খালেদা জিয়ার মামলায় কেন কমে গেছে নেতাদের উপস্থিতি

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আদালতের শুনানিতে দলের নেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে।গ্রেপ্তার আতঙ্কে আর আদালতে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করায় নেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে বলে মনে করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সবাইকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় হাজিরা দিয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় ফেরার পথে হাইকোর্ট এলাকায় বিএনপির কর্মীরা হামলা চালায় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। প্রিজনভ্যানে উঠে পুলিশের হাতে আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার।

এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় রমনা ও শাহবাগ থানায় বিশেষ আইনে ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তিনটি মামলাও হয়েছে। এর পর থেকেই বিএনপির নেতাদের গ্রেপ্তার ও বাসায় বাসায় তল্লাশি শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হামলাকারীরা ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে দাবি করেছেন। গতকাল বুধবার বিএনপির পক্ষ থেকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে, পুলিশের ভ্যান থেকে দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের আমরা চিনতে পারছি না। আমরা আশঙ্কা করছি, তারা অনুপ্রবেশকারী। তাদের সম্পর্কে আমরা কোনো কিছু জানি না। আমরা ধারণা করছি, নাশকতার করার জন্য তারা এটা করেছে।খালেদা জিয়ার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বলেন, ‘আদালতের প্রবেশপথে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবার অনেককে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আইনজীবীদেরও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে আদালতের ভেতরে প্রবেশ কমে গেছে।’

অন্যদিন স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ নেতাসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকলেও আজ শুধু মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উপস্থিত রয়েছেন। প্রতিদিন শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত থাকলেও আজকে এর সংখ্যা কমে গেছে ১০ জনে।

এ বিষয়ে আইনজীবী আবেদ রাজা  বলেন, ‘আমি এক আসামির আইনজীবী পরিচয় দেওয়ার পরও আদালতের প্রবেশপথে আমাকে আটকে দেওয়া হয়েছে। এভাবে সবাইকে গেটে আটকে দেওয়া হচ্ছে। আবার অনেককে আটকও করা হয়েছে।এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার আমিনুর রহমান  বলেন, ‘আসামির নিরাপত্তাজনিত কারণে সবাইকে আদালতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটা তালিকা করা হয়েছে ওই তালিকা অনুযায়ী প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা আল মাহমুদ বলেন, ‘অনেক আইনজীবীকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সব আইনজীবীর পেশাগত অধিকার। কিন্তু প্রবেশে বাধা দিয়ে সেই অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।’

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x