ব্রেক্সিটের আঁচ উপলব্ধির বছর

Posted on by

ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে ২০১৬ সালে ব্রিটেনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৯ সালের আগে কার্যতভাবে ব্রিটেন-ইইউর বিচ্ছেদ ঘটবে না। কিন্তু চলতি বছর থেকেই ব্রেক্সিটের প্রভাব টের পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি বছর যুক্তরাজ্যে পণ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে, কমেছে ব্যবসায় আস্থা, প্রবৃদ্ধিতে নাটকীয় পতন এবং আবাসন বাজারও স্থবির হয়ে পড়েছে। এগুলোর চেয়েও ব্রিটেনের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হচ্ছে— বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির তালিকা থেকে ছিটকে পড়া। বেরেনবার্গ ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ যুক্তরাজ্যবিষয়ক অর্থনীতিবিদ কালোম পিকেরিং বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনীতির ঊর্ধ্বগতিতে যুক্তরাজ্যের গতিও ভালো থাকার কথা ছিল। কিন্তু দেশটি তা পারেনি। যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে।’

ব্রিটেনের ওপর নানা ধরনের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু এসব সমস্যার বীজ হঠাৎ করেই রোপিত হয়েছিল— ২০১৬ সালের জুনে ইইউ ত্যাগে অনুষ্ঠিত গণভোটে পাউন্ডের মানে বড় ধরনের পতন হয়। ইওয়াইয়ের অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা হাওয়ার্ড আর্চার বলেন, ‘ব্রেক্সিট ভোটের পর সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক মাত্রায়ই খরচ করে যাচ্ছিল, কারণ ভোটের পর পরই তেমন কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি।

কিন্তু পাউন্ডের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়ে যায়। বছরের শুরুতে যেখানে ১ দশমিক ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ছিল, নভেম্বরে তা ৩ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছে গেছে। এছাড়া ২০১৭ সালে গড়ে মজুরি মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে; যা প্রকৃত অর্থে ক্রেতাদের আরো দরিদ্র করে তুলেছে। তাদের কাছে কেনাকাটার জন্য তুলনামূলক কম অর্থ থাকছে।

ক্রেতাদের কম কেনাকাটার প্রভাব পড়ছে এখন রিটেইলারদের ওপর। গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় দোকানগুলোয় কেনাকাটা কমেছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পেমেন্ট টেকনোলজি কোম্পানি ভিসা ধারণা করছে, ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ছুটির মৌসুমে ভোক্তা ব্যয় কম হতে যাচ্ছে।

গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলোর জন্যও চলতি বছরটি বেশ দুর্যোগপূর্ণ সময়। ২০১৬ সালের নভেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময় পর্যন্ত ব্রিটেনে গাড়ি নির্মাণের সংখ্যা ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গেছে। সেই সঙ্গে গাড়ি বিক্রি কমেছে ১১ দশমিক ২ শতাংশ। সোসাইটি অব মোটর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডার্সের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘নতুন গাড়ির বাজার আট মাস ধরে নিম্নমুখী থাকা বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়।’

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ব্রেক্সিট ভোটের পর রিটেইল খাত থেকে প্রায় ৬৫ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

ব্রিটেন ও ইইউর মধ্যে ব্রেক্সিট আলোচনা এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এ ধাপে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্কের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করা হবে।        সূত্র: সিএনএন মানি

More News from ভ্রমণ

More News

Developed by: TechLoge

x