বিএনপি মাঠে নামলে আ.লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে: মওদুদ

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ বিএনপির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মাঠে নামলে নির্বাচনি মাঠের চিত্র বদলে যাবে। তখন নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ। এ জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে।শনিবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এসব কথা বলেন।ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়া ক্ষমতায় এসেছেন। তিনি মার্শাল ল জারি করেননি। মার্শাল ল জারি করেছিলেন আওয়ামী লীগের খন্দকার মোশতাক। কিন্তু আজ ইতিহাসকে মিথ্যা করে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।মওদুদ বলেন, ‘একসময় বিচারপতিদের অপসারণের জন্য সংসদ ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রয়োজন হতো। কিন্তু এ সরকার দেখিয়ে দিয়েছে, তার দরকার নেই। কারণ এখন ভয়ভীতি দেখিয়েই বিচারপতিদের অপসারণ করা যায়। কোনও বিচারপতি মুক্তমনে বিচার করতে পারেন না।সাবেক প্রধান বিচারপ্রতি এ বি এম খায়রুল হকের সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘তিনি রাজনীতি করে গেছেন, বিচার করে যাননি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকবে।মওদুদ আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন কমিটি করেছে। তারা জেলায় জেলায় যায়। আর আমরা আদালতে আদালতে ঘুরি। এখন আমাদের নেত্রী বেগম জিয়াকে আদালত থেকে মাত্র একদিনের জন্য জামিন দেয়। তিনি যখন আদালতে যান, তখন প্রতিটি দিনের জন্য আমাদের আলাদা আলাদা জামিন আবেদন করতে হয়। বিচার বিভাগের ওপর এমনভাবে প্রভাব খাটানো হচ্ছে। এমন ব্যবস্থা কোথাও দেখিনি।ডিএনসিসির নির্বাচন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘আদালত রায় দেওয়ার জন্য একদিন সময় রাখলেন। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে গেলেন না। সরকার যদি সিরিয়াস হতো, তাহলে তারা চেম্বার আদালতে যেত। আমাদের জামিন হলে তখন সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যেতে পারে, আর ডিএনসিসি নির্বাচনের জন্য যেতে পারে না। এটা প্রমাণ করে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যোগসাজশেই এটা করেছে। কারণ তারা জানে যে তারা হেরে যাবে।তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা দিন দিন কমছে, বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিএনপি নির্বাচনে যাবে। বিএনপি মাঠে নামলে রাজনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। তখন আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবে। এজন্য আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে।মওদুদ আরও বলেন, ‘সভা-সমাবেশ করতে হলে একসময় শুধু দলের পক্ষ থেকে অবহিত করলেই হতো, এখন অনুমতি নিতে হয়। তবে আবার সময় আসবে, যখন সমাবেশ করার জন্য অনুমতি নেওয়ার সময় থাকবে না।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার। তাকে যখন পাকিস্তানের গুপ্তচর বলা হয় তখন স্বাধীনতাকে খাটো করা হয়। যারা জিয়াকে চেনেন না, তারা মুক্তিযুদ্ধ কী তাও জানেন না।জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আইন করে কেন জাতির পিতা বানাতে হবে? আইন করে কেন স্বাধীনতার ঘোষক বানাতে হবে? যার সম্মান যেখানে, তাকে সেখানেই রাখা উচিত।তিনি বলেন, ‘আজ বললে অনেক কথা বলতে পারি। আপনাদের (আওয়ামী লীগ) থেকে কম জানি না। কিন্তু এখান থেকে বের হলেই ধরে নিয়ে যাবেন। গ্যারান্টি দিন, মামলা করবেন না। মামলা করলেও গুম করবেন না, খুন করবেন না- সেই নিশ্চয়তা দিন।তিনি আরও বলেন, ‘দয়া করে সামনের নির্বাচনকে ২০১৪-এর নির্বাচনের মতো করবেন না। দিন তো প্রায় শেষ, সমঝোতার পথ উন্মুক্ত রাখেন। আপনাদের চামচা নেতাদের কথা বন্ধ রাখেন। বিএনপিকে বাইরে রেখে যদি চিন্তা করেন তাহলে ভুল করবেন।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x