ফের ওবায়দুল কাদেরের গাড়ি ঘেরাও

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদকের ‘কথিত’ তালিকা নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যোগ্যদের পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিক্ষোভকারীদেরকে শান্ত করেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের  বলেছেন, ‘কিছুই ঘটেনি, নাথিং রং।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবারের (২০ জানুয়ারি) ধারাবাহিকতায় রবিবার (২১ জানুয়ারি) রাতেও ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন ওবায়দুল কাদের। এসময় তিনি বলেন, ‘এটা আমি দেখছি। যে তালিকা গেছে, তাতে সাধারণ সম্পাদকের সাইন (স্বাক্ষর) ছিল না। সব সাবেক ছাত্রনেতাকে মূল্যায়ন করা হবে।’
এর আগে, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। যদিও এই বিক্ষোভের ঘটনাটি অস্বীকার করেন তিনি।
রবিবার সকালে সচিবালয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তখন তারা আনন্দ মিছিল করছিল। আর এটাকে বলা হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল। সেক্রেটারিকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল। এটা অন্যায় এটা কষ্টকর।’
জানা গেছে, রবিবার ওবায়দুল কাদেরের সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের বক্তবের জের ধরে বিকাল থেকেই সাবেক ছাত্রনেতারা আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়কে ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা দফায় দফায় মিছিল করে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে। এসময় কার্যালয়ের ভেতরে ছিলেন আওয়মী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামূল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে সুজিত রায় নন্দী কার্যালয়ে আসার পর পদবঞ্চিত ক্ষুব্ধ ছাত্রনেতারা তাকে ঘিরে হই চই করতে থাকেন। এসময় সুজিত বলেন, ‘দলীয় সাধারণ সম্পাদক তোমাদের পালস বোঝেন। তোমরা যারা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আছো, তাদের সবাইকেই মূল্যায়ন করবেন।’
ওবায়দুল কাদেরের গাড়ি দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই সাবেক ছাত্রনেতারা বিক্ষোভ শুরু করেন তারপরও অনেকক্ষণ সুজিতকে আটকে রাখেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। পরে ভিড় ঠেলে তিনি কার্যালয়ে ঢুকেন।এরপর থেকে সাবেক ছাত্রনেতারা টানা মিছিল করে যাচ্ছিলেন। রাত পৌনে ৮টার দিকে ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডি ৩/এ কার্যালয়ে আসেন। তিনি গাড়ি থেকে নামার পরপরই সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা তাকে ঘিরে আগের দিনের মতেই হই চই শুরু করেন।ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবু আব্বাস এসময় ওবায়দুল কাদেরকে বলেন, ‘নেত্রী আমাদের নাম রাখার জন্য সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের রাখা হয়নি। কী কারণে রাখা হয়নি? আমরা তো জেলও খেটেছি।’ জবাবে যোগ্যতাসম্পন্ন সাবেক ছাত্রনেতা সবাইকে রাখা হবে বলে কাদের জানান।
ওবায়দুল কাদেরকে ঘিরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের এই বাদানুবাদ চলার সময় বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে দিয়ে পুলিশ আসতে থাকে। তবে তারা কাউকে বাধা দেয়নি।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে শনিবারের ঘটনার মতো রবিবারের ঘটনাও অস্বীকার করেন ওবায়দুল কাদের। সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে ঢোকার সময় সাবেক ছাত্রনেতারা ক্ষোভ জানিয়েছেন কিনা— জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কিচ্ছু না। ওরা আমার কাছে কিছু আবেদন জানিয়েছে। নাথিং রং। আমি এখনও পার্টি অফিসেই আছি।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মিথ্যা বলি না। কিছু ঘটলে এত রাত পযন্ত আমি পার্টি অফিসে কী করছি!প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বিভাগীয় উপকমিটির সহসম্পাদক ও সদস্যদের একাধিক তালিকা সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তালিকা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা শুরু হলে আওয়ামী লীগ বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি শুরু করে। ওই তালিকাটিকে চূড়ান্ত নয় বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু দলের সাধারণ সম্পাদক রবিবার সচিবালয়ে উপকমিটির বিষয়টি স্বীকার করলে ক্ষুব্ধ ছাত্রনেতারা রবিবার আবারও বিক্ষোভ করেন।

Developed by: TechLoge

x