চাইলেই বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না: খালেদা জিয়া

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ বিএনপিকে ছাড়া দেশে কোনও নির্বাচন হবে না মন্তব্য করে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের দল। আমরা নির্বাচন করব। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চাইলেই রাখা যাবে না।’ এসময় আবারও নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান তিনি।মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে‌ ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে খালেদা জিয়া একথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই সরকার ভোটে নির্বাচিত নয়। ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই ওদের অধীনে নির্বাচন হবে না।’ বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংসদের অধীনে কোনও নির্বাচন হবে না।প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম জিয়া বলেন, ‘দেশে বাক স্বাধীনতা নেই, এক ব্যক্তি শাসন চলছে । ২০১৪ সালের নির্বাচনে এরা তো ভোটই পায়নি। এরা পার্লামেন্টের মেম্বার থাকার যোগ্য নয়। পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়েই নির্বাচন দিতে হবে। বিএনপি নির্বাচনী দল আমরা নির্বাচন করবো। বাইরে রাখতে চাইলেই আমাদের রাখা যাবে না। আমরা নির্বাচন করবো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। হাসিনার অধীনে নয়।’

খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার যদি মনে করে নেতাকর্মীদের জেলে নির্বাচন দেবে তাহলে সে নির্বাচন আমরা অংশগ্রহণ করব না। কারণ বিএনপি অনেক বড় রাজনৈতিক দল। বিএনপি ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। ২০১৮ সাল হবে গণতন্ত্রের বছর।তিনি আরো বলেন, ‘আজ দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। তার প্রমাণ আমরা দেখলাম কিছুক্ষণ আগেই। হঠাত করে কেন বলা হলো তারা অনুমতি দেয়নি। সেই সঙ্গে তালা লাগিয়ে দেয়া হলো। এ কেমন গণতন্ত্র ! দেশে কোন উন্নয়ন নেই। আজ দশ টাকা কেজি চালের জায়গায় ৭০ টাকা কেজি চাল।’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এই সরকার অবৈধ। আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। আজকে একব্যক্তির ইচ্ছানুযায়ী দেশ চলছে। একক ইচ্ছায় দেশ চলছে বলেই দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে না, পেছনে যাচ্ছে।অনুমতি দেয়ার পরও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের সমাবেশস্থলে তালা ঝুলানোর কড়া সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘টাকা জমা নেয়ার পর আজ হঠাৎ (ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ) বললো অনুমতি নেই, তালা লাগিয়ে দিল। এর নাম কি গণতন্ত্র? আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবার মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

এসময় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মানুষকে বিশ্বাস করে না। কারণ, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, কারও না কারও উপর ভর দিয়ে এসেছে।’খালেদা জিয়া আরও বলেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণ ওই নির্বাচন মেনে নেবে না।

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। জোড়াতালি দিয়ে তাড়াহুড়ো করে এই সেতু নির্মাণ করলে কেউ উঠতে যাবে না। কারণ, অনেক ঝুঁকি আছে।’দিনভর নানা নাটকীয়তার পর সন্ধ্যা ৫টা ২৫ মিনিটে ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত সমাবেশের ভেন্যু ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের তালা খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে পৌঁছান। ওই সময় মিলনায়তনের গেট তালাবদ্ধ ছিল। ইনস্টিটিউশন চত্বরেই চলছিল কর্মসূচি।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এরপর থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ফলে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্বঘোষিত ছাত্রসমাবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

তবে খালেদা জিয়ার সমাবেশস্থলে রওনার খবরে বিকেলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে জড়ো হন। সেখানে সকাল থেকেই জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ট্রাকে রাখা সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে বক্তব্য দেন তারা।

খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে ইনস্টিটিউশন চত্বর থেকেই মির্জা ফখরুল ঘোষণা দেন, বিএনপি চেয়ারপারসন যতক্ষণ থাকবেন, ততক্ষণ তারা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে অবস্থান করবেন।

এর কিছুক্ষণ পরই বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ মিলনায়তন খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। পরে ৫টা ২৫ মিনিটে মিলনায়তনের তালা খুলে দেয়া হয়।

More News from বাংলাদেশ

More News

Developed by: TechLoge

x