নেতার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। রাতে মগবাজার থেকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলালসহ পাঁচজনকে আটক করে বৃহস্পতিবার তাদের রিমান্ডে নিয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল হকের পল্লবীর বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এছাড়া সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি হাজি রেফাত উল্লাহকে রাজধানীল নয়াপল্টন থেকে গ্রেফতার করেছে বলে পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন পল্টন থানার ডিউটি অফিসার এসআই সুলতানা বেগম।

এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা নিয়ে ‘শঙ্কায়’ আছে বিএনপি। বর্তমান ধড়পাকড়ে এমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দল সূত্রে জানা গেছে। রাজধানীর লা মে‌রি‌ডিয়ান হো‌টে‌লে কমিটির সভা ঘিরে অবশ্য পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত পরিচয়পত্র বিতরণ চলবে।

এছাড়া সভা নিয়ে অনিশ্চয়তার আরেক কারণ অনুমোদন। এরআগে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সিটি কনভেনশন (আইসিসিবি) হলের অনুমতি বাতিল করা হয়। তবে লা মে‌রি‌ডিয়ান হো‌টে‌লের অনুমতি বাতিল হলে বিকল্প ভেন্যুর কথা নীতিনির্ধারকরা এখনো ঠিক করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

নির্বাহী কমিটির ৫০২ সদস্যের বাইরেও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া ১০০টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত প্রায় সবার বিরুদ্ধেই কম-বেশি মামলা রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করা বেশ কঠিন। আবার সভা শেষে ফেরার পথে গ্রেফতার হলে আগামী নির্বাচন ঘিরে দলের জন্য তা বেশ ক্ষতির কারণ হবে- এমনটাও বিবেচনায় নিয়ে কর্মপন্থা ঠিক করছে হাই-কমান্ড।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x