রাজুর দেয়াল লিখন পুনঃসংস্কারে ছাত্রলীগের বাধা

Posted on by

ইউএনএন বিডি নিউজঃ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের একটি দেয়ালচিত্র আঁকা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রলীগ ও বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ওই দেয়ালে আগে থেকেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ মঈন হোসেন রাজুর গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র আঁকা রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর এলাকায় বাম দলের নেতাকর্মীরা রাজুর গ্রাফিতির সামনে অবস্থান নেন।মঈন হোসেন রাজুর গ্রাফিতিটি মুছে ওই দেয়ালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি আঁকা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী।এদিকে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ওই দেয়ালে থাকা গ্রাফিতিটি মঈন হোসেন রাজু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।রাজুর এই গ্রাফিতি ১৯৯৮ সালে ওই দেয়ালে আঁকা হয়। এর পর থেকে কেউ এটি মোছেনি।গতকাল বুধবার রাতে রাজু গ্রাফিতির কিছু অংশ ‍মুছে ফেলেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। কিন্তু আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম নেতারা এসে রংমিস্ত্রিদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা মুছে ফেলা অংশে আবার রং করতে শুরু করেন। এই রং করা চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

একপর্যায়ে সেখানে অবস্থান করা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী, সহসম্পাদক আহসান পিয়াল, চারুকলা অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিমনের সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিলানি শুভ, সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাস আলোচনা করে কোনো পক্ষই কিছু আঁকবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়।এ বিষয় জানতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে এই দেয়ালের পুনঃসংস্কার কাজ শুরু করি। তারা অন্য আরো অনেক দেয়াল রয়েছে, সেগুলোতে আঁকতে পারে। কিন্তু ছাত্রলীগের এক নেতা ব্যক্তিগত আক্রোশে এই বিতর্ক তৈরি করছে।তুহিন কান্তি দাস আরো বলেন, রাজুর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে মুখোমুখি করে তারা বঙ্গবন্ধুকে ছোট করছে। তবে পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এখন কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আমরা সেখানে ছবি আঁকব। এ বিষয়ে আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলব।’১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সশস্ত্র সংঘর্ষ বাধলে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মিছিল নিয়ে নেমেছিলেন রাজু। সেই মিছিলে গুলিতে রাজু প্রাণ হারান।

More News from অন্যান্য

Developed by: TechLoge

x