আবারো প্রায় ১০ বছর ধরে দেশে অলিখিত বাকশাল কায়েম করা হয়েছে: মির্জা আব্বাস

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে বাকশাল কায়েম করেছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু সেটি থেকে দেশকে মুক্ত করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আজকে আবারো প্রায় ১০ বছর ধরে দেশে অলিখিত বাকশাল কায়েম করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সভায় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদেরকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এদেশের মানুষের কথা বলার অধিকারকে। এমন অবস্থা সৃষ্টি করেছে তারা মনে হয় আমরা বাসায় বসে মিলাদও পড়তে পারবো না। মিলাদ পড়তে গেলে তারা বলবে জঙ্গিগুলো সব এক সাথে হয়েছে।

আজ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং সহ-দফতর সম্পাদক এস কে সাদির সঞ্চালনায় আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, কৃষক দলের সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন মো. জসিম প্রমুখ।

অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে হবে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মঞ্চে বক্তব্য দিয়ে আমরা কখনো এই হায়েনার সরকার থেকে মুক্তি পাবো না। বদ্ধ ঘরে বসে আমরা কখনো স্বাধীনতার চেহারা দেখতে পাবো না- এ কথা আমাদের পরিষ্কার মনে রাখতে হবে। অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে হবে। আমরা কি নব্বইয়ের আন্দোলন করি নাই, আমরা কি ছিয়ানব্বই সালে আন্দোলন করি নাই? আমরা সবগুলো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, তৎকালীন স্বৈরশাসকদের একটি গুলি ছোঁড়ার জন্য খেসারত দিতে হয়েছে। এখন হাজার হাজার গুলি হচ্ছে খেসারতের বালাই নেই। লাইসেন্স দিয়ে দেয়া হচ্ছে গুলি করে মানুষ মারার জন্য। এভাবে পুনরায় বাকশাল কায়েমের একটা প্রক্রিয়া প্রায় শেষ প্রান্তে। দেশকে সম্পূর্ণ পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আর নেই। এটি থেকে বের হয়ে আসতে হলে আমাদের আন্দোলন করতে হবে।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। যতটুকু আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশে এগুলো সবই জিয়াউর রহমানের অবদান। তার হাত ধরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি রচনা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং তার দলীয় লোকজন বর্তমান সরকারকে একটি রোল মডেল দাবি করছেন। কিন্তু শাসন ব্যবস্থায় অনিয়ম, অর্থনৈতিক লুটপাট, দুর্নীতি ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রোল মডেল হয়ে থাকবেন বলে মনে হয়।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেশ গড়ার রোল মডেল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তিনি দেশকে বাকশাল থেকে গণতন্ত্রে, অন্ধকার থেকে আলোর জগতে নিয়ে এসেছিলেন। সব রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। তাকে দেশ গড়া ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের রোড মডেল বলা যেতে পারে।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x